হুমকির অভিযোগে আসফিয়া শাহরিন অাঁচলের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১২:৪৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২০

হুমকির অভিযোগে আসফিয়া শাহরিন অাঁচলের সংবাদ সম্মেলন

সৈয়দ অারমান জামী, বিশেষ প্রতিনিধি || শ্রীমঙ্গল, ০২ ডিসেম্বর ২০২০ : নিরাপত্তাহীণতা ও হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শ্রীমঙ্গলের একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান আসফিয়া শাহরিন অাঁচল ও তার সহোদর ভাই ফাহিম অাজাদ।

অদ্য ২ ডিসেম্বর ২০২০ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে এ সংবাদ অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাধিকারদের মধ্যে মরহুম অাব্দুল জব্বারের সহধর্মিণী সৈয়দা নেহারা খানম, মামা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন রাহিদ প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলনে উত্তরাধিকারদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মরহুমা ডা: রফিকুন নাহারের সন্তান আসফিয়া শাহরিন অাঁচল।

লিখিত বক্তব্যে আসফিয়া শাহরিন অাঁচল বলেন, “অামরা শ্রীমঙ্গলের একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান। আমাদের পরিবারের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে ন্যায়বিচারের স্বার্থে ও অন্যায্যতার বিরুদ্ধে আজ আমাদেরকে অনিচ্ছা সত্বেও মিডিয়ার সম্মুখীন হতে বাধ্য হতে হয়েছে।

পারিবারিক পরিধির বাইরে এসে আজ পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে তা আমাদের জন্য লজ্জাকরও। কিন্তু, এছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় ছিলো না। স্বজন যখন সম্পদ ও সম্পত্তির লোভে দুর্জনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং এতিম -অসহায়দের উপর উৎপীড়ন করে তখন সমাজ ও রাষ্ট্রই পারে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিতে অসহায়কে সহযোগীতা করতে। যাই হোক, আমি আপনাদের সামনে ঘটনার সবিশেষ বিস্তারিত আকারে তুলে ধরছি সেটুকু অনুধাবন করে আপনারা এ বিষয়ে আপনাদের তরফ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করি।

আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, ১৯৭৩ সালে মো. আব্দুল আজিজ নামে আমাদের পুর্বপুরুষ (যিনি আমার আম্মা’ ডা. রফিকুন নাহার পারভীন এর দাদা) মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ৭ সন্তান রেখে যান এবং প্রায় ৪৫ একর ভূ- সম্পত্তি রেখে যান। এই সাত সন্তানের মধ্যে ৪ জন ছেলে ও ৩ জন মেয়ে। ৭ জনের মধ্যে ৬ জন তাদের সম্পত্তি বিক্রি করে দিলেও আমার মায়ের বাবা অর্থাং, আব্দুল জব্বার নিজের সম্পদ রেখে যেতে পেরেছিলেন। আমার আম্মার চাচা হলেন শ্রীমঙ্গলের স্বনামধন্য ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত মো. আব্দুস ছালাম ও মো. আবু শহীদ আব্দুল্লাহ। বিশেষ করে, মো. আবু শহীদ আব্দুল্লাহ সমাজে গুনীজন হিসেবে পরিচিত। ডা. পারভীন মৃত আব্দুল জব্বার সাহেবের একমাত্র মেয়ে, তার সহোদর কোনও ভাই-বোন নাই। তিনি তার মেয়েকে জীবদ্দশায় নিজের সম্পত্তি বিভিন্ন দলিলে দানপত্র, হেবা, এওয়াজ, সাফ কবলা মুলে দিয়ে যান। আমি আঁচল (২৯) ও আমার ভাই আপন (২৮) উক্ত সম্পত্তির মৌরসী সুত্রে উত্তরাধিকারী। আমি বিবাহিত এবং আমার স্বামী কর্মসুত্রে অন্যত্র, ভাই অবিবাহিত। আমি আমার একমাত্র ভাইয়ের অভিভাবক পিতা ও মাতার মৃত্যুর পর তাকে আমার কোলেপিঠে করে মানুষ করতে হয়েছে এবং এখনো আমি সেটাই করে যাচ্ছি। আমরা চাই একটি নিষ্কন্টক সম্পুর্ণ ও নির্ভেজাল জীবন যাপন। নিজেদের যা কিছু আছে তাই রক্ষা করে যার যার ন্যায্য প্রাপ্তি অনুযায়ী জীবন যাপন এবং কোন বিপদাপন্নকে সহায়তা, যদি সক্ষম হই। এটাই আমাদের জীবনের লক্ষ। কারো সম্পদ বা সম্পত্তি কুক্ষিগত করা বা অন্যের সম্পদ নিয়ে নিজে বাজে মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্টিত হওয়ার মনোবাসনা আমাদের নেই। নিজেদের ন্যায্য যা কিছু আছে সেটা নিয়েই আমরা জীবন যাপন করতে চাই। কিন্তু আজ আমার নিজেদের সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে চরম মানসিক উৎপীড়নের শিকার হচ্ছি এবং পারিবারিক ও সামাজিকভাবেও আমাদের এতদিনকার ইজ্জত -সম্মান ভুলুন্ঠিত হওয়ার পথে রয়েছে। প্রতিনিয়ত আমরা শিকার হচ্ছি একদল ভূমিলোভী মানুষের (আল্লাহ, মাফ কর!) অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্খিত আচরণ ও অন্যায্য হস্তক্ষেপে। আপনাদের কি আর বলবো, কিন্তু বলতে হচ্ছে- তারা আমাদেরই স্বজন, কিন্তু আজ তারা আমাদেরকে পথে বসিয়ে দেওয়ার পায়তারা করছেন সম্পত্তির লোভে। সম্পত্তি আজ তাদের কাছে মানুষের চাইতে অনেক বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার ও আমার ভাইয়ের মৌরসীসুত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে ভাগ বসাতে তৎপর আবু শহীদ মো. আব্দুল্লা, আব্দুছ ছালাম, এফ.এম. মাহফুজ হিমেল, আবিদ হোসেন তানভীর, আব্দুল কাইয়ুম নাহিদ, সারওয়ার হোসেন শাওন, মেহতাব হোসেন পাপ্পু ঝথডডগং’রা। যেখানে তাদের আজ আমাদের এই এতিম অবস্থায় সহযোগীতামূলক অবস্থায় থাকার কথা সেখানে তারাই আজ আমাদের ভূসম্পত্তি বিভিন্ন মিথ্যা উছিলায় কেড়ে নেওয়ার পায়তারা করছেন। এমনকি তারা আমার বাস্তুভিটা ( যে বাসায় আমরা, দাদীকে নিয়ে বসবাস করি) সেটাও দখল করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন।

প্রতিনিয়ত হুমকি, ধমকি, অনধিকার প্রবেশের মাধ্যমে হট্টগোল সৃষ্টি, এমনকি মারধর করার জন্য তেড়ে আসার মতো কাজ করে চলেছেন। এমন একটি দখলের উদ্দেশ্যে আমাদের সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করে আমাদের বের করে দিতে চাইলে আমি সরকারের বিশেষ হটলাইন সেবা ৯৯৯ – এ তাৎক্ষণিক ফোন করে জানালে, শ্রীমঙ্গল থানা সত্বর ভূমিকা গ্রহণ করে এবং সেদিনকার মতো আমরা নিজেদের ও সম্পত্তি রক্ষা করতে পেরেছিলাম। তারা ধনে ও জনে বলীয়ান মানুষ। তাদের এ মানসিকতা আমাদেরকে খুব কষ্ট দেয়, আমরা মাঝে মধ্যে চিন্তা করি, এমন সমাজসেবী, জনদরদী হিসেবে পরিচিত মানুষদেরও মুখোশ পড়া থাকে। আমার উপস্থিত মামা (দেলোয়ার হোসেন রাহিদ) আজ নিজের পরিবারে ব্রাত্য, তাকে সত্য কথা বলার অপরাধে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে। একটা মাত্র জীবন, অথচ পুত্রকে জন্মদাতা পিতা এমন করতে পারেন তা ভাবলেই গা শিউরে উঠে। এ কেমন লোভ। আজ সম্পদ ও সম্পত্তির অধিকারী হয়েও আমাদের চোখে ঘুম নেই, মনে সুখ বা শান্তি নেই, অথচ এমন হওয়ার কথা ছিলো না।

