আমি জীবনটাই দিলাম নাহয়: শিখ-গুরু সন্ত রাম সিং

প্রকাশিত: ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০২০

আমি জীবনটাই দিলাম নাহয়: শিখ-গুরু সন্ত রাম সিং

|| শতাব্দী দাস || কলকাতা (ভারত), ১৮ ডিসেম্বর ২০২০ : ভারতবর্ষ আশ্চর্য এক দেশ। এই মাটির প্রতিরোধও বড় বিচিত্র। শুধু যুক্তি-তর্ক, শুধু রণনীতি,শুধু বস্তুবাদ দিয়ে একে মেপে ফেলতে যতবারই চেয়েছি, থমকাতে হয়েছে।

কৃষি-আন্দোলন চলছিল, চলবে৷ কৃষি-অর্থনীতি নিয়ে আমরা আলোচনা করছিলাম। আলোচনা করছিলাম কর্পোরেট স্বার্থের প্রতি লেখা মোদীর দাস-খত নিয়ে৷ আমরা ছক কষছিলাম, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে আটকানোর মরণপণ লড়াইটা কীভাবে করা যায়। এসব আলোচনাই তো যুক্তিবাদিতার নিরিখে গ্রাহ্য।

ওদিকে দিল্লির কুন্ডলি বর্ডারের কাছে এক কৃষক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছিলেন এক শিখ ধর্মগুরু। পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে কথা বলছিলেন,বুঝতে চাইছিলেন সরকারের অনমনীয়তা। নেতাটি হলেন ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের গুরনাম সিং। আর শিখ ধর্মগুরুর নাম সন্ত রাম সিং।

তারপর শিখ-গুরু সন্ত রাম সিং বেরিয়ে গেলেন। নিজের গাড়িতে উঠলেন। একটি নোট লিখলেন। এবং নিজের পিস্তল থেকে নিজেকেই গুলি করলেন।

নোটে লেখা: ‘ সরকারের উপর রাগ আর কৃষকদের জন্য কষ্ট হচ্ছে….অন্যায় করা যেমন পাপ, অন্যায় সওয়াও পাপ…অনেকে পুরষ্কার ফেরাচ্ছেন, আমি জীবনটাই দিলাম নাহয়।’

এখন পর্যন্ত কৃষক আন্দোলনে শৈত্যপ্রবাহ, হৃদয় বিকলন, অসুখ ও দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কুড়ি ছাড়িয়েছে। কিন্তু এই বিশেষ মৃত্যুটি বিহ্বল করে দিয়ে গেল, কারণ যুক্তিতে এর ব্যাখ্যা মেলে না। রাম সিং কি পারতেন না বেঁচে থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে? রাম সিং কি চেয়েছিলেন মরে গিয়ে কৃষক আন্দোলনের সপক্ষে আরও বেশি আলোড়ন তুলতে? তেমনটা কি আদৌ হল? রাম সিং কি জানতেন না, এই বিজেপি সরকারের অসংবেদিতার তুলনা মেলা ভার?

সন্ত রাম সিং-এর আত্মহত্যায় বিজেপির কিছু যায় আসে না। কিন্তু আমাদের?