ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের শতবর্ষ

প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের শতবর্ষ

|| রাহমান চৌধুরী || ০২ জুলাই ২০২০ : ঢাকা ‌বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের শতবর্ষ পা‌লিত হ‌চ্ছে এমন সময় যখন, বিশ্ব‌বিদ্যালয়‌টি তার যা কিছু গর্ব করার ছিল, ঠিক তার বিপরীত প্রা‌ন্তে দাঁড়ি‌য়ে অা‌ছে। সংগ্রা‌মের যে বিরাট ই‌তিহাস র‌য়ে‌ছে, বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের বৃহৎ অংশ ঠিক তার উ‌ল্টো অবস্থা‌নে নতজানু ভূ‌মিকায়। শাসক‌দের অন্যা‌য়ের বিরু‌দ্ধে একদা প্র‌তিবা‌দে মুখ‌রিত বিশ্ব‌বিদ্যালয় বর্তমা‌নে বহু বছর ধ‌রে শাসক‌দের নিষ্ঠুর দম‌নের স‌ঙ্গে যুক্ত। প্র‌তিবা‌দের সংস্কৃ‌তি ছে‌ড়ে চাটুকা‌রিতার সংস্কৃ‌তি প্রবাহমান বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের প্র‌তি‌টি প্রাঙ্গ‌ণে। ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের য‌দি সেই অা‌গের গৌরব, য‌দি সংগ্রা‌মের ঐ‌তিহ্য থাক‌তো; ক‌রোনা সংক্রম‌ণের এই ভয়াবহ দুর্যোগকালে স্বাস্থ্যখা‌তের এরকম দুর্নী‌তি সম্ভব ছিল না। সম্ভব হ‌তো না চি‌কিৎসার ক্ষে‌ত্রে নানারকম সুপ‌রিক‌ল্পিত অব্যবস্থাপনা‌কে প্রশ্রয় দেয়া। ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের নেতৃ‌ত্বে সারা‌দে‌শের ছাত্রসমাজ এর বিরু‌দ্ধে রু‌খে দাঁড়া‌তো। ক‌রোনা সংক্রমণ মোকা‌বেলায় নানারকম সামা‌জিক উ‌দ্যোগ গ্রহণ কর‌তো ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যালয় সহ সকল বিশ্ব‌বিদ্যালয় মহা‌বিদ্যাল‌য়ের শিক্ষার্থীরা। ‌কিন্তু ভয়াবহ এ মহামারী চলাকা‌লে ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যালয় সবরকমভা‌বে নীরব, সাধারণ জনগণ থে‌কে বি‌চ্ছিন্ন। বহু মানুষ তাই অাজ ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যালয় নি‌য়ে হতাশাগ্রস্ত। হতাশাগ্রস্ত অা‌রো নানা কার‌ণে।

ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যালয় যে সম্পূর্ণ স্থবির হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে বলাটা অন্যায় হ‌বে। সকল মানু‌ষের ভিত‌রের তেজ একস‌ঙ্গে নি‌ভে যে‌তে পা‌রে না। সকল কিছুর বিরু‌দ্ধে, সব ন্যায় অন্যা‌য়ের অার লো‌ভের বিরু‌দ্ধে সর্বদা একটা বিরুদ্ধ স্রোত ব‌য়ে চ‌লে। ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে ক্ষীণতরভা‌বে হ‌লেও সেরকম শুভলক্ষণ প‌রিল‌ক্ষিত। সংগ্রামী কিছু শিক্ষক অার শিক্ষার্থী মাথা উঁচু ক‌রে বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের গৌরব রক্ষায় তাঁদের প্র‌চেষ্টা চা‌লি‌য়ে যা‌চ্ছে। হয়‌তো এখন তাঁরা পরা‌জিত শ‌ক্তি, ভ‌বিষ্যত তাঁদের দি‌কে তা‌কি‌য়ে। ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের শতব‌র্ষের এ ক্ষ‌ণে মহাভার‌তের ক‌র্ণের ম‌তো বল‌তে চাই, “অা‌মি রব পরা‌জি‌তের অার হতা‌শের দ‌লে।” ফ‌লে এ উৎস‌বে যোগদান ‘অামায় না‌হি সা‌জে’। য‌দিও অা‌মি এ বিশ্ব‌বিদ্যালয় থে‌কে ব্য‌ক্তিগতভা‌বে গ্রহণ ক‌রে‌ছি অ‌নেক। সাধার‌ণের মানু‌ষের শ্র‌মে, অাস্থায় অার তা‌দের অ‌র্থে সেরকম বহু কিছুর প্রা‌প্তি ঘ‌টে‌ছে অামার জীব‌নে, যা অ‌নে‌কের জীব‌নে ঘ‌টে‌নি। বাংলা‌দে‌শের সেসব সৌভাগ্যবান মানুষ‌দের ম‌ধ্যে অা‌মি একজন, বল‌তে গে‌লে প্রায় বিনাখর‌চে ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে পড়াশুনা বা গ‌বেষণা করার অ‌ধিকার পে‌য়ে‌ছিলাম।‌ বহু সংগ্রা‌মের স‌ঙ্গে যুক্ত থাকার সু‌যোগ হ‌য়ে‌ছে, বহু সংগ্রা‌মী ঐ‌তি‌হ্যের সংস্প‌র্শে এ‌সে‌ছি। বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের পাঠ্যসূচীর নানা ত্রু‌টির প‌রেও বহু ‌কিছু শিখবার এবং জানবার পথ খোলা ছিল অামার জন্য। ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের প্র‌তি সে কৃতজ্ঞতা থাক অামার অন্ত‌রের অন্তস্থ‌লে। কারণ সে অর্থটা এ‌সে‌ছে এ‌দে‌শের জনগ‌ণের প‌কেট থে‌কে। প্র‌তি‌দিন সে ঋণ অা‌মি যেন ম‌নেপ্রা‌ণে স্বীকার ক‌রি।