বাঙালির মদ-বিভ্রান্তি…

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২০

বাঙালির মদ-বিভ্রান্তি…

মনজুরুল অাজিম পলাশ || লন্ডন (যুক্তরাজ্য), ২০ নভেম্বর ২০২০ : ১. বাঙালি ওয়াইন খেয়ে মাতাল হতে চায়! অথচ এই স্বর্গীয় পানীয়টি তৈরী হয়েছে এক গ্লাস/কয়েক ঢোক খাবারের সাথে ( খাবারের একটু আগে এক ঢোক দিয়ে শুরু করতে হবে ) পানের জন্যে! ফরাসিরা প্রতিদিন দুইবেলা নিয়ম হিসেবেই ওয়াইন পান করেন। তবে মনে রাখবেন—রেড ওয়াইন গোজ উইথ মিট। হোয়াইট ওয়াইন গোজ উইথ ফিস! আর জানেন তো—শ্যাম্পেন হচ্ছে হোয়াইট ওয়াইনের একটি উন্নত রূপ। শ্যাম্পেন বেশিরভাগ ঝাকুনি দিয়ে ফেলে দেয়া পশ্চিমা সংস্কৃতি হলেও আমি সতর্কভাবে পুরোটাই রক্ষা করি! 🙂

২. বাঙালি ভদকা খায় (পান নয়) গরমে। আরে ভাই (পড়ুন শালা) এই পানীয় সৃষ্টি হয়েছে শীত থেকে বাঁচতে! রাশিয়ায় এই পানীয় শ্রমিকদের দেয়া হয় প্রচন্ড শীত থেকে জীবন বাঁচাতে। জেনে রাখুন—শ্রেষ্ঠ ভদকার নাম- Stolichnaya! গরমে ভদকা কিন্তু নারকীয়।
৩. বাঙালি জিন খায় (পান নয়) শীতে! আরে ভাই (পড়ুন শালা) এই পানীয় সৃষ্টি হয়েছে গরম থেকে বাঁচতে! শীতে জিন পান করলে তো শীতে মরবি! অথচ গরমে একচামচ জিন মিশিয়ে একগ্লাস জল খেলে শরীরে প্রশান্তি। বিজ্ঞান জেনে নে  হে মদ অনভিজ্ঞ বাঙাল। গরমে গলফ খেলোয়াড়দের রক্ষাকবচ এই জিন।
৪. বাঙালি ‘ব্লাডি মেরি’ খায় (পান নয়) মূল ড্রিংক হিসেবে। আরে ভাই (পড়ুন শালা) এই ককটেল সৃষ্টি হয়েছে একটি অন্তর্বর্তী নিরপেক্ষ পানীয় হিসেবে। এটি তোমার আগের পানীয় খাওয়ার আমেজকে নিরপেক্ষ করে নতুন পানীয় খাওয়ার পরিবেশ তৈরী করে। এই কারণেই টমেটো জুস! এটি মূলত একটি প্রতি-পানীয় (মানে এন্টি ড্রিংক)! বিজ্ঞান জানো ভাইয়া (পড়ুন শালা)!
৫. বাঙালি হুইস্কি খায় ‘র’ বা পানি মিশিয়ে। আরে ভাই (পড়ুন শালা) এই পানীয় সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর বিশুদ্ধতম স্কটিশ জল দিয়ে যা পান করতে হয় ‘অন দ্য রকস’ মানে বরফের উপর ঢেলে। স্কচ ঢেলে উপরে বরফ দেয়া নয় কিন্তু! বরফ গ্লাসে স্তুপ করে তারপর স্কচ। তারপর সেই স্বর্গীয় বস্তু বরফ বেয়ে নিচে নেমে যতটুকু পানীয় হবে ততটুকু ঢোক। নিয়ম না মেনে তুমি মরে যেতে পারবে কিন্তু তোমার নামটি থেকে যাবে গ্রাম্য বাঙাল! 🙂

আজকে এইটুকু থাকে! তবে শেষে বলে রাখি—মাতালের জন্যে মদ হারাম! আর হারাম তাদের জন্যে যারা মদ পান করতে পারেনা—মদ যাদের খেয়ে ফেলে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