আনোয়ারুল আজিম: আমার পিতার মুখ

প্রকাশিত: ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২০

আনোয়ারুল আজিম: আমার পিতার মুখ

মনজুরুল অাজিম পলাশ || লন্ডন (যুক্তরাজ্য), ২৩ নভেম্বর ২০২০ : আমার বাবার প্রয়াণ দিবস। ২৪ নভেম্বর। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ঈদ-আসন্ন শীতে তাঁর অকাল মৃত্যু হয়। বাবাকে আমরা আব্বা বলতাম। তাঁর প্রয়ানের সময় আমার বয়স ১০। সেই থেকে হঠাৎ সবকিছু একত্রে হারানোর এক চির অব্যক্ত শূন্যতায় আক্রান্ত আমি। এবং তখন থেকে পরবর্তী আর অন্য কোন শোক তত বড় শোক হতে পারেনি আমার কাছে। শোক নিয়ে আমি ভাষাহারা আজও। আব্বার মৃত্যুই আমার কাছে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শোক। এটাও সত্যি—সেই শোকটাই একসময় আমাদের নিজ পায়ে উঠে দাঁড়াবার শক্তিও হয়েছিল।

সেই প্রসঙ্গ আজ নয়।
আব্বার বহুমুখীন পরিচয়-যোগ্যতা ছিল। সেই কথায় আসছি। তিনি বংশের বড় ছেলে। পিতা মোঃ রৌশন আলীর মুখ উজ্জ্বল করা সন্তান। কুমিল্লা ভিক্টরিয়া কলেজে পড়াশুনা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম-এ সম্পন্ন করেছিলেন। এম-এ শেষ করবার পর গ্রামের বাড়িতে গেলে গ্রাম-উজাড় মানুষ এসেছিলেন তাঁকে দেখতে। এমন সম্ভাবনাময় উচ্চ শিক্ষিত সন্তানের জন্যে আমার দাদা পাত্রী খুঁজে বের করতে হাজির হয়েছিলেন চাঁদপুর-হাজীগঞ্জের *জমিদার বংশের আমিন মিঞা পরিবারের বড় সন্তান সাত্তার মিঞার কাছে। ছেলে এম-এ পাশ এই ভিত্তিতেই একটি স্বচ্ছল সম্রান্ত পরিবারের মেয়ে—আমার আম্মা—বেগম লতিফা আক্তার পাত্রস্থ হয়েছিলেন উচ্চ শিক্ষিত পাত্র আনোয়ারুল আজিম এর সাথে। সেই ঘরে আমরা পাঁচভাইবোন—অলকা পলাশ শিমুল কাকলি শিউলি। আব্বার দেয়া অপূর্ব সব ডাক নাম। আমাদের অসাম্প্রদায়িক নাম।
পেশাগত জীবনের শুরুতে আমার আব্বা অধ্যাপনা করেছেন কিছুদিন। বাংলা সাহিত্যের একনিষ্ঠ অনুরাগী পাঠক-শিক্ষক-লেখক ছিলেন তিনি। কলেজে লেকচার দিতে দিতে কবিতা পড়তে গিয়ে আবেগে অনুরাগে একবার অজান্তেই নিজের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন সেই কথা আমরা জেনেছিলাম। তাঁর লেখালেখির প্রবল শুরু তখন থেকেই। তিনি যখন চট্টগ্রামে অধ্যাপনা করছেন তখন তাঁর নামে অর্থাৎ আনোয়ারুল আজিম নামে আরো একজন অধ্যাপনা-লেখালেখি করতেন। বয়সে আব্বার কিঞ্চিৎ ছোট থাকবার কারণে এবং পাঠকদের ভ্রান্তি কাটাতে সেই আনোয়ারুল আজিমকে তখন তিনি একটি লেখক