কুমিল্লা নগরীজুড়ে দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম

প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২০

কুমিল্লা নগরীজুড়ে দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম

॥ কামাল আতাতুর্ক মিসেল ॥ কুমিল্লা (দক্ষিণ), ১৫ নভেম্বর ২০২০ : কুমিল্লা নগরীর মোড়ে মোড়ে তৈরি করা হয়েছে নানা শিল্পকর্ম। রাজগঞ্জ, ফৌজদারি, পুলিশ লাইন্স, কান্দিরপাড়, লিবার্টি মোড়, আলেখারচর ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে ইতিহাস ঐতিহ্য কল্পে শিল্পের ছোঁয়া। যা শতবর্ষী কুমিল্লাকে প্রজন্মের নিকট নতুন ভাবে উপস্থাপন করছে।

নগরীতে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর পুলিশ লাইন্স মোড়ের রয়েছে স্বাধীনতার স্মৃতি বহন করা একটি শিল্পকর্ম। যার একদিকে রয়েছে থ্রি নট থ্রি রাইফেল, অন্যদিকে বাংলাদেশের মানচিত্র। যা এসএস মেটালে তৈরি। নিচের অংশে রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উল্লাস, সাত বীরশ্রেষ্ঠ, পাক বাহিনীর ক্ষমতা হস্তান্তর, শহীদ পুলিশ সুপার মুন্সি কবির উদ্দিন আহমেদের প্রতিকৃতি ।
ফৌজদারী মোড়ে আরবি হরফে পবিত্র কালিমা খচিত ফলকটির উচ্চতা ভূমি থেকে ১৬ ফিট, ব্যাস ১০ ফিট। তিনটি স্তম্ভের মাঝখানে আল্লাহর ৯৯টি গুণবাচক নাম আরবি হরফের সাথে বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ লিখা আছে। সর্বোচ্চে আল্লাহু লিখা এবং এর নিচের অংশে রয়েছে ছয়টি আরবি ক্যালিওগ্রাফি ট্যারা কাটা সমৃদ্ধ পানির ঝর্ণা রয়েছে।
ঈদগা মোড়ে রয়েছে কুমিল্লার কৃতী সন্তান ও শহীদদের প্রতিকৃতি। পানির ঝর্ণা বেষ্টিত এ শিল্পকর্মে রয়েছে ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, বীরমুক্তিযুদ্ধা রফিকুল ইসলাম, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী শচীন দেন বর্মণ, নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী, কুমিল্লা বার্ড প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খান, শহীদ পুলিশ সুপার মুন্সি কবির উদ্দিন আহমেদের প্রতিকৃতি। সবোর্চ্চে কসকস ফুল শোভা বাড়িয়েছে এ শিল্পকর্মের। জিলা স্কুলের সামনের সড়কে রয়েছে বাঁশ বাগানের মাথার উপর নামক শিল্পকর্ম। যা সব বয়সীদের যতীন্দ্র মোহন বাগচীর কাজলা দিদি কবিতা স্মরণ করিয়ে দেয়। রাজগঞ্জ মোড়ে জাতীয় ফুল শাপলা ফুল তৈরি করেছে সিটি করর্পোরেশন। নগরীর কান্দিরপাড় লিবার্টি মোড়ে বিশেষ স্থাপনার চূড়ায় তৈরি করা হয়েছে জাতীয় পতাকা। যা দেখে শিশু কিশোররা যেমন জাতীয় বিষয়ের সাথে পরিচয় হচ্ছে। সব বয়সীদের মাঝে দেশপ্রেম ও ভালোবাসা জাগ্রত হচ্ছে। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম তোরণের শোভা বাড়িয়েছে বঙ্গবন্ধু ও ধীরেন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি।
নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে রয়েছে বিশ্বের বুকে কুমিল্লা এমন বার্তাবহ স্থাপনা। যার চারদিকে রয়েছে কুমিল্লার খাদি, ধর্মসাগড় দীঘি, দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সমাধি, শাহসুজা মসজিদ, বাখরাবাদ গ্যাস অফিস, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, শালবন বিহার গোমতী নদী, রাণীর কুটির, শতবর্ষী ভিক্টোরিয়া কলেজ, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, নগর ভবনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতিকৃতি। গোল আকৃতির এ স্থাপনার চারদিকে ঝর্ণা। মাঝখানে রয়েছে বিশ্বের মানচিত্র। মানচিত্রের চার দিকে গ্রহ উপগ্রহ। বিশ্বের মানচিত্রের সর্বোচ্চ চূড়ায় রয়েছে কুমিল্লার মানচিত্র। একপাশে হারমোনিয়ামের আকৃতি শচীন দেব বর্মনের কুমিল্লা এ কথা জানান দেয়।
শিল্পী মোহাম্মদ শাহীন বাসসকে জানান, নগরীর বেশী শিল্পকর্ম আমার হাতে তৈরি। যা কুমিল্লা সিটি করর্পোরেশনের অর্থায়নে তৈরি হয়েছে। প্রতিটি কাজেই নানা রকমপ্রবার্তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটা কাজ ই ব্যতিক্রম। বিশেষ করে আল্লাহর ৯৯ নামের চত্বর বাংলাদেশে এটি প্রথম। মেয়রের সহযোগিতায় কুমিল্লায় আরও নান্দনিকতার ছোঁয়া পাবে। পরিকল্পনা আছে আল কোরআন চত্বর, বদরি ৩১৩ সাহাবি চত্বর ও মহেশ বাবুর ম্যুরাল তৈরি করার।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা সিটি করর্পোরেশন মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বহু কাজ হয়েছে। আরও কাজ হবে। শৈল্পিক কাজগুলো যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবে।