বিশ্ব খাদ্য দিবস কাল

প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

বিশ্ব খাদ্য দিবস কাল

বিশেষ প্রতিনিধি || ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২০ : বিশ্ব খাদ্য দিবস কাল। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, “সবাইকে নিয়ে একসাথে বিকশিত হোন, শরীরের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন। আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ”।

কৃষি মন্ত্রনালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) উদ্যোগে অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও আগামীকাল পালিত হবে দিবসটি। এ উপলক্ষে আর্ন্তজাতিক সেমিনার , কারিগরি সেশন ,জসসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কৃষি মন্ত্রনালয়।
দিকসটি উপলক্ষে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাওঁ হোটেল ঢাকায় একটি আর্ন্তজাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা। জাতি সংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও ) মহাপরিচালক কো দোংইয়ু অনলাইনে বক্তব্য রাখবেন।
জানা গেছে খাদ্যে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট হৃদরোগ ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আশংকার কথা হলো ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বলে জানিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা।
সম্প্রতি এক গবেষণায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট ঢাকার পিএইচও নমুনার ৯২ শতাংশে ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২% মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্স ফ্যাট (ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) পেয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পিএইচও নমুনায় সর্বোচ্চ ২০.৯ গ্রাম পর্যন্ত ট্রান্স ফ্যাট এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা ডব্লিউএইচও’র সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি।
ট্রান্সফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো আইন বা নীতি হয়নি। তবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)অতিসম্প্রতি সকল ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করে নীতি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে বাংলাদেশে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ৪.৪১ শতাংশের জন্য দায়ি ট্রান্সফ্যাট। খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের সীমা নির্ধারণ করার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। তাই আমাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন করতে হবে।”
ট্রান্সফ্যাটমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ডব্লিউএইচও’র পরামর্শ অনুযায়ী সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করে আইন প্রণয়ন এবং কার্যকর করার দাবি জানায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ আগামীর খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণর্কমীসহ সংশ্লিষ্টদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন।
বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে আজ এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০’ উদযাপনের উদ্যোগকে রাষ্ট্রপতি স্বাগত জানান। এ উপলক্ষ্যে মানুষের মৌলিক চাহিদার প্রধানতম অনুষঙ্গ খাদ্য উৎপাদনের সাথে জড়িত সকল পর্যায়ের উৎপাদক, সরবরাহকারী, বিপননকারীসহ সংশ্লিষ্টদের তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, আবহমানকাল থেকেই কৃষি দেশের উন্নয়নের গুরুত্বর্পূণ নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কৃষি জনগণের খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা প্রদান ছাড়াও র্কমসংস্থান ও আয়ের সুযোগ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের কাঁচামাল সরবরাহ করে। সামগ্রিক অর্থে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ ও র্অথনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ উপলব্ধি থেকেই মহান স্বাধীনতা লাভের পর পরই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুর্নগঠনে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। জাতির পিতার প্রর্দশিত পথেই বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে কৃষি উন্নয়নে বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে কৃষিতে দৃষ্টান্তমূলক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ফসলের পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষ খাতেও ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বছর একটি ভিন্ন রকম পরিস্থিতিতে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ উদযাপিত হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সবাইকে নিয়ে একসাথে বিকশিত হোন, শরীরের যতœ নিন, সুস্থ থাকুন। আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যত ’-যা র্বতমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যৌক্তিক ও অর্থবহ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্বব্যাপী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে এই মহামারিতেও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগকালেও কৃষির সাফল্য এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বর্পূণ অবদান রেখে চলেছে। তবে করোনা-উত্তর বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সবাইকে আরো সচেষ্ট হতে হবে। আবাদযোগ্য প্রতি ইঞ্চি জমিতে উন্নত প্রযুক্তি অনুসরণ করে মৌসুম ভিত্তিক বিভিন্ন ফসলের আবাদ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, খাদ্যাভ্যাসেও পরির্বতন আনা জরুরি। জাঙ্কফুড পরিহার করে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমিত পরিমাণে মৌসুমি ফলমূল, শাকসবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসচেতনতাও বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে সুষম খাদ্য গ্রহণের সাথে কায়িক পরিশ্রম আমাদের দেহ-মনকে সুস্থ রাখবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করবে।’
আবদুল হামিদ বলেন, আগামীর খাদ্য নিরাপত্তাকে টেকসই করতে লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণর্কমীসহ সংশ্লিষ্টরা আরও মনোনিবেশ করবেন এ বিশ্বাস তাঁর রয়েছে। শুধু সরকারি পর্যায়েই নয় বেসরকারি পর্যায়েও অধিক বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। গ্রামপ্রধান বাংলাদেশে নজর দিতে হবে গ্রামে। একইসাথে কৃষকরা যাতে উৎপাদিত শস্যের ন্যায্যমূল্য পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হোক-এ প্রত্যাশা করি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের প্রচেষ্টায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো জোরদার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামীকাল বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে আজ দেয়া এক বাণীতে এ আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গত সাড়ে ১১ বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। দেশের ৯৭.৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। আমরা দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্য দেশের মতো বাংলাদেশে ১৬ অক্টোবর ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ পালন করা হবে জেনে তিনি আনন্দিত এবং এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সবাইকে নিয়ে একসাথে বিকশিত হোন, শরীরের যতœ নিন, সুস্থ থাকুন। আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ’- কোভিড-১৯ জনিত পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্ততায় যথাযথ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আমাদের সরকার এ সংকটের শুরু থেকেই সর্বাত্মক প্রস্ততি ও কর্মসূচি গ্রহণ করে। ফলে এই বৈশ্বিক মহামারিতেও আমরা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি বলেন, কৃষিতে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে আমরা করোনা পরিস্থিতিতেও ঘূর্ণিঝড় আম্পান, বন্যা প্রভৃতি অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি দক্ষভাবে মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদনের সফল ধারা অক্ষুন্ন রাখতে পেরেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের কোন খাদ্য সংকট হয়নি, কারণ-পর্যাপ্ত মজুদের ব্যবস্থা আমরা রেখেছি। দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শিল্প স্থাপনে যাতে কৃষি জমি নষ্ট না হয়, সে নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সাড়ে ১১ বছরে কৃষি উন্নয়নে কৃষিবান্ধব নীতি ও বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। যেগুলোর মাঝে কয়েক দফায় সার, বীজসহ বিভিন্ন কষি উপকরণের মূল্যহ্রাস, কৃষকদের জন্য ঋণ ও প্রণোদনা সুবিধা সম্প্রসারণ, দশ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, কৃষি গবেষণায় অধিক বিনিয়োগের মাধ্যমে নিত্যনতুন জাত প্রযুক্তির উদ্ভাবন, কৃষি বিপণন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, কৃষিযন্ত্রকে সুলভ ও সম্প্রসারিত করা, বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদান অন্যতম।
ফলে বাংলাদেশের কৃষিতে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি টেকসই কৃষি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হয়েছে। বৃহত্তর কৃষির আঙ্গিনায় মাঠ ফসল, ফলমূল, শাকসবজির পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ। সরকার এখন পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

