শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার হলেন এম ইদ্রিস আলী

প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার হলেন এম ইদ্রিস আলী

শেখ জুয়েল রানা || শ্রীমঙ্গল, ০৮ জুলাই ২০২০ : শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম ইদ্রিস আলীকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়াও চিরতরে বাতিল করা হয়েছে তার প্রাথমিক সদস্যপদ৷

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়৷ গণমাধ্যমকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী বুলেট ও সহ-সভাপতি ইসমাইল মাহমুদ৷

আজীবন বহিষ্কৃত ইদ্রিছ আলী দৈনিক মানজমিন পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক।

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী বুলেট জানান, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৬(১), ৬(৫), ৪(২খ) ধারা ৭(ঝ) লঙ্ঘন করার দায়ে এম ইদ্রিস আলীকে গত ২১ জুন সাময়িক অব্যাহতি দেয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি। পাশাপাশি ‘কেন স্থায়ী বহিস্কার করা হবে না’- তা জানতে চেয়ে ইদ্রিস আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সেই কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ার প্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কার্যনিবার্হী কমিটির সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে আসা চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অভিযোগগুলোর ব্যাপারে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন এম ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি, গরীব মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে সুদ ব্যবসায় মাধ্যমে কালোটাকা অর্জন, প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগ করে মামলাবাজি, প্রেসক্লাবে গোপন সভা ও সরকার বিরোধি কর্মকান্ডে ব্যবহার, সাম্প্রদায়িক উস্কানির ইন্ধন, অপপ্রচার, প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরে হামলাকারী বিএনপি নেতার প্রদেয় পিপিই বিতরণ ইত্যাদি রাষ্ট্র ও সমাজবিরোধি কর্মকান্ডের অভিযোগ এনে শ্রীমঙ্গলের সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা ‘আওয়ামী পরিবারে’র ব্যানারে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সামনে ২ ঘন্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচী পালন করে এবং সাংবাদিক হিসেবে ইদ্রিস আলীকে শ্রীমঙ্গলে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে৷ পাশাপাশি, আন্দোলনকারীরা দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি সাবেক ছাত্রদল নেতা সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন ও করোতোয়ার প্রতিনিধি আব্দুস শুকুরকেও তার অপকর্মের সহযোগী হিসেবে আখ্যায়িত করে লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্য প্রদান করেন।