পঙ্কজ ভট্টাচার্য : বহুবর্ণিল জীবনসারথি এক মানবতাবাদী রাজনীতিক

প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২০

পঙ্কজ ভট্টাচার্য : বহুবর্ণিল জীবনসারথি এক মানবতাবাদী রাজনীতিক

|| সাইদুর রহমান || ঢাকা, ০৮ অাগস্ট ২০২০ : এই বাংলার জল-মাটি-মানুষকে যিনি হৃদয়ের উষ্ণতা ও গভীর ভালোবাসার জীয়নকাঠির ছোঁয়ায় আপন করে নিয়েছেন, ব্যক্তিজীবনের সকল চাওয়া-পাওয়া তুচ্ছ ভেবে দেশব্রতীতে খুঁজে পেয়েছেন জীবনের সকল অর্থ, তিনি পঙ্কজ ভট্টাচার্য। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’ এই মর্মবাণীতেই তিনি বিশ্বাসী ও আস্থাবান। সে কারণেই পঙ্কজ ভট্টাচার্য নিজেকে আদিগন্ত বিস্তৃত আকাশের মতো উদার আর অবারিত করতে পেরেছেন সমাজ-সভ্যতা, দেশ ও মানুষের জন্য।

সর্বতোভাবে স্বচ্ছ এই মানুষটি জন্মগ্রহণ করেছেন ১৯৩৯ সালের ৬ আগস্ট চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।এই সময়কাল ও স্থানটি বিশেষভাবে ঘটনাবহুল। এ বছরেই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হয়, যা গোটা দুনিয়ার রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনকে আন্দোলিত এবং প্রভাবিত করে। আবার বিশ শতকের গোড়া থেকে স্বাধীনতার দাবিতে যে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গোটা ভারতজুড়ে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে তাতে চট্টগ্রামও জ্বলে ওঠে- মাস্টার দা সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, লোকনাথ বল, গণেশ ঘোষ, অম্বিকা চক্রবর্তী প্রমুখ মৃত্যুঞ্জয়ী বিপ্লবীদের জীবনমশালে। উল্লেখ্য, অগ্নিযুগের বিপ্লবীপুরুষ সূর্যসেনও জন্মগ্রহণ করেছেন চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে। আবার এই গ্রামেই জন্মেছেন মহাকবি নবীন সেন। তাই বলা চলে, পঙ্কজ ভট্টাচার্য রত্মগর্ভা ভূমিপুত্র। জন্মভূমির এই স্বাদেশিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পঙ্কজ ভট্টাচার্যের শৈশব-ছোঁয়া কৈশোরে, কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে এবং পরিণত বয়সেও জীবনের গতিপথ নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে বিপুলভাবে।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য সুশিক্ষিত, প্রগতিশীল বর্ণাঢ্য পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা প্রফুল্ল কুমার ভট্টাচার্য ছিলেন উচ্চশিক্ষিত সংস্কারমনা স্কুলশিক্ষক, আর মা মনিকুন্তলা দেবী ছিলেন তৎকালীন সামাজিক অচলায়তন ভাঙা মহিয়ষী নারী। তাঁরা ছিলেন স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি ভীষণভাবে অনুরক্ত এবং বিপ্লবীদের নিরাপদ আশ্রয়। পিতামহ রমেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন চট্টগ্রামের একজন প্রসিদ্ধ আইনজীবী ও সমাজ সংস্কারক। সুতরাং পারিবারিক পরিমণ্ডলেই পঙ্কজ ভট্টাচার্য প্রগতিশীলতার শপথ নিয়েছেন। জীবনের উদ্দামতার স্রোত তৈরি হয়েছে আপন ঘর থেকেই।

