পলাশী পূর্বের বাংলার ৫০ বছর

প্রকাশিত: ১২:৫৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২০

পলাশী পূর্বের বাংলার ৫০ বছর

|| বিশ্বেন্দু নন্দ || কলকাতা (ভারত), ২৩ জুন ২০২০ : এবারে নিজের ঢাক নিজে বাজানো আর প্রকাশকের দায় হাল্কা করার জন্য এই লেখা।পলাশী পূর্বের বাংলার ৫০ বছর ।। খড়ি প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে বইটি।

Souvik-এর গত বছরের বইমেলায় পলাশীপূর্বের বাংলার ৫০ বছর বইটা হাতে পাওয়ার প্রতিক্রিয়া। সৌভিক ঘোরতর বামতন্ত্রী তাত্ত্বিক। গত বছর অবদি, যে ক’দিন ও ফেবুকে উপনিবেশ বিরোধী তত্ত্ব ও তথ্য বিষয়ক আলোচনায় সক্রিয় ছিল, নানান আলপটকা বা সুচিন্তিত বিতর্কের পরিসরে নিজেদের সেঁকে নিয়ে চেয়েছি পরস্পরের তূণীর থেকে ছোঁড়া যুক্তিজালের প্রাবল্যে। জেতা-হারা মহাকালের পদপ্রান্তে কিন্তু এক অসামান্য আদানপ্রদানের যে দোরোখা উদাহরণ তৈরি হত সেটা এই বদ্ধ সময়ের পক্ষে অসামান্য খোলা হাওয়া। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। যে সব মানুষের সঙ্গে কথা বলে বেঁচে থাকার উৎসাহ পাই তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে সৌভিক থাকবেনই। গত কয়েক মাস সে অনেকটা সরিয়ে নিয়েছে বিতর্ক থেকে। তবুও আমি কৃতজ্ঞ তাঁর কাছে, বিতর্কগুলি তোলার জন্যে।
এবছর প্রকাশক Somnath বইটার দ্বিতীয় সংস্করণ করতে চেয়েছে। পাঠকদের কাছে কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই, কেননা তাঁরা এই পল্লবগ্রাহীকে ঘাড়ধরে লিখিয়ে নেন। অলমিতি।

এবারে সৌভিকের গত বছরের লেখা…
অবশ্য পাঠ্যের তালিকায় আরেকটি নাম যুক্ত হয়েছিল বইটি প্রকাশিত হচ্ছে জানার পরেই। হাতে পাওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষা ছিল। কাল হাতে এল বই, লেখকের প্রীতি স্বাক্ষর সমেত৷ অতএব দ্বিগুণ ভালো লাগা।
বাংলা ভাষায় এই ধরনের কাজের জন্য Biswendu Nanda র চেয়ে যোগ্যতর ব্যক্তি কজন আছেন জানা নেই। কদিন আগে সুশীল চৌধুরী মশাই চলে গেলেন। বইমেলা চলাকালীন ই। এই কাজের আর এক অসামান্য ইতিহাসবিদ।
আমার পরিচিত সকলকে অনুরোধ করব বিশ্বেন্দু নন্দ র বইটি পড়তে, অনুধাবন করতে।
আমাদের ইউরোপের চোখে দেখা বিশ্ববীক্ষাকে উলটে দেন বিশ্বেন্দু নন্দ। এর আগে তার অসংখ্য লেখা আমাদের শিক্ষিত করেছে, ভাবিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা দেখার এক নতুন চোখ খুলে দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় উৎপাদন ব্যবস্থা ও লুঠেরা পুঁজির যুগল সম্মিলন আর তার বিপ্রতীপে আমাদের বিকেন্দ্রীভূত কৃষি কারিগরী উৎপাদন ব্যবস্থা সংক্রান্ত ওনার সন্দর্ভ আমাদের নিজেদের দেশকাল ও ইতিহাস থেকে উঠে আসা এক দর্শন, যার সাথে সকলের পরিচয় খুব জরুরী।
খড়ি প্রকাশনী বইটি নির্মাণ করেছেন। নতুন প্রকাশনা। সোমনাথ এর কাজ সত্যিই চমৎকার হয়েছে। ১৯/১ রাধানাথ মল্লিক লেন লেন এর চারতলায় প্রকাশনার অফিস। যোগাযোগ নম্বর ৯০৩৮৮০৪৫৬৭। বইমেলার পরে কোথায় পাবেন বইটি ওরা জানাতে পারবেন।
বিশ্বেন্দু নন্দের লেখা আগে পড়েছি। কাল কাজটি নেড়েচেড়ে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। বইটি পড়ে পাঠ প্রতিক্রিয়া লেখার ইচ্ছে রইলো।
কয়েকটি বিতর্ক নিয়ে এর মধ্যেই লেখকের সাথে কিছু বিনিময় হল কাল মেলার মাঠে। যেমন আমরা যারা ইরফান হাবিব এর বই পড়া দূরের ছাত্র তাদের সঙ্গে এক তর্কের পরিসর গড়ে তোলেন বিশ্বেন্দু দা। ইরফান হাবিব অষ্টাদশ শতকের মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের সাথে কৃষি অর্থনীতির ভাঙনকে যুক্ত করেন। আর বিশ্বেন্দু নন্দ এই তত্ত্বায়নকে দেখেন ইউরোপের সংগঠিত পুঁজির স্বাভাবিক পরিসর তৈরির প্রেক্ষাপট রচনা হিসেবে।
এরকম অনেক তর্কের জায়গা রয়ে গেছে বইটিতে। সুবোধ মুখোপাধ্যায়ের আর্থিক ইতিহাসের সাথে, পরমেশ আচার্যের দেশজ শিক্ষাধারার আলোচনার সাথে এই বইতে তর্ক আছে। তর্কের পেছনে তথ্যের সমাবেশ করেন বিশ্বেন্দু নন্দ। আর নিয়ে আসেন পার্থসারথী প্রসন্নন প্রমুখের দ্বারা স্নাত কিন্তু নিজস্ব তত্ত্বভাবনাকে।
অষ্টাদশ শতকের বাংলার ইতিহাস এবং উপনিবেশের সঙ্গে প্রাক উপনিবেশের নানা তুলনা নিয়ে যারা আগ্রহী, একমত হন বা না হন – আপনাকে পড়তে হবে এই বই। এর সাথে দ্বিরালাপে রত হতে হবে।