ছদ্মনাম দিয়ে দেন—ময়ূখ চৌধুরী! মানে এখন যাঁকে আপনারা ময়ূখ চৌধুরী নামে চেনেন তাঁর আসল নাম কিন্তু আনোয়ারুল আজিম। অথচ আব্বার দেয়া নামটাই অনেক সুন্দর। আর চির আধুনিক। ময়ূখ চৌধুরী এখন আব্বার দেয়া নাম ময়ূখ চৌধুরী নামেই প্রতিষ্ঠিত-পরিচিত। আব্বা তৎকালীন সকল প্রধান পত্র পত্রিকা সাময়িকীতে লেখালেখি করেছেন। সব লেখক-কবিদের সাথে তাঁর ভাব ছিল। অফিসে বাসায় আড্ডা হতো প্রায়ই। এখনো আব্বার লেখা গদ্যের-গল্পের মুগ্ধ পাঠক আমি। তাঁর লেখা ‘নিছক প্রেম’ বাংলা সাহিত্যে একটি শ্রেষ্ঠ গল্প বলে মনে করি। তাঁর লেখা-সম্পাদিত বইগুলোর মধ্যে ‘রবীন্দ্রনাথের বিচিত্র প্রবন্ধ’ উল্লেখযোগ্য একটি বই যা খুব সমাদৃত হয়েছিল দুই বাংলায়। সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় তিনি যোগ্যতার সাথে অনুশীলন-বিচরণ করেছেন।
আব্বা কুমিল্লা বার্ড-এও কিছুদিন চাকুরী করেছেন। সেই ছোটবেলায় আমরা অনেকবার বেড়াতে গেছি বার্ডে। তখন বার্ড সংস্কার-অক্ষত এবং আরো প্রকৃতিময় ছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় লাইন ধরে নিজের খাবার যে নিজে নিতে হয় তা আমরা প্রথম শিখেছিলাম বার্ড থেকেই। কুমিল্লা বার্ড এর সাথে আব্বার প্রেম-সখ্য ছিল আজন্ম।
তারপর তিনি সরকারি চাকুরীতে প্রবেশ করেন। স্বাধীনতার বেশ কবছর আগেই। নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সরাসরি নিয়োগ নেন তথ্য মন্ত্রণালয় এর প্রকাশনা অধিদপ্তরে। প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার হিসেবে। একটি বিভাগের প্রধান। আলাদা ফোন, আলাদা বড় রুম , বিশাল সেক্রেটারিয়েট টেবিল, রিভলভিং চেয়ার শোভিত সেই চ্যাম্বারে আমি ঘুরে বেড়াতাম। আব্বার অফিসে যাওয়া ছিল আমার একটা ‘রিচুয়াল’। তাঁর রিভলভিং চেয়ারে বসে অনেকবার জাদুর মত করে ঘুরেছি। কখনো অদূরে গিয়ে একটি টাইপ রাইটার নিয়ে বসতাম। আবোল তাবোল লিখতাম ঠকঠক শব্দে। সেই থেকে টাইপ রাইটারের শব্দ আমার মগজে প্রিয় হয়ে ঠাঁই পেয়েছে। কোনদিন পাশের বিল্ডিঙে লিফট চড়ে ক্যান্টিনে গিয়ে খেতাম মজাদার সমুসা। সচিবালয় ছিল আমার শৈশবের নিয়মিত বেড়াবার একটি তীর্থ।
