মার্কস ২০২ নটআউট: ফেসবুক ও আই-ফোনের যুগেও সমান প্রাসঙ্গিক

প্রকাশিত: ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ, মে ৫, ২০২০

শান্তনু দে, ০৫ মে ২০২০ : মার্কস ২০২ নটআউট। ফেসবুক, আই-ফোনের যুগেও সমান প্রাসঙ্গিক।

লন্ডন।
এখনও নজরদারির বাইরে নন তিনি।

Karl Marx

দু’বার ভাঙচুরের পর উত্তর লন্ডনের হাইগেটে মার্কসের সমাধিক্ষেত্রে চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে ভিডিও ক্যামেরা।
হলিউড।
অস্কার নিতে উঠে ‘আমেরিকান ফ্যাক্টরি’ অন্যতম পরিচালক জুলিয়া রেইচার দিলেন কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর অমোঘ আহ্বান, ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’।
সঙ্কট থেকে রেহাই পেতে দু’বছর আগে দ্য ইকনমিস্টের পরামর্শ, মার্কসকে পড়ুন।
‘বিশ্বের শাসকরা: কার্ল মার্কস পড়ুন!’
অষ্টাদশ ব্রুমেয়ারে মার্কসের অমোঘ লাইন ইতিহাস তার পুনরাবৃত্তি ঘটায় বটে, তবে ‘প্রথমবার যা হয় ট্র্যাজেডি, দ্বিতীয়বার তা হয়ে পড়ে প্রহসন।’
সেই বক্তব্য ধরেই উপশিরোনাম, ‘দ্বিতীয়বার, প্রহসন।’
২০১৫, মেরিয়াম ওয়েবস্টার অনলাইন অভিধানে সবচেয়ে সন্ধানী শব্দ ছিল ‘সমাজতন্ত্র’।
২০১৬, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষা, এই সহস্রাব্দের তরুণদের অধিকাংশই প্রত্যাখ্যান করেছে পুঁজিবাদকে। তিনভাগের একভাগ সমাজতন্ত্রের পক্ষে।
ব্রিটিশ গার্ডিয়ানে শিরোনাম, ‘দুই শতাব্দী হয়ে গেল, যে কোনও সময়ের তুলনায় মার্কস এখন নিজেকে মনে করছেন অনেক বেশি বিপ্লবী।’
নিউ ইয়র্কট টাইমসের উপসম্পাদকীয় পাতায় শিরোনাম ‘শুভ জন্মদিন, কার্ল মার্কস। আপনি ছিলেন সঠিক!’
এখন ‘ক্যাপিটাল’ পড়ার হিড়িক।
সংকটের প্রথম বছর, ২০০৯। এই প্রথম দাস ক্যাপিটাল নিয়ে ছবি। করেছেন জার্মান পরিচালক আলেকজান্ডার ক্লুগ। ৫৭০-মিনিট, সাড়ে ন’ ঘন্টার দীর্ঘ ছবি। এবং ‘এক মিনিটও বাড়তি নয়।’ বলেছেন হেলমুট মার্কার, ডাকসাইটে জার্মান দৈনিক ‘তাগেসপিগেল’-এ।
বি বি সি’র ২০১৬’র খবর। অক্সফামের প্রতিবেদনে আর্তনাদ: ধনীশ্রেষ্ঠ ১ শতাংশের সম্পদের পরিমাণ বাকি ৯৯ শতাংশের চেয়ে বেশি।
ভাবা যায় কোন বিশ্বে আমরা বাস করছি?
ভেবেছিলেন মার্কস। বলে গিয়েছিলেন সেই ১৮৪৮ সালে। কমিউনিস্ট ইশ্‌তেহারে, ১ শতাংশ বনাম ৯৯ শতাংশের ব্যবধানের ভবিষদ্বাণী করেছিলেন। পুঁজিবাদের একেবারে গোড়ায়, মার্কস লিখেছেন জনসংখ্যার দশভাগের একভাগ বনাম নয়ভাগের কথা।
যে বছর মার্কসের জন্ম, ব্রিটেন তখন বিশ্বের প্রথম রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা করছে। মার্কসের বয়স যখন সাত, তখন এই বিশ্বে প্রথম চলে রেল। তখনও টেলিফোন আবিষ্কার হয়নি। ব্রিটিশ শিশুদের অর্ধেকই মারা যায় পাঁচ বছরের জন্মদিনের আগে। তারও আগে কমিউনিস্ট ইশ্‌তেহার।
এখন এই আই-ফোনের যুগেও সমান প্রাসঙ্গিক।
এটা ঠিক, মার্কস ফেসবুকের দূরদর্শন করেননি।
কিন্তু তাঁর উপলব্ধিতে ছিল জুকেরবার্গের বিজনেস মডেল।
‘পুঁজিবাদ পৌছছে শিখরে, শেষে বিশ্ব প্রস্তুত মার্কসের জন্য।’ শিরোনাম ব্রিটিশ ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকায়। নিবন্ধের মূলকথা, ‘দার্শনিকের (মার্কসের) পূর্বাভাস ছিল কেন্দ্রীভবন নিয়ে যাবে বিপ্লবের দিকে এবং জন্ম দেবে পুঁজিবাদ-উত্তর সমাজের— বিশ্বায়ন আমাদের নিয়ে চলেছে সেই অভিমুখে।’
মার্কস ২০২। এখনও ক্রিজে।
এখনও নট আউট। এবং ফুল ফর্মে।
এঙ্গেলসের ২০০ বছর।
সেদিন এঙ্গেলসের অমোঘ ভবিষ্যদ্বাণী: ‘যুগে যুগে বেঁচে থাকবে মার্কসের নাম, তেমনি তাঁর কাজও।’