ঘুমাও শান্তিতে জামিল আকতার রতন আমরা জেগে আছি অবিচল (২য় পর্ব)

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০

ঘুমাও শান্তিতে জামিল আকতার রতন আমরা জেগে আছি অবিচল (২য় পর্ব)

নুর আহমদ বকুল, ৩০ মে ২০২০ : আমার বাস গতি নিলো ঢাকার পথে। বাসে বসেই আমার মনে জামিলকে নিয়ে সংগঠনের জালবুনুনি শুরু হলো। জামিলের সাংগঠনিক দক্ষতা, বলারধরণ, সংগঠন নিয়ে স্বপ্ন দেখা, সাহস ধরা আসলেই আমাকে আকৃষ্ট করে। ঢাকায় ফিরে সাংগঠনিক কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়লাম। একদিকে সাধারণ সম্পাদকের নতুন দায়িত্ব অন্যদিকে সামরিক শাসন বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার কাজ। ৮৭ সনে ১০ নভেম্বর জীবন্ত পোষ্টার নুর হোসেনের শহিদী মৃত্যু গণ অভ্যুত্থানমুখী পরিবেশ তৈরী করলেও জাতীয় ঐক্যগড়ে না উঠায় সে যাত্রায় আন্দোলন ভাটার দিকে চলে যায়। এ সময়টাতে ছাত্র আন্দোলনও ব্যাপক ঐক্য নিয়ে দাড়াতে পারছিলো না।
এ অবস্হার পিছনে অন্যতম বাধা ছিল ৮৬ সনে জেনারেল এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য।সামরিক শাসন এবং মৌলবাদ বিরোধী সংগ্রামে ছাত্রমৈত্রী সবসময় ঐক্যবদ্ধ ছাত্র আন্দোলন এর জোর দিতো। বাপ্যারটি শুধু রাজনৈতিক কৌশলের প্রশ্ন নয় আদর্শিক দিকটিই প্রধান ছিলো। অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের পক্ষে, সামরিক শাষনের বিরুদ্ধে, সমাজ বদলে গণতন্ত্রের লড়াইয়ের পক্ষে এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। আর সেই পরীক্ষা গার ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ৭৫ পরবর্তীকালে সামরিক জান্তার বুটের তলায় যখন রাষ্ট্র, সংবিধান চলে গেলো, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াত শিবিরকে পুনরর্জীবিত করা হলো, ৫ম সংশোধনী দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাওয়া সংবিধান বদলে দেওয়া হলো, তখনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি বামপন্হী ছাত্র সংগঠন (জাতীয় ছাত্রদল ২টিঅংশ, জাতীয় ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন) ছাত্র সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি নামে ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম গড়ে দুঃসাহসিক সব প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে লাগলো। রাজশাহী যাবার পথে জেনরেল জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে প্রতিরোধের সম্মুখীন হন। পরে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় ফিরেন। রাজাকার বিরোধী সংগ্রাম প্রথম সূচিত হয় সমন্বয় কমিটির ৫দফা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। ভাইস চ্যানসেলর রাজাকার আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে। রাজাকার বারী অপসারিত হতে বাধ্য হয়েছিলো। সাম্প্রদায়িক খুনি শিবিরের রাজনীতি বন্ধের দাবী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উঠেছিল ছাত্রমৈত্রীর নেতৃত্বে। এরশাদের সামরিক শাসনকে চ্যালেঞ্জ করে সর্বপ্রথম জেলে গেছে ছাত্রমৈত্রীর কর্মী। ১৯৭৭ থেকে ১৯৯০ এই সময়কালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংগে দুই সামরিক জেনারেল, জিয়া এবং এরশাদ বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন। ৫ম সংশোধনী দিয়ে ৭২র সংবিধান সংশোধন করে জিয়া মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকে সামনে এনে সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং তাদের দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আর এরশাদ ৮ম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রটাকে ধর্মীয় রাষ্ট্রে রুপান্তরিত করছেন। এর বিষময় ফল হচ্ছে ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তির উত্থান এবং ধর্মীয় ভাবাদর্শ সমাজে, সংস্কৃতিতে, মননে আধিপত্য বিস্তার করেছে। যার বাড়বাড়ন্ত বতর্মান সময়ে এসে ঠেকেছে। বিশেষ করে ঐসময়কালে প্রগতিপন্থী ছাত্র সংগঠনসমুহের উপর হামলা রগকাটা, হত্যা খুন, ছাত্রাবাস জ্বালিয়ে দেওয়ার মত ঘটনা সৃষ্টি করা হয়েছে। বহুকর্মী খুন ও পঙ্গু হয়েছেন। সামরিকজান্তা এরশাদ তার ক্ষমতাকালীন সময়ে ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তি গুলিকে সংগঠিত করেছিলো তার রাষ্ট্র ধর্মবিল পাশ করানোর জন্য।
(চলবে)