আব্বার অনেকগুলো পিয়ন ছিল। ছোটবেলায় পিয়নদের কাঁধে কাঁধে ঘুরে বেড়িয়েছি আমি। ‘আজিম সাহেবের ছেলে’ হিসেবে খুব আদর পেয়েছি। এঁদের সাথে মানবিক সম্পর্ক ছিল তাঁর।পিয়নদের টাকা ধার দিতেন, বড় হয়ে তাঁর ডাইরির একটা পাতা দেখেছিলাম কার কাছে কত টাকা পাবেন তা লেখা। আব্বা ডাইরি লিখতেন নিয়মিত, গদ্যের অপূর্ব হাত ছিল তাঁর। আম্মাকে নিয়ে অনেক রোমান্টিক লেখা আছে আব্বার। আমরা থাকতাম আজিমপুর কলোনি। নিচ তলা। ২২/এ। সামনে প্রশস্থ বাগান আমাদের। বাসা থেকে লম্বা পাইপ দিয়ে রোজ জল দেয়া হতো সেই বাগানে। বাসায় লাল কার্পেট আর গদির সোফা ছিল আমাদের। চারদিকে কাঠের আসবাবপত্র। কিন্তু সব স্বচ্ছলতা-আসবাব-আভিজাত্য ডিঙিয়ে বাসায় উজ্জ্বলতম হয়ে শোভা পেয়েছে সারিসারি সহস্র বই। চৌরঙ্গী। কল্লোলের কাল। কড়ি দিয়ে কিনলাম। দৃষ্টিপাত। গীতবিতান। রুশ ইতিহাসের কথা ও কাহিনী। ভিনদেশি এক বীরবল। সোনার কেল্লা। সাইকেল এলো কেমন করে। আমরা জন্মের পরই প্রথম যা দেখেছি, ধরেছি, পড়েছি তা হচ্ছে বই। বই তথা জ্ঞানের পাঠ-ভার প্রধান আছে বলে আর কোন অহং এর উপরে স্থান পায়নি আমাদের। আজও টাকা পয়সা অর্থ বিত্ত আসবাব জমি সম্পদ উঁচু দালান—সবকিছুকে আমরা বোধ-জ্ঞানের কাছে পদানত রাখতে পেরেছি যে শিক্ষা আব্বা থেকে পেয়েছিলাম। আমার আব্বার সবচেয়ে প্রিয় ছিল—বই। জীবনে একবার আমি তাঁকে কাঁদতে দেখেছিলাম, বই হারিয়ে যাবার জন্যে। আব্বা তাঁর সংগ্রহের বইয়ে স্বাক্ষর করে রাখতেন। পছন্দের বইগুলোতে ভেতরের পাতাতেও স্বাক্ষর করতেন।
মনে আছে, আব্বা খ্রিস্টান একজন গৃহ শিক্ষক নিয়োগ করেছিলেন আমাদের জন্যে যিনি চমৎকার রবীন্দ্রসংগীত পারতেন, আমাদের শিখাতেন, পরে বিটিভিতে সংবাদ পাঠক হয়েছিলেন সেই শিক্ষক। আব্বা প্রতিদিন সকালে রবীন্দ্রসংগীত শুনতেন। আমাদের ফিলিপস রেডিও আর রবীন্দ্রসংগীত ছিল সমার্থক। ছোটবেলা থেকেই আমরা এর কথা-সুর জানি, বড় হয়ে শুধু অর্থ জানতে হয়েছে। আমাদের আব্বার সবকিছু দিয়ে আমরা দারুণভাবে প্রভাবিত হয়েছি। মানুষের শৈশবের বেড়ে উঠবার পরিবেশ যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা ভাবলেই কৃতজ্ঞে সজল হয়ে উঠি আব্বার প্রতি আমাদের সর্ববিচারে একটি ধনাত্বক পরিবেশ দেবার জন্য। আব্বা আমাদের একইসাথে অভিজাত ও মানবিক করে তুলেছিলেন।
আব্বা রুচিবান ছিলেন। তাঁর ব্লেজার এবং টাই-এর সংগ্রহ ছিল। আমার কাছে আব্বার টাই-এর কয়েকটি এখনো আছে। তাঁর একটি গেরুয়া টাই জিনসের শার্টের সাথে এখনো আমি পরিধান করি। আব্বা খাদ্য রসিকও ছিলেন, তাঁর জীবন কখনোই নান্দনিকতার বাইরে ছিলোনা। আম্মাকে শাড়ি অলংকার নিয়ে দিতেন নিজের পছন্দমত। প্রিয় খাবার ছিল কুমড়ার পাতা মোড়ানো ইলিশ ভাঁজা, সজনে ডাল। আম্মার হাতের মজার রান্না খেতাম আমরা সবাই মিলে ছয়জনের বিশাল ডাইনিং টেবিলে বসে।