আর এস জরিপের খতিয়ান – ১৭৪৩, আর.এস. দাগ নং- ১০১৬ মোট ভূমি ২৭৭৫ একর আমাদের মাতা ডা. রফিকুন্নাহার পারভীনের নামে রেকর্ডকৃত, তার মৃত্যুতে আমরা ওয়ারিশান হই। উক্ত ভূমি, আমরা স্বত্ববান থাকিয়া ভোগ দখল করা অবস্থায় মোকদ্দমা – ১৫৬৭/১৯-২০ মুলে নামজারী খাতিয়ান ৩৭০২ নং মূলে খতিয়ানপ্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল করে আসছি। ইদানিং তাহারা আমাকে এই ভুমির উপর নালিশ এনে আমাদেরকে বেদখল করবেন বলে হুমকি ও চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাহারা নিঃস্বত্ববান, আমি দ্যার্থহীনভাবে বলতে চাই কোনও অধিকার তাদের নেই এ সম্পত্তিতে। বলপ্রয়োগ বা জোরপুর্বক আমাদেরকে আমাদের সম্পত্তি হতে বঞ্চিত করার তাদের চক্রান্তে আমরা হতবিহব্বল এবং নিজেদের প্রাণনাশের আশংকা করছি। কিন্তু আমাদের মানসিকতা তেমন নয়, আমরা জানি এবং মানি মানুষ দানে দরিদ্র হয় না, কিন্তু, ২০১০ সালে আমার মা মারা যাওয়ার পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তারা আমাদের প্রতিবার জিম্মি করে করে প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি (২,০০,০০০০০/= থেকে ২,৫০,০০০০০/=) টাকা আত্মসাৎ করেছে। দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার আমার আর কোনভাবেই বরদাশত করব না। আমরা একপর্যায়ে নিজেদের জীবনরক্ষা ও সম্পত্তি রক্ষার্থে আদালতের ও থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি। তারা আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানী ও চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে দেওয়ানী আদালতে স্বত্ব মামলা ২১/২০২০ ও ১৩/২০২০ এবং ১৫/২০২০ দায়ের করেন। এতদসঙ্গে সকল কাগজের ফটোকপি সংযুক্ত। এমনকি তারা আমাদের মেরে ফেলার মতো মানসিকতা নিয়ে ফেলেছে বলেও আমরা বিভিন্ন সুত্রে খবর প্রাপ্ত হয়ে প্রসিডিং ড্র আপের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হই এবং মৌলভীবাজার জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করি। তিনি আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন কাজ করবে বলে জানালে আমরা কিছুটা শান্তিবোধ করি। এছাড়াও, ঐ দখলকারী চক্রের অন্যতম আব্দুল কাইউম নাহিদ (সম্পর্কে আমার মামা) শহরের রূপসপুর জামে মসজিদের পাশে জেএল- ৬৭, আরএস- ১০৩৯, এস এ – ৪৬৬, ৪৫৬ ; সর্বমোট ১২ শতক ভূমি রয়েছে। সেখানে ৪টি দোকান কোঠা ভাড়া দেওয়া হয়েছে, সেখানে একটি দোকান গৃহ খালি ছিলো, সেটি তালা ভেঙে বিগত অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখে দখল করে এবং অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় সেখানে কিছু সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে অবৈধ ও অনৈতিক কাজে থাকে। যা আমাদের পরিবারের মানসম্মানের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং জনসমাজে লজ্জাজনক। আমার ভাই আপন তাকে এগুলো থেকে বিরত এবং সেখান থেকে সরে যেতে অনুরোধ করলে, তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। গত জুন মাসের ২৪ তারিখ, সে আরো গর্হিত কাজ করে এবং আরেকটি দোকানের তালা ভেঙে ফেলে, আমার ভাই থানায় অভিযোগ দিলে এসআই রোকন সেখানে যান এবং থানার মাধ্যমে তা সমাধান হয়।
এছাড়া আমার বসত ভিটায়, প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা বসবাস করে আসছি। কিন্তু, প্রায় ৬ মাস ধরে আবু শহীদ আব্দুল্লা গং উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। গত ১৫ অক্টোবর লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, আমার বৃদ্ধা নানী কিছুটা আহত হন এবং মনোকষ্ট পান। আমি নিরুপায় হয়ে ’’ জরুরী সেবা নম্বর – ৯৯৯’’ এ ফোন দিলে পুলিশ নিয়ন্ত্রনে আনে। এ অবস্থায় আমরা সার্বক্ষণিক জান ও মালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট লিখিত আর্জি জানাই। এছাড়া, আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনের সর্বস্তরে নিরাপত্তা ঘাটতির কথা উল্লেখ করে শ্রীমঙ্গল থানায় জিডি করি। এছাড়া, আমরা লক্ষ করি যে, স্থানীয় থানা পুলিশও এ ব্যাপারে কিছুটা বিব্রত বোধ করে এবং বিষয়টি আমাদের পারিবারিক ব্যাপার উল্লেখ করে তা আলোচনাক্রমে মিটিয়ে ফেলার দিকে ইঙ্গিত করে, সে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আমরা পুলিশেরই আরেকটি ইউনিট, এলিট বাহিনী র‌্যাপিড আ্যকশন ব্যাটালিয়ান, সিপিসি – ২ ( র‌্যাব – ৯ ), অধিনায়ক বরাবরে অবগতি ও আইনগত ব্যবস্থার নিমিত্তে একটি অভিযোগ দাখিল করি।

