জমিসহ ঘর পেলেন শ্রীমঙ্গলের তিন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা শীলা, মনোয়ারা ও মায়া খাতুন

প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

জমিসহ ঘর পেলেন শ্রীমঙ্গলের তিন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা শীলা, মনোয়ারা ও মায়া খাতুন

সৈয়দ অারমান জামী, বিশেষ প্রতিনিধি || ২৫ জানুয়ারি ২০২১ : জমির মালিকানা দলিলাদি সহ ঘর পেলেন ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের তিন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা শীলা গুহ, মনোয়ারা বেগম ও মায়া খাতুন।

শ্রীমঙ্গলের এই তিন নারী মুক্তিযোদ্ধার কারোই এতদিন নিজের জমি-ঘর ছিল না। পরিবার নিয়ে ঘুরেছেন এক জায়গা থেকে অারেক জায়গায়। অবহেলা অনাদরে বাস্তুহারা যাযাবরের দুঃখের দিন শেষ হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদৌলতে। উপহার হিসেবে জমিসহ ঘর পেয়ে সম্মান ও মর্যাদার অাসনে অভিষিক্ত হলেন।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রায় ৭০ হাজার ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান করেছেন। ঠিক তেমনি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার এই তিন নারী মুক্তিযোদ্ধা পেলেন ঘর। মুক্তিযোদ্ধার সম্মানার্থে তাদের তিন জনের ঘরের রং করা হয়েছে লাল-সবুজ।

নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা শীলা গুহ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পালিয়ে বেড়িয়েছি। আমাদের ঘর বাড়ি কিছুই ছিল না। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছি। কষ্টে দিন কাটানোর পর পেলাম প্রধানমন্ত্রীর উপহার এই ঘর। শেষ বয়সে এসে মাথাগোঁজার ঠাই হলো।

এই তিন নারী মুক্তিযোদ্ধাসহ ১০০ পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তর করেন সরকারি অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি। বাকি ঘরগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুযোর্গ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় যুগ্ম সচিব এটিএম কামরুল ইসলাম তালুকদার, সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের প্রাক্তন তত্বাবধায়ক, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশান (বিএমএ) শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি ও উপজেলা অাওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা: হরিপদ রায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রেমসাগর হাজরা, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমেদ, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. আশরাফুজ্জামান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান প্রমুখ।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, “যাদের সীমাহীন আত্মত্যাগে স্বাধীন পতাকা পেয়েছি আমরা, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও তারা ভূমিহীন-গৃহহীন ছিলো- এটা আমাদের জন্য সীমাহীন লজ্জার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতায় জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রীমঙ্গলের ৩ জন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাকে ভূমি ও গৃহের মালিকানা দিতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে ৩০০টি পরিবারকে ২ শতক জায়গার উপরে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। আমরা ১০০টি ঘর আজ হস্তান্তর করেছি। বাকিগুলোর কাজ চলছে। দ্রুতই ঘরগুলো কাজ শেষ হবে।”

এ প্রকল্পের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান।
এ প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের প্রাক্তন তত্বাবধায়ক, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশান (বিএমএ) শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি ও উপজেলা অাওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা: হরিপদ রায় বলেন, মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে সারাদেশে ৯ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর প্রদান করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ৬৯ হাজার ৯০৪টি ঘর প্রদান করা হবে। একমাসের মধ্যে অারও ১ লাখ পরিবার ঘর পাবেন। এছাড়া ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি প্রকল্প গ্রামে ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে।

এ ধরনের মহতী উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে চা শ্রমিক সন্তান ও শ্রীমঙ্গল শহরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির পাইকারি প্রতিষ্ঠান ‘লাইট হাউস’-এর স্বত্বাধিকারী সুধীর চাষা বলেন, ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বাগানের চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার ভূমিহীন ও গৃহহীন রয়েছেন, তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় পুনর্বাসনের নানামুখী উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা সহ জমি ও গৃহ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণের দাবী করছি।”