আজিমপুরে আমাদের পড়শী ছিলেন আলোকচিত্রী কামরুল হুদা, হ্যাপি আখন্দ, লাকি আখন্দ, ফজলে লোহানী। আমার বন্ধুদের নাম জুনাইদ, কল্লোল, বিপ্লব। অদূরেই ছিল ছাপড়া মসজিদ, দেশের প্রথমদিককার ডিপার্টম্যান্ট স্টোর সাগর সম্ভার এর সাভার ডাইরি দুধ, আলমগীর কবির জয়শ্রী কবির এর দোতলা বাসার হাতছানি। আহা—সূর্যকন্যা। আমাদের বাসা থেকে নিউ মার্কেটের রিকশা ভাড়া ১ টাকা। বলাকা সিনেমা হলে আমরা সিনেমা দেখতাম, সেন্সর বোর্ডের কর্মকর্তা হিসেবে আব্বা পাশ পেতেন, বিরতির সময় হলের ম্যানেজার এসে আমাদের চিপস আর কোক দিয়ে যেত। কোনদিন আমরা স্কুটারে চড়ে বেড়াতে যেতাম রমনা রেঁস্তোরার ভেতরের দিকে ভাসমান পাটাতনে, লেকের জলরাশির শান্ত ভাব দেখে দেখে কাটলেট খেতাম সেখানে। আব্বা মাঝেমাঝে নিয়ে যেতেন ইন্টার কন্টিনেন্টাল-এ, সেখান রেঁস্তোরায় বসে স্যান্ডউইচ, আইসক্রিম খেয়েছি অনেক, তখনি জেনেছি ভাতের বিকল্প খাবারও আছে এই পৃথিবীতে, জেনেছি পুকুর-নদী ছাড়াও সুইমিং পুল বলে একটি নীল জলের অলৌকিক আধাঁর আছে যেখানে সাঁতার কাটা যায়।মনে আছে, অফিস থেকে ফিরবার পথে আব্বা কখনো পূর্বাণী থেকে স্বর্গীয় স্বাদের পেস্টি নিয়ে আসতেন আমাদের জন্যে। আজ জানি, আব্বা এভাবেই হয়তো নিছক আদর-মায়া-মমতা থেকেই—তার অজান্তেই—আমাদের আভিজাত্য, আত্মবিশ্বাস আর আধুনিক নাগরিকবোধ-রুচি প্রোথিত করে দিয়েছিলেন সেই শৈশবেই। আমি এখন আমাদের বিবর্তন-বেড়ে উঠা বিষয়টিকে সমাজবিজ্ঞানের পাঠভুক্ত করেই অনেকটা নিশ্চিত—আমাদের ভাইবোনদের মধ্যে যে অনায়াস আভিজাত্য এবং হীনমন্যতাহীন নির্ভার একটি অবিচলতা-আত্মবিশ্বাস আছে তা আমরা একটি নিশ্চিত-স্বচ্ছল বহুমাত্রিক নাগরিক শৈশব থেকেই পেয়েছি।
আব্বা মানেই ছিল নিউ মার্কেট। প্রতিদিন তাঁর সন্ধ্যা কাটতো সেখানে, ‘বই ঘর’ ছিল তাঁর আজন্ম গন্তব্য। এই পুস্তক প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার ছিলাম আমরা। আমরাও তাঁর সাথে প্রায় যেতাম নিউ মার্কেট। এই মার্কেটটির সেবা আর উদারতার প্রেমে পড়েছিলাম আমি শৈশবেই। মার্কেট থেকে বাসায় ফিরবার পথে অলিম্পিয়া বেকারি থেকে হট প্যাটিস, বিস্কিট, চানাচুর নেয়া হত। গেট থেকে লাল সালু সরিয়ে নেয়া হতো পনির। আমাদের পারিবারিক অনেক ছবি তোলা হয়েছে আক্স ষ্টুডিওতে, ছোটবোন শিউলিকে ছবি তুলবার সময় রাগ ভাঙাতে হাতে টাকা গুঁজে দেয়া হয়েছিল সেই দৃশ্য আজও আমার মনে আছে। আব্বা শিউলিকে ‘শিয়ন পাখি’ বলতেন। অথচ আব্বাকে নিয়ে শিউলির তেমন কোন স্মৃতি নেই। আব্বা অকালে প্রয়াত।