শ্রমিক কৃষক মেহনতী মানুষসহ সকল স্তরের জনগণের সুষম খাদ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, “সরকারের সর্বশেষ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালায় যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে (ক) উৎপাদক কৃষকদের উৎসাহ মূল্য প্রদান, (খ) খাদ্যশস্যের বাজারদর যৌক্তিক পর্যায়ে স্থিতিশীল রাখা, (গ) খাদ্য নিরাপত্তা মজুত গড়ে তোলা ও (ঘ) সরকারী খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় সরবরাহ অব্যাহত রাখা। কিন্তু খাদ্য পরিস্থিতি এসব লক্ষ্য উদ্দেশ্যের বিপরীত দিকই নির্দেশ করছে। কৃষকদের উৎসাহ মূল্য দেয়ার যে কথা বলা হয় তা নিছক কৌতুক মাত্র।আমন মৌসুমে প্রতি কেজি ধানে উৎপাদন খরচের উপর মাত্র এক টাকা বাড়তি মূল্যে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। অথচ পাশের দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বাজার দরের থেকে অনেক বেশী দরে ধান ক্রয় করা হয়। ধান-চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রাও অনেকগুণ বেশী। কিন্তু বাংলাদেশে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা যেমন উৎপাদনের তুলনায় নেহাতই কম, তেমনি দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমনই কৃপণতা করা হয় যে মনে হয় কৃষকদের করুণা করা হচ্ছে। আর ঐ নির্ধারিত দামও কৃষকরা পান না। ক্রয়কেন্দ্রে তাদের হয়রানির সম্মূখীন হতে হয়। আর সংগ্রহ শুরু হয় যখন প্রান্তিক ও মধ্যচাষীদের হাত থেকে ধান চলে যায়। সুতরাং উৎসাহ মূল্য প্রদান কথার কথাই থেকে যাচ্ছে।
দেশে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের পরও চালের দাম প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সরকার চলতি মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল তার চেয়ে ৯ লাখ টন কম সংগ্রহ হয়েছে। চালকল মালিকরা চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে চাল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর ঘাটতি মেটাতে সরকারের কাছ থেকে চাল আমদানীর অনুমোদন নিয়ে রেখেছে। ফলে ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে চাল রপ্তানীকারক দেশসমূহ চালের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে এর সাথে যুক্ত হয়েছে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এর ফলশ্রুতিতে সারা বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষের আশংকা প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে এখনও সেধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও ভোক্তা জনগণ বিশেষ করে গরীব ও প্রান্তিক মানুষ, নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তরা দুঃসহ অবস্থায় পড়েছে সন্দেহ নাই। দেশে সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা সংকটের মুখে।
এবার আমন ও বোরো মৌসুমে ভাল উৎপাদনের খাদ্যশস্য দেশের চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত রযেছে। অথচ প্রতিদিনই চালের দাম বাড়ছে।ধানের দাম বেশী অজুহাতে চালকল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে কেবল নয়, সরকারের সাথে চুক্তিমত চাল সরবরাহ করতেও সরাসরি অস্বীকার করছে। চালের দাম বাড়বে এই ধারণায় বিপুল পরিমাণ ধান-চাল মজুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খাদ্য মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার মজুতবিরোধী আইন প্রয়োগ করতে পারে, কিন্তু সেরকম কিছু ভাবা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। চালকল মালিকদের চুক্তিমত চাল সরবরাহ করতে বাধ্য করার জন্য জরিমানাসহ দণ্ডারোপেরও বিধান আছে। আসলে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটের কাছে প্রতিবারের মত এবারও সরকার অসহায় আত্মসমর্পণ করছে। খাদ্য নিরাপত্তার মজুত গড়ে তুলতে খাদ্য অধিদপ্তর যে কি নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে তার প্রমাণ ধান-চাল সংগ্রহের সময়সীমা বাড়িয়েও লক্ষ্য মাত্রার ৯ লাখ টন চাল সংগ্রহ কম হওয়া। এই মজুদ যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না তা কাউকে বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। সর্বোপরি সরকারী খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় সরবরাহ অব্যাহত রাখা এ কারণে কঠিন সাধ্য হয়ে পড়বে। সরকারকে অমূল্য বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে খাদ্য আমদানী করতে হবে যার জন্য খাদ্য অধিদপ্তর মুখিয়ে আছে বলেই প্রতীয়মান হয়। এই অবস্থায় চালের মূল্য ভোক্তা জনগণের ক্রয় সীমার মধ্যে রাখতে ও অতীতের মত খাদ্য থাকার পরও কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ থাকে যাতে কেউ সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য ব্যবস্থ্যা নিতে এখনই নিম্নোক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে-
১। সরকারি ধান-চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রায় যে ঘাটতি হয়েছে তা পুরণে-ক. চালকল মালিকদের চুক্তিমত চাল দিতে বাধ্য করা, অন্যথায় জামানত বাজেয়াপ্ত জরিমানাসহ দন্ডাদেশ প্রদান।
২। মজুত বিরোধী আইন প্রয়োগে মজুত করা খাদ্য উদ্ধার ও মজুতকারিকে দন্ড প্রদান,
৩। চালের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট কঠোরহস্তে দমন,
৪। কৃষকদের ধানসহ কৃষি পণ্যের উৎসাহ মূল্য প্রদানের জন্য উৎপাদনের খরচ বিবেচনায় উপযুক্ত মূল্য ও ধান চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি পূর্বে নির্ধারণ করা,
৫। গুদাম সংকট, ক্রয় কেন্দ্রের অপ্রতুলতা ও হয়রানি বন্ধের জন্য প্রতি উপজেলায় প্যাডি সাইলো নির্মাণ ও সমবায় ভিত্তিতে তার পরিচালনা,
৬। উৎপাদক কৃষকদের সমবায় করে তাদের সাশ্রয়ী সুদে ঋণ দেয়া যাতে ধান উঠার সময় নিজেদের উদ্বৃত্ত নিজেরাই কিনে প্যাডি সাইলোসহ সুবিধাজনক স্থানে গুদামজাত করা ও অবস্থা বুঝে তা বিক্রি করে বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে পারে,
৭। বছরের ৫ মাস ১০ টাকা কেজি মূল্যে ৩০ কেজি চাল প্রদানের কর্মসূচী বছরব্যাপী বিস্তৃত করা,
৮। সারা দেশে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি করোনাকালীন এই দুঃসময়ে দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপরোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।”