৩১ অাগস্ট রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান স্মরণে শ্রীমঙ্গলে ওয়ার্কার্স পার্টির শোকসভা

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২০

৩১ অাগস্ট রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান স্মরণে শ্রীমঙ্গলে ওয়ার্কার্স পার্টির শোকসভা

শ্রীমঙ্গল, ২৯ অাগস্ট ২০২০: অাগামী ৩১ অাগস্ট সোমবার ২০২০ বিকাল ৪ ঘটিকায় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য ও সাবেক সাংসদ, ১৪ দলীয় জোটের জেলা সমন্বয়ক, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান স্মরণে শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে শোকসভার অায়োজন করা হয়েছে।

পৌর শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অায়োজিত এ শোকসভায় মূল বক্তব্য দিবেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান।
সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি দেওয়ান মাসুকুর রহমান।
এছাড়াও বক্তৃতা করবেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক তাপস কুমার ঘোষ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন এবং শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি শেখ জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক রোহেল অাহমদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

৩০ অাগস্ট রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান স্মরণে মৌলভীবাজারে ওয়ার্কার্স পার্টির শোকসভা

অাগামীকাল ৩০ অাগস্ট রবিবার ২০২০ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য ও সাবেক সাংসদ, ১৪ দলীয় জোটের জেলা সমন্বয়ক, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান স্মরণে মৌলভীবাজারে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা শাখার উদ্যোগে শোকসভার অায়োজন করা হয়েছে।
এতে মূল বক্তব্য দিবেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান।
সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক তাপস কুমার ঘোষ।
এছাড়াও বক্তৃতা করবেন পার্টির জেলা শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


উল্লেখ্য যে, দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৭ অাগস্ট সোমবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)।
জননন্দিত এ রাজনীতিবিদ আজিজুর রহমান মৌলভীবাজার জেলার গুজারাই গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৪৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আব্দুল সত্তার, মাতা মরহুম কাঞ্চন বিবি। তিনি শ্রীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন।
মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক ও মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকা কলেজে ভর্তি হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে হবিগঞ্জের বিখ্যাত বৃন্দাবন কলেজ হতে বিকম ডিগ্রী অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন হতেই সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত আজিজুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর সরাসরি নির্দেশনায় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কারাবরণ করেন তিনি। এরপর একই বছরের ৭ এপ্রিল মুক্তিবাহিনী কর্তৃক জেল ভেঙ্গে সিলেট কারাগার থেকে তাঁকে মুক্ত করা হয়। ২ মে পুনরায় পাকবাহিনী মৌলভীবাজার শহরে প্রবেশ করে বর্বরোচিত দমন পীড়ন চালানোর পর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য আত্মনিয়োগ করেন তিনি।
মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আহুত পশ্চিমবঙ্গের বাগডুগায় (দার্জিলিং) প্রথম পার্লামেন্ট অধিবেশনে যোগদান করেন আজিজুর রহমান।
প্রবাসী সরকার কর্তৃক আয়োজিত সামরিক প্রশিক্ষণে সিলেট বিভাগের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য হিসেবে তিনি সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং ৪ নম্বর সেক্টরের রাজনৈতিক কো-অর্ডিনেটর ও কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং গণপরিষদ সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর শমসেরনগর, ৬ ডিসেম্বর রাজনগর এবং ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মৌলভীবাজারকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করেন আজিজুর রহমান।
গণপরিষদের এই সদস্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য রচিত ‘৭২-এর সংবিধানের একজন স্বাক্ষরকারী ও প্রণেতা। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় সংবিধানের একাদশ ও দ্বাদশ সংশোধনীতে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মৌলভীবাজার জেলা শাখার দুই বারের সাধারণ সম্পাদক ও দুই বার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পরবর্তীতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
প্রগতিশীল এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মৌলভীবাজার মহিলা কলেজ (বর্তমানে সরকারী) ও সৈয়দ শাহ মোস্তফা কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হিসেবে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠক। সামাজিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, মৌলভীবাজার শাখার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনমূলে মৌলভীবাজারে প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন আজিজুর রহমান। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করে গেছেন প্রগতিশীল এ রাজনীতিবিদ।

ওয়ার্কার্স পার্টির শোক প্রকাশ

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য ও সাবেক সাংসদ, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।

সৈয়দ অামিরুজ্জামানের শোক প্রকাশ

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য ও সাবেক সাংসদ, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান।

তাঁর মৃত্যুতে অারও শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক তাপস কুমার ঘোষ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি দেওয়ান মাসুকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন এবং শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি শেখ জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক রোহেল অাহমদ।