১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আব্বার প্রয়াণ ঘটে। তাঁর লিভার ক্যান্সার হয়েছিল। আমি তখন একা একাও পলাশী বাজার-সলিমুল্লাহ হল-শহীদ মিনার-অজস্র বৃক্ষ-হাজারটা নিরবতা পেরিয়ে তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যেতাম। আমাকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরতেন। আমিও নিজেকে হেলিয়ে সমর্পিত হতাম আব্বার মায়াময় বাহুতে। অভিভাবক হারানো একটি একাকী জীবন ভ্রমণের অভ্যাস আমার সেই থেকেই হয়তো জন্ম নিয়েছিল। সেটাই হয়তো পরে আমার ভ্রমণ সত্তা হয়েছে।
আব্বার যখন মৃত্যু হয় তখন পকেটে আসন্ন কোরবানি ঈদের কোরবানি দেয়া এবং টিভি কেনার টাকা ছিল। শখ ছিল সেই ঈদে পরিবার-সন্তানদের জন্য টিভি কিনবেন। কিন্তু সেই টাকা ব্যয় হয় তাঁর দাফন-কাফনের তাৎক্ষণিক খরচ মেটাতে। আব্বা চির সমাহিত থাকেন আমাদের শেকড় ভূমিতে, দেবিদ্বার এর ভৈষেরকুট গ্রামে। যেখানে আমার দাদা টানা ২২ বছর অপ্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান ছিলেন। অন্য কোন সংযোগ না থাকলেও আমাদের পারিবারিক কবরস্থান এখনো সেখানেই। সবাই শুয়ে আছেন সেই ভূমিতে।
আব্বার প্রয়ানের পর আমাদের আজিমপুর সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিতে হলো, ঢাকা জীবনের প্রথম পর্বের অবসান হলো, আমরা কুমিল্লা ফিরে গেলাম, রাজধানীর লাল কার্পেট-সোফাময় বহু কামরার ফ্ল্যাট থেকে মফস্বল শহরের দাদার একতলা একটানা সাদা দালানটি হলো আমাদের ফিরবার আশ্রয়। একসময় ঢাকা থেকে সমিতির বাসে চড়ে কুমিল্লার যে দাদার বাড়ি আমরা কালেভদ্রে বেড়াতে যেতাম সেখানে ভাড়াটিয়া উঠিয়ে স্থায়ী ভাবে থাকতে গেলাম আমরা নিজেরাই। সংগ্রামী মুখ আম্মা এবং মায়াময় ঐক্যময় অসীম সম্ভাবনার ভিত্তি প্রোথিত পাঁচভাইবোন।
১৯৭৬ সালে ঈদের আগে ঢাকা বাসায় যে টিভিটি আমাদের হওয়ার কথা ছিল তা কুমিল্লা বাসায় আনতে অনেক বছর দেড়ি হয়ে গেলো আমাদের…

*আমার নানার বংশ অর্থনৈতিক সামর্থ্যে এবং সামাজিক ধারাবাহিকতা-মর্যাদা-অভিধায় আক্ষরিক অর্থেই ‘জমিদার’ ছিলো বলে আমি তাঁদের পরিচিয় দিতে গিয়ে ‘জমিদার’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। এই জমিদারি নিয়ে আমার অতিরিক্ত কোন আবেগ-উচ্ছাস কিংবা শ্রেণী অনুভূতি বা অহংকার নেই।