আপনারা বিশ্বাস করেন, আমরা নির্ভেজাল মানুষ। কোনও ঝামেলায় জড়ানোর ইচ্ছা আমাদের নাই। কিন্তু, ন্যায্যতা প্রতিষ্টার লড়াইয়ে আমরা ইস্পাত কঠিন এবং তা জীবন দিয়ে হলেও সমাজে প্রতিষ্টিত করতে বদ্ধপরিকর। আমাদের বিরুদ্ধাচরণে এবং অন্যায়ভাবে হক কেড়ে নেওয়ার পায়তারাকারীরা আমাদের আত্মীয় এবং অনেকেই আমাদের বড় এবং শ্রদ্ধার জায়গা কিন্তু তারা তাদের সে জায়গাটুকু আমাদের কাছে লোভের বশবর্তী হয়ে তিল তিল কওে নষ্ট করে দিচ্ছেন। বিশ্বাস ও বিশ্বাসের দোলাচলে আজ আমরা। কাপুরুষতার পরিচয় দিয়ে হয়তো আমাদের জীবন নাশ করতে পারে তারা কিন্তু আমরা তাদেরকে জানিয়েছি, মহামান্য আদালত যদি ন্যায়বিচারে যুক্তিযুক্তভাবে নির্ধারন করে দিতে পারেন, তাদের পক্ষে তাহলে আমরা তা মেনে নেব। কিন্তু তাতেও তাদের আপত্তি। কারন, সেখানে তাদের পক্ষে যাবে না, আইন ও আদালত সত্য পথের পাথেয়। জোর প্রয়োগে এতিম ভাই-বোনের সম্পত্তি দখল কি শেখ হাসিনার বাংলাদেশে সম্ভব? আমরা মনে করি, তা সম্ভব নয়। আমরা নিজেদের বদান্যতা দেখিয়ে এবং পারিবারিক হৃদ্যতাপুর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে বিভিন্ন দফায় তাদেরকে প্রায় ২ কোটি টাকা নগদ প্রদান করেছি বিভিন্ন তারিখে। তবুও তাদের আর মন ভরে না। আমরা দুর্বল কিন্তু আমাদের পাশে আছেন আপনাদের অনেকেরই পরিচিত মুখ ও শ্রীমঙ্গলের সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ, আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের লড়াকু ছাত্রনেতা দেলোয়ার হোসেন রাহিদ, যিনি আমাদের মামা। এখানে তিনিও আছেন। আজ আমাদের পাশে থাকার জন্য, সত্য কথা বলার জন্য তার পরিবারও এদের, এমনকি নিজের জন্মদাতা পিতার অবিবেচনাপ্রসূত ও অমানবিক আচরণের শিকার। আজ তারও সবকিছু থেকেও যেন নেই। এ কেমন মানুষ, মনুষত্ব ও বিবেকবর্জিত এক একজন সম্পদ ও টাকার লোভে। মানুষের বয়স বাড়লে স্থিতধী হয়, বিবেচনাবোধ বাড়ে, ন্যায়পরায়নতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে উপরওয়ালার প্রিয় বান্দা হয়ে উঠতে চায়, অথচ আমাদের বিপক্ষে অবস্থানকারীরা এই পৌঢ় বয়সেও যা আচরণ করছেন আমাদের মতো সন্তানতুল্যদের সাথে তা কি আদৌ ভালো মানুষের কাজ, আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর নিকট প্রশ্ন রাখলাম। একটা প্রচ্ছন্ন মায়ার কারনে হয়তো আমরা কঠিন থেকে কঠিনতর হতে পারি না, বিবেক বাধা দেয় কিন্তু যে ফাঁটল তারা ধরিয়েছেন তা আর কখনো কোনওভাবেই প্রলেপযোগ্য নয়। আগেই বলেছিলাম তারা অনেক প্রভাবশালী, তাই তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণে বা বিরুদ্ধে গিয়ে উচিত কথা বা ন্যায়কথা বলতেও হয়তো অনেকেই চিন্তা করেন। সামাজিক ন্যায় বিচারের নামে ‘মায়ার আদালতে’ও বিচারের বাণী সবলের দিকেই ধাবিত হয় আবেগ বা অনুরোধে সুকৌশলে। আমার মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গের