পঙ্কজ ভট্টাচার্যের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের শুরু চট্টগ্রামের কলিজিয়েট স্কুলে। এরপর পড়েছেন মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল এবং চট্টগ্রাম কলেজে। জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীদের ভাবশিষ্য পঙ্কজ ভট্টাচার্য পাকিস্তানী শাসকদের অন্যায্য কার্যক্রমের প্রতিবাদ করতে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন স্কুলজীবনেই। চট্টগ্রামের ছাত্র-যুব আন্দোলনে তিনি হয়ে ওঠেন তেজোদীপ্ত মেধাবী ছাত্রনেতা। এরপর ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তখন আইয়ূব খানের সামরিক শাসন এবং বৈরী-বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে বিস্ফোরন্মুখ। প্রতিদিন ঝাঁঝাঁলো মিছিলে উত্তপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সেই উত্তাপে পঙ্কজ ভট্টাচার্য জড়িয়ে পড়েন কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতির সাথে। ১৯৬২ সালে শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিনি। নেতৃত্বের গুণে তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৪ সালে ছাত্র ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পঙ্কজ ভট্টাচার্য সামরিক শাসনবিরোধী সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠনে বিচক্ষণ নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ১৯৬৭ সালে স্বৈরশাসক আইয়ূব খান তাঁর বিরুদ্ধে ‘স্বাধীন বাংলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দিয়ে তাঁকে কারারুদ্ধ করে। তিনি ১৯৬৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শীতা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতার কারণে ১৯৭০ সালে পার্টি তাঁকে কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক নির্বাচিত করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অনিবার্য মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি সংগঠক হিসেবে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের সমন্বয়ে বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠন করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বাংলার স্বাধীনতার স্বর্ণদ্বীপে বিজয়ের পতাকা উত্তোলনে পঙ্কজ ভট্টাচার্যের অবদান অসাধারণ। ১৯৭২ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে তিনি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ থেকে ’৯০ সাল পর্যন্ত তিনি সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালে তিন জোটের রূপরেখা তৈরিতে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এরপর ১৯৯৩ সালে দেশের রাজনীতি এবং শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন ঘটিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরাম গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। কিন্তু কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হয়ে গণফোরাম থেকে বেরিয়ে প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক শক্তির প্লাটফর্ম হিসেবে ২০১০ সালে গণঐক্য গঠন করেন। অতপর গণঐক্য বিলুপ্ত করে ২০১৩ সালে ঐক্য ন্যাপ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বর্তমানে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য মনে-প্রাণে বিশুদ্ধ রাজনীতিক।তাঁর রাজনীতি-অসাম্প্রদায়িকতার, মানবতার এবং সমাজ বদলের। তিনি বিশ্বাস করেন সমাজ বিপ্লবের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রের চরিত্রে গুণগত পরিবর্তন সম্ভব। সেই সম্ভাবনার স্বপ্নেই রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে শুদ্ধ করার প্রয়াসে তিনি ১৯৯৮ সালে ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’ নামক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় নিয়ামক ভূমিকা পালন করেন। বাঙালির শাশ্বত অসাম্প্রদায়িক চেতনা তাঁর রাজনীতির প্রাণশক্তি। সে কারণেই সাম্প্রদায়িকতার বিষাক্ত ঝড়ে আপন জন্মমাটি হতে উপড়ে পড়া যেকোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিপন্ন মানুষের পাশে তিনি সাহসী সহকর্মী হিসেবে দাঁড়াবার চেষ্টা করে আসছেন বহুকাল ধরে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি সক্রিয় সবসময়। অন্তরালোকিত পঙ্কজ ভট্টাচার্যের যাত্রা শেকড়মুখি। সবসময় তিনি জাতীয়তাবাদী চেতনায় সম্ভাবনা দেখেন, দেখেন আলোর দিশা। মানবমুক্তির পথরেখা নির্মাণের কারিগর হিসেবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে আছেন তিনি প্রানান্তকর প্রচেষ্টায়, আছেন সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। তিনি প্রান্তজনের রাজনীতিক, মানবতার রাজনীতিক।

মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে তিনি যেমন সক্রিয়, তেমনি পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষার বিষয়েও আন্তরিক। পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের যৌক্তিক কর্মসূচিতে তিনি নিজ তাগিদেই হাজির হন। কথা বলেন সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য একজন বিদগ্ধ পাঠক। তাঁর পাঠবিচরণের ক্ষেত্র যথেষ্ট বিস্তৃত। লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ততা ছাত্রজীবন থেকেই। পত্র-পত্রিকায় লেখেন, তবে অনিয়মিত। তাঁর বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিক হয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়কে আলেখ্য করে। যেখানে গভীরাশ্রয়ী সমাজ ভাবনা ও জীবন দর্শনের সন্ধান আছে। জাতীয় যেকোনো সমস্যা-সংকটে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন গভীর অন্তর্দৃষ্টির আলোকে- বর্তমান ও ভবিষ্যতকে সামনে রেখে।

তিনি অসাধারণ বক্তা। তাঁর দরাজ কন্ঠে ছন্দ-পতনহীন বক্তব্যে আগুন ঝরে। বিচলিত হয় অপরাধীরা, ভয় পায় নষ্ট মানুষেরা। তাঁর বক্তব্য সাধারণ মানুষকে মোহবিষ্ট করে, করে উদ্দীপ্ত ও সাহসী। পঙ্কজ ভট্টাচার্যের বক্তৃতার সময় শ্রোতাদের মধ্যে থাকে পিনপতন নীরবতা।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য ক্রীড়ামোদি মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি ছিল। তিনি ভোজন প্রিয় ও রন্ধনপটুও বটে। তিনি রাশভারী মেজাজের, তবে পরিবেশ-পরিস্থিতির সুযোগে প্রাণবন্ত উচ্ছ্বল হয়ে উঠেন। হয়ে পড়েন মার্জিত ও রুচিবোধসম্পন্ন আড্ডাবাজ এক তরুণ যুবক। নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর সম্পর্ক খুব সহজ-সাবলীল। পঙ্কজ ভট্টাচার্যের অহংবোধহীন এই সম্মোহনী আচরণ মানুষকে বশীভূত করে।

রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি তাঁর সংবেদনশীল দায়িত্ববোধ তাঁকে অন্যমাত্রা দিয়েছে। যেসব সহকর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের সংসারের খোঁজ-খবর রাখা, সন্তানদের পড়ালেখা, তাদের কর্মজীবন এবং বিয়ে-শাদির মতো বিষয়কে তিনি নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন। পঙ্কজ ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক সহকর্মী এবং সতীর্থের জগৎ বিশাল ও বিস্তীর্ণ। এই জগতে তিনি আপন আলোয় জ্বলে থাকা নক্ষত্র। সুস্থধারার রাজনীতি চর্চার ঋদ্ধপুরুষ।

রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে পঙ্কজ ভট্টাচার্য কোনো দিন মেকি অভিনয় করেননি, কেনা-বেচার হাটে উঠেননি কোনো দিন। উচ্চারণে-অনুচ্চারণে যেভাবেই হোক তিনি সম্মতি দিলে মন্ত্রী হতে পারতেন বহু আগে বহুবার। কিন্তু তিনি সে পথে হাঁটেননি কখনো। তাঁর সমকালীন রাজনীতিকদের অনেকেই রাজনীতি করে বিত্তশালী হয়েছেন, হয়েছেন প্রত্যক্ষ কিংবা নেপথ্য ব্যবসায়ী। কিন্তু পঙ্কজ ভট্টাচার্য কোনোটিই হননি। তবে তিনি হয়েছেন বাংলার মৃত্তিকালগ্ন মানুষের কাছে এক মানবঅন্তপ্রাণ রাজনীতিকের মুখচ্ছবি। পঙ্কজ ভট্টাচার্য দল ভেঙেছেন, দল গড়েছেন- বদলেছেনও, তবে আদর্শ বদলাননি। যৌবনের প্রারম্ভে মাতৃভূমিকে সকল মানুষের বাসযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ এক প্রান্তরে পরিণত করার যে ব্রত নিয়ে তিনি স্বপ্নচারী হয়েছিলেন, সেই স্বপ্নসাধনাকে ঘিরেই অদ্যাবধি সংগ্রামশীল আছেন নানা কর্মধারায়। দেশ-মাতৃভূমির সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে এই বয়সেও তিনি অসুস্থ শরীরে, ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোয় পথ চিনে ছুঁটে বেড়ান দিন-রাত বিরামহীনভাবে- বাংলাদেশের শহর-বন্দর-গ্রামে। কথা বলেন সাধারণ মানুষের সাথে।

দেশে রাজনৈতিক দুর্যোগ চলছে। মূল্যবোধহীনতার অন্ধকার পথে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবন আজ বিপর্যস্ত। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে মুক্তির পথ দেখানো মানুষের সংখ্যা খুব দ্রুত কমছে, ফুরিয়ে আসছে। এই কৃষ্ণসময়ে পঙ্কজ ভট্টাচার্য ৮১ বছরে পৌঁছুলেন। দীর্ঘ ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে মানবতার রাজনীতি করে পঙ্কজ ভট্টাচার্য হয়ে উঠেছেন পরিশীলিত রাজনীতির ধ্রুবতারা। সকল অন্যায়-অবিচারের বিপরীতে বাধার বিন্ধ্যাচল।

মূল্যবোধের খরাপীড়িত রাজনীতির দেশে পঙ্কজ ভট্টাচার্যের এই চৈতন্য নির্ভর রাজনীতিকে মরুর বুকে বিশুষ্ক তরুমূলে জীবনবারী নিষিক্তের মতো মনে হতে পারে, মনে হতে পারে তাঁর এই শ্রমকর্ম সবই অযথা, বৃথা দৌঁড়াদৌঁড়ি। কিন্তু না, সব কষ্ট, সব শ্রম ব্যর্থ হয় না। হতে পারে না। আমি আত্মবিশ্বাসে নির্ভার হয়ে বলতে পারি, কলুষিত এই রাজনীতির বাঁক বদল ঘটবেই। আজ না হোক-নিকট আগামীতে। সে কারণেই পঙ্কজ ভট্টাচার্যের জীবনের সফলতা-ব্যর্থতার হিসেব কষার প্রয়োজন নেই। সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করেছেন, এটিই বড় কথা, এখানেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব।

ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ প্রতিকূল পরিস্থিতির জটিল সমীকরণেও রাজনীতির হিরণ্ময় ব্যক্তিত্ব পঙ্কজ ভট্টাচার্য ঋষিকবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় সাহসী উচ্চারণে বলতে পারেন ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম’ এখানেই পঙ্কজ দা কে নিয়ে আমাদের অহংকার। আমাদের প্রশান্তি।

ইতিহাসের বহু বাঁকবদলের কারিগর, ধীমান কর্মচঞ্চল পুরুষ পঙ্কজ দা’র ৮১ তম জন্মদিনে জানাই হৃদয়প্লাবী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন! জয়তু পঙ্কজ দা।

লেখক: নির্বাহী পরিচালক, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।