জীবনের ধাপে ধাপে মানুষের খুশি হওয়ার বিষয়বস্তুর পরিবর্তন হয়

প্রকাশিত: ৬:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২০

জীবনের ধাপে ধাপে মানুষের খুশি হওয়ার বিষয়বস্তুর পরিবর্তন হয়

ইশরাত নাহের ইরিনা, ১১ মে ২০২০ : জীবনের ধাপে ধাপে, মানুষের খুশি হওয়ার বিষয়বস্তুর পরিবর্তন হয়।

শনিবার আব্বুকে হসপিটাল থেকে বাইরে নিয়ে বের হয়েছিলাম, কিডনি স্পেশালিষ্টকে দেখানোর জন্য।
আব্বু প্রায় ২৪ দিন পর বের হলো, আলো বাতাস রোদ এর দেখা পেলো…

আমি আব্বু কে নিয়ে খুব সাবধানে আস্তে আস্তে বের হচ্ছিলাম।
কিন্তু আব্বু দেখি ক্যাংগারুর মত লাফাচ্ছে, খুশিতে।
ছোট বাচ্চারা নতুন হাটা শিখলে যেভাবে লাফালাফি বা দৌড়াদৌড়ি করে, ঠিক সেরকম।

আমি তো অনেক ভয় পেয়েছি, কন্ট্রোল করতে পারছিলাম না। একটু রেখে গেলে এসে দেখি হাটা শুরু করে দিয়েছে।

আমিঃতুমি এরকম করতেছো কেনো ছোট বাচ্চাদের মত?

আব্বু: কই, আমি তো স্বাভাবিক।

আমিঃ তুমি স্বাভাবিক? চুপচাপ বসো, ডাক্তার দেখিয়ে চলে যাবো।

আব্বুঃ তুমি জানো কতদিন পর বের হয়েছি?জেল থেকে বের হয়েছি মনে হচ্ছে.

আমিঃ মনে মনে হাসতেছিলাম, আমাকে যে এখনো সন্ধ্যার পর বাইরে থাকলে বা কোথায় একা গেলে ফোন দিয়ে পেইন দাও, এবার বোঝো কেমন লাগে। সকাল এগারোটা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত বাইরে ছিলাম, অনেক গল্প হলো। বুঝলাম সে অনেক খুশি, বাইরে আসতে পেরে এবং এতো কথা বলতে পেরে।
সেখান থেকে বের হয়ে গেলাম,রাস্তায় দেখ সে আকাশ দেখে, মানুষ দেখে, আমার এতো হাসি পাচ্ছিলো।

তারপর হসপিটালে তার রোমে ঢোকার সময় :
আব্বু : আরেকটু থাকিনা বাইরে। আরেকটু ঘুরিয়ে দেখাও না। কতদিন পর বের হলাম,আরেকটু থাকি।
আমি :কি? কি দেখবা তুমি? এই করোনার সময়ে বাইরে ঘুরবা সাহস তো কম না। সরাসরি বেডে যাও, ডানে বায়ে তাকাবানা। আজকে বানরের মত যে লাফ দেখাইছো, শিক্ষা হয়ে গেছে, এর পর ডাক্তার দেখানোর দরকার হলে তোমাকে আর নিয়ে বের হবো না, আমি একা রিপোর্ট নিয়ে বের হবো।
ভাগ্য ভালো কভিড নেগেটিভ আসছে,তা না হলে কি অবস্থা হতো। সুস্থ হলে সারাদিন বাইরে বসে থেকো,কেউ বাধা দিবে না।

গতকাল ভালো কেটেছে।
কিন্তু আগামীকাল সবচেয়ে কঠিন।
কালকে একটি মেডিকেল টিম বসবে মিটিং এ।
ওরা ডিসিশন নিবে।
আর ফাইনাল ডিসিশন আমাকে নিতে হবে।
বড় চাচ্চু অনেক বেশি সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন।
চাচ্চুও বললো “ডাক্তারের ডিসিশন নেয়ার পরেও তুমি যা ভালো মনে করো তাই করবে”।

এমন দিনের জন্য তো আমি প্রস্তুত ছিলাম না।
কখনোই না।