অনুরোধ বা তাদের একটা সমাধানের চেষ্টাকেও স্বাগত জানাই এবং জানিয়েছিলাম। কিন্তু, সেখানেও শুভংকরের ফাঁকি ! গত ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ইং তারিখে, শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে, ইউপি চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, সংশ্লিষ্ট সদস্য ও সদস্যা, বিশিষ্ট মুরুব্বিয়ান ইউসুফ আলী, পাবলিক প্রসিকিউটর ও উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি এ.এস.এম. আজাদুর রহমান, শ্রীমঙ্গল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছালেক আহমদ, জেলা পরিষদ সদস্য মশিউর রহমান রিপনও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ একটি সালিশি বৈঠক হয়। সেখানে আলোচনাক্রমে ধার্য হয় তাদেরকে সর্বমোট ৩২ লাখ টাকা প্রদানের জন্য। সেখানে ভুল দলিল নং উপস্থাপন করে বলা হয়, আপস বিল্বয় বাটোয়ারা মাধ্যমে আমরা উত্তরাধিকারী হয়েছি এবং কোনও প্রমাণ দখলে থাকা আব্দুল জব্বারের উত্তরাধিকারীগণ দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ভানুলাল রায় স্বাক্ষরিত একটি লিখিত বক্তব্য মারফত জানা যায় যে, উক্ত তারিখের সালিশের প্রেক্ষিতে কিছু সিদ্ধান্ত হয় যা এতদসঙ্গে রয়েছে। কিন্তু, অপরপক্ষ, চেয়ারম্যান কর্তৃক স্বাক্ষরিত কাগজে লেখার তোয়াক্কা না করে পুনরায় জোরপুর্ব্বক আমাদেরকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে। সে সময় পুলিশ প্রশাসন ও সুশীল সমাজকে জানালে তারা পারিবারিক বিষয় বিধায় কিছুটা ইতস্তত করলে সাথে সাথে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে সে যাত্রায় রক্ষা পাই আমরা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ঐ সালিশ সভার তারিখের আগেই আবু শহীদ আব্দুল্লাহ ও আব্দুস ছালাম বাদী হয়ে তিনটি পৃথক তারিখে ৩টি মামলা দায়ের করেন বাদী হয়ে যাহা সালিশে উপস্থিত মুরুব্বীয়ানগণ এবং আমাদেরকে অবহিত না করে বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন করে ছলচাতুরির আশ্রয় গ্রহণ করেন।

এমতাবস্থায়, আমরা আপনাদের সামনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরলাম এবং ধৈর্য্য ধরে তা শোনার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বক্তব্যে কোনপ্রকার ভূল-ত্রুটি থাকলে তা অনিচ্ছাকৃত সেজন্য আমরা আপনাদের নিকট বক্তব্যের স্বপক্ষে সকল প্রকার কাগজপত্রের ফটোকপি সংযোজন করলাম।

অতএব, আমাদের সনির্বন্ধ আবেদন থাকবে যে, বিষয়টি সম্মকভাবে পর্যালোচনা পূর্বক আপনাদের তরফ হতে সকল প্রকার সহযোগীতা প্রদান করবেন।”

নিরাপত্তাহীণতা ও হুমকির অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অাবু শহীদ অাব্দুল্লাহ বলেন, “সরাসরি সাক্ষাৎ করলে অাত্মপক্ষ সমর্থন সূচক পুরো বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হবে।”