শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে প্রগতিশীলদের কোনো স্থানই ছিল না

প্রকাশিত: ৬:২১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে প্রগতিশীলদের কোনো স্থানই ছিল না

তাহমিনা বেগম, ২২ জুন ২০২০ : শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম ইদ্রিস আলীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করলো শ্রীমঙ্গলের আওয়ামী পরিবার। অবাঞ্ছিত ঘোষিত হওয়ার ২৪ মধ্যে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে এম ইদ্রিস আলীকে অব্যাহতি দিয়ে অারেক ইতিহাস সৃষ্টি করলো শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব। এই জন্য উভয়কেই ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।

এম ইদ্রিস আলী মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজ বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি থেকে শুরু করে গুণীজনদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ অসদাচরণের অজস্র নজির স্থাপন করেছে সে। শিষ্টাচারিতা ও সৌজন্যতাবোধ তার মধ্যে কখনোই ছিল না। অসংখ্য গুণীজনকে অপদস্থ করেছে সে।
গতকাল রবিবার এম ইদ্রিস আলীর এহেন কার্যকলাপের প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব সম্মুখে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছে শ্রীমঙ্গলের আওয়ামী পরিবার। এছাড়াও দাবি ওঠে প্রেসক্লাবের আবেদিত সদস্য ও দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি আবু জাফর সালাউদ্দিন ও দৈনিক করোতোয়ার প্রতিনিধি এমডি এ শুক্কুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও অবাঞ্চিত ঘোষণা করার।
এ বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রেসক্লাব সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
বক্তারা অভিযোগ করে যথার্থই বলেছেন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম ইদ্রিস আলী শ্রীমঙ্গলে প্রগতি বিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীলদের একত্রিত করে রাষ্ট্র বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করছেন। তিনি কৌশলে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হয়ে একক স্বেচ্ছাচারী আদিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করে দেশ ও জনস্বার্থ বিরোধী বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। এম ইদ্রিস আলী জামাত শিবিরের সাথে মিলিত হয়ে গাড়িতে পেট্টল বোমা নিক্ষেপসহ সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপে জড়িত থাকায় ইতিপূর্বে একাধিক মামালায় আসামী। এ ছাড়াও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অবৈধ বালু উত্তোলন, পতিতা ব্যবসা, বন বিভাগ, মদের ডিপো ও অবৈধ ইজিবাইক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির মতো অপকর্ম করেছেন।
এম ইদ্রিস আলী সমবায় সমিতির আড়ালে সুদের ব্যবসা করে সাধারণ মানুষের সহায়সম্বল ও ভিটা-মাটি হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বক্তারা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার ও ধর্মীয় অনুভুতির উপর আঘাত আনার বিষয়ে প্রায়ই উস্কানিমূলক সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগ করেছেন বক্তারা। এছাড়াও প্রেসক্লাবের পদকে ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিকদের কোনঠাসা ও বহিষ্কার করে প্রেসক্লাবের দখলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট হওয়া সত্ত্বেও সৈয়দ অামিরুজ্জামানকে প্রেসক্লাবের সদস্যই করে নি। যদিও সৈয়দ অামিরুজ্জামানের মাধ্যমেই জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকতার হাতেখড়ি হয়েছিল তার।
বক্তারা অভিযোগ করে আরও বলেছেন, ইদ্রিস আলী শহরের এমন কোন খাত নেই যেখান থেকে চাঁদাবাজি করছে না, আর এসব কাজে তিনি শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের পদকে ব্যবহার করছেন। এছাড়াও তার অনুসারী যুগান্তরের সাংবাদিক সালাউদ্দিন ও দৈনিক করোতোয়ার সাংবাদিক শুক্কুরকে প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সখ্যতা বজায় রাখতে দেখা যায়। এদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ীতেও অসংখ্যবার সফর করতে দেখা গেছে। এছাড়াও সাংবাদিক শুক্কুরকে সকাল থেকে রাত অবধি শ্রীমঙ্গল থানায় ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। এ সম্পর্কে শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনাম হোসেন চৌধুরী মামুন তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, যদি আগামীতে এদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশেপাশে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এম ইদ্রিস আলীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয় এবং সাংবাদিকতার মতো মহান পেশা ও ঐতিহ্যবাহী শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিস্কারের জন্য দাবী জানিয়ে সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত এম ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে মিথ্যাচারই করছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী (বুলেট) তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, শ্রীমঙ্গলের সাংবাদিকদের জন্য আজ একটি কালোদিন। ব্যাক্তিগতভাবে আমি চাঁদাবাজ ও চাঁদাবাজী পছন্দ করিনা। সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে, চাঁদাবাজদেরকে এই প্রেসক্লাব কখনোই প্রশ্রয় দেবেনা। শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের একটি অতীত ঐতিহ্য আছে। এখানে দেশবরেণ্য ব্যক্তিরা সাংবাদিকতা করে গেছেন। সেই অতীত ঐতিহ্য, আজ একজন ব্যক্তির জন্য ম্লান হতে পারেনা। আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমরা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি বসে এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো।
শেষ পর্যন্ত, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ধারা ৬ এর ১, ৬ এর ৫, ৪ এর ২ এর খ এবং ৭ এর ঝ লংঘন করায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে এম ইদ্রিস আলীকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন সোহেলকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এম ইদ্রিস আলীকে অব্যাহতি দিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন সোহেলকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান।