গণমাধ্যমকেও সিএমএসএমই তহবিলের ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২০

ঢাকা, ০৪ মে ২০২০: কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) জন্য সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছে, তা থেকে

FBCCI

গণমাধ্যমকেও ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই।

একইসঙ্গে কোভিড-১৯ সঙ্কটকালে সব ধরনের ঋণের সুদ আদায় দুই মাস বন্ধ রাখার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ এই সংগঠনটি।
সোমবার এক বিবৃতিতে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, এফবিসিসিআই’র প্রস্তাবনার আলোকেই বাংলাদেশ ব্যাংক সব ধরনের ঋণের সুদ আদায় দুই মাস (এপ্রিল ও মে) বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
“এই নির্দেশনার ফলে ব্যবসায়ীমহল বিশেষভাবে উপকৃত হবে। আমরা এ ঘোষণাকে স্বাগত জানাই।”
সংকটের এই সময়ে গণমাধ্যমকে সহায়তার জন্য সরকারের কাছে কী ধরনের সুপারিশ করেছেন- জানতে চাইলে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, “সিএমএসএমই খাতের সহায়তার জন্য সরকার যে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল করেছে সেই তহবিল থেকে গণমাধ্যমের মালিকরাও যাতে ঋণ নিয়ে সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে পারেন, সে প্রস্তাবই করেছি।
“যাদের প্রয়োজন, তারা এই তহবিল থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে বেতন-ভাতা খাতে খরচ করবে। তহবিলের নীতিমালা অনুযায়ী পরিশোধ করবে। আশা করছি, সরকার এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেবেন।”
বিবৃতিতে ফজলে ফাহিম বলেন, কোভিড-১৯ প্রাদূর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূনরুজ্জীবিত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ আবেদন গ্রহণ থেকে বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঋণ বিতরণ করতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংকগুলোকে আরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, সকল প্রকার ঋণের ওপর ০১ এপ্রিল ২০২০ থেকে ৩১ মে ২০২০ পর্যন্ত সময়ে আরোপিত/আরোপযোগ্য সুদ/মুনাফা ‘সুদবিহীন ব্লকড হিসেবে’ স্থানান্তর করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ব্লকড হিসেবে স্থানান্তরিত সুদ/মুনাফা সংশ্লিষ্ট ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার নিকট হতে আদায় করা যাবে না এবং এরূপ সুদ/মুনাফা ব্যাংকের আয়খাতে স্থানান্তর করা যাবে না।
“এই নির্দেশনার ফলে ব্যবসায়ীমহল বিশেষভাবে উপকৃত হবে বলে মনে করে এফবিসিসিআই।”
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে গত ২৬ এপ্রিল এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে যে সব প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল তার পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটি শাখায় একটি স্বতন্ত্র হেল্প ডেস্ক প্রতিষ্ঠা করা হবে। যেখান থেকে উদ্যোক্তারা খুব সহজে আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন। আর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ বিতরণ কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি করার লক্ষ্যে নিজ নিজ প্রধান কার্যালয়ে একটি মনিটরিং টিম গঠন করবে। যারা উদ্যোক্তাদের নাম, ফোন নাম্বার এবং ই-মেইল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহিত করবেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা পেতে জামানতের পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও গ্রুপ গ্যারান্টিসহ, ঋণগ্রহীতা নির্বাচন, ঋণ বিতরণ, তদারকি আদায় কার্যক্রমে এফবিসিসিআই এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সহায়তা নিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।
গত ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখতে এবং শিল্প কারখানায় জনবলকে কাজে বহাল রাখার প্রয়োজনে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা প্রদানের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার এই আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদেরও ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া যাতে সহজ ও সাবলীল হয় সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রস্তাবনা দেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।
তাতে তিনি সকল গণমাধ্যমের জন্য সহজ স্বর্তে ঋণ প্রদানের বিষয়টির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া এফবিসিসিআই এই ঋণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকবে এবং কোন সমস্যা সৃষ্টি হলে সম্ভাব্য সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুররুজ্জীবিত করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে বলেও আশ্বাস দেন এফবিসিসিআই সভাপতি।
বিবৃতিতে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা যাদের জন্য প্রযোজ্য তাদের মধ্যে সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো এবং ব্যাংকারদের সাথে সম্পর্ক অন্যান্যদের তুলনায় অনেক কম।
ফলে এই উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে যদি স্বাভাবিক অবস্থার মানদন্ড নিরীক্ষা, আর্থিক বিবরনী, আইসিআরআরএস পর্যালোচনাপূর্বক উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হয় তাহলে অনেক উদ্যোক্তা যোগ্যতা হারাবে এবং ঋণ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবে।
“অন্যদিকে ঋণের পরিমান নির্ধারণ ও চাহিদার সাথে সমন্বয় না হলে তার ফলাফলও কাঙ্খিত হবে না।”
ফজলে ফাহিম বলেন, আমরা এফবিসিসিঅঅই পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রস্তাব দিয়েছি, সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন- দোকান, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক, ফার্মাসি, রেস্টুরেন্ট, পেট্রোল পাম্প, ট্রাভেল/ট্যুরিজম/রিসোর্ট, পরিবহন, ফ্যাশন হাউস, বিউটি পার্লার, নারী উদ্যোক্তা, সেলুনসহ, ক্ষুদ্র কুটির ও মাঝারি শিল্পের সদস্য প্রতিষ্ঠানের জন্য এই ঋণ সুবিধা জেলা চেম্বারের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে ঋণ আদায়ের সময়েও জেলা চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তা গ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা না করলে তা এফবিসিসিআইকে জানানোর অনুরোধ জানান ফাহিম।
“এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেটিও তদারকি করবে এফবিসিসিআই।”