ধর্ম যখন সন্ত্রাসীর হাতিয়ার-১৬: সন্ত্রাসীর মদতদাতা (১)

প্রকাশিত: ২:২৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২১

ধর্ম যখন সন্ত্রাসীর হাতিয়ার-১৬: সন্ত্রাসীর মদতদাতা (১)

||।। হাফিজ সরকার ||।। 

২৪ এপ্রিল ২০২১: বিগত শতকের শেষ দশক থেকেই ধর্মীয় সন্ত্রাস সারা বিশ্বের রাজনৈতিক বাতাবরণের কেন্দ্রীয় বিষয় হয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল মধ্য প্রাচ্যে উদ্ভাবিতমুসলিম মৌলবাদ। আমেরিকা সহ সমগ্র ইউরোপ ও এশিয়ার বিস্তির্ণ অঞ্চল মাঝে মাঝেই কেঁপেউঠছে এই সন্ত্রাসীদের ধামাকায়। কখনও মসজিদ, কখনও ব্যস্ত জনপদ, রেস্তোঁরা, অফিস থেকে শুরু করে এমনকিশিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিছুই বাদ যায় নি, এই ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদীদের
আক্রমণের হাত থেকে। মার্কিন নেতৃত্বে পশ্চীমী দুনিয়া একের পর এক মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আক্রমণ করেও এই সন্ত্রাসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নি। বরং মাঝেমাঝেই সাধারণ মানুষের ওপর হিংস্র আক্রমণ ও বহু মানুষের রক্তক্ষয় জানান দিচ্ছে এদের অস্তিত্ব। খোলাচোখে ধর্মের গোড়ামী অথবা একদল ধর্মান্ধের ক্ষমতা লোলুপতার মধ্যে আমরা এই বাড়বারন্ত মৌলবাদী কার্যকলাপের উৎসকে খুঁজতে চেষ্টা করি। এটাই অনেক সময় ঐ ধর্মালম্বীদের প্রতি বিদ্বেষ বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু আমরা ভাবি না যে আজকের আন্তর্জাতিক জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ধর্মের থেকেও পুঁজিবাদী ও সামান্ততান্ত্রিক দুনিয়ার অর্থনৈতিক স্বার্থ, সম্প্রসারণশীল মনোভাব, কূটনৈতিক রণকৌশল কখনও আপাত শত্রুকেও মিত্রে পরিণতকরছে। লোকচক্ষুর আড়ালে চলা এই অশুভ আঁতাত আজকের দুনিয়ায় প্রগতির পথে এক বড়বাধা। ধর্মীয় সন্ত্রাসের সেই আর্থ-রাজনৈতিক উৎস সন্ধানেই এই আলেখ্য।

ওয়াহাবী মতবাদঃ

আরব ভূখণ্ডে মুসলিম মৌলবাদের বিকাশের ক্ষেত্রে আমেরিকার ভূমিকা বঝুতে হ’লে প্রথমে আমাদের ওয়াহাবী মতবাদ সম্পর্কে কিছু ধারনা থাকা দরকার। ওহাবী বা অহাবী বা ওয়াহাবী একটি আরবি শব্দ। আল-আরবের নজদ (বর্তমান রিয়াদ) প্রদেশের মোহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাবের অথবা মুহম্মদ আব্দুল ওহাব আন নাজদী-র অনুগামীদের ওয়াহাবী বলে। এদের মতবাদের মুল হ’ল সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে নিজেদের শাসন কায়েম করা। সৌদি আরব এদের কর্মকাণ্ডের উৎসস্থল। তবে এরা নিজেদের আরবী না ব’লে সালাফি বলে পরিচয় দেয়। এদের এই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের ইতিহাস বহুদিনের। ওয়াহাবী সমর্থক-নেতা-কর্মীরা ১৮০৩ সাল হতে ১৮০৯ সাল পর্যন্ত হজ্জ বন্ধ করে রাখে । ১৮১৩ সাল পর্যন্ত তারা মক্কা শরীফ দখল করেরেখে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এভাবে তারা সিরিয়া, ইরাক,জর্ডান,ফিলিস্তিনের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা চালায় ব্রিটিশদের ও অন্যান্য অমুসলিমদের সহযোগীতায়।

জঙ্গী সুন্নীঃ

ওয়াহাবী মতবাদ অনেকগুলি কারণেই মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে পরে। এদের অনুগামীরা সনাতন প্রথার এতগোড়া সমর্থক যে তারা সমজে কোনো রকম প্রগতিশীল পরিবর্তন বরদাস্ত করে না। কাজেই তারা সমস্ত ধরণের সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে প্রতিহত করতে সক্রিয় থাকে। আবার এই ধরণের প্রগতিশীল আন্দোলন যেহেতু স্বাধীনতাকাঙ্খী হয় তা আমেরিকার পক্ষেও বিপজ্জনক। তবে এটা সত্যি যে ওয়াহাবীরা সুন্নী মুসলমানদেরও বৃহত্তর অংশের প্রতিনিধি নয়। ওয়াহাবীরা আসলে সুন্নী জঙ্গী গোষ্ঠী যারা শিয়া
সম্প্রদায়ের প্রতি নির্মম দৃষ্টি ভঙ্গী পোষন করে।

সৌদি আরবঃ

১৯৭৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত আমেরিকা আরব দেশে সাহায্য হিসেবে ৪৮ বিলিয়াল ডলার খরচ করে। ২০০২ সালে সংখ্যাটি বেড়ে হয় ৭০ বিলিয়ান ডলার।পরিসংখ্যানে কেবল সরকারি লেনদেন ধরা হয়েছে, ব্যক্তিস্তরে সংখ্যাটি অনেক বেশি। এর অনেকটাই যে ইসলামী জঙ্গীদের হাতে চলে যায় তা স্পষ্ট হয় যখন ১১ সেপ্টেম্বরের টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ঘটনার পর জঙ্গীদের কাছ থেকে ৫ মিলিয়ান মার্কিন ডলার উদ্ধার হয়। আর ইতিহাসের কী নির্মম পরিহাস; আক্রমণকারী জঙ্গীদের ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই ছিল আরবের নাগরিক। এছাড়া আফগানিস্থানে সোভিয়েত আগ্রাসণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময়ও মুজাহিদীনদের আরব-মার্কিন বাহিনী যৌথভাবে সাহায্য করে। সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ মদতে ১৯৮০ সালে হাজার যুবক পাক ভূখণ্ডে জঙ্গী প্রশিক্ষণ লাভ করে এবং তাদের আফগানিস্থানে রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে লড়তে পাঠানো হয়।
লক্ষ্য সোভিয়েত বাহিনী ৭০ দশকে রাশিয়া আমেরিকার কাছে সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু ছিল, মুসলিম র‍্যাডিক্যাল ততটা ভয়ের কারণ ছিল না। বরং সে সময় থেকে তারা র‍্যাডিক্যাল ইসলামদের জঙ্গী কার্যকলাপের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে। এই জঙ্গীদেরই বলা হয় মুজহিদীন যার বাংলায় অর্থ পবিত্র যোদ্ধা। ইউএসএসআর আফগানিস্থানে অভিযান করার পর সেখানে বহু এই ধরণের জঙ্গী গোষ্টীর জন্ম হয়। এদের লক্ষ্য ছিল আফগান মার্ক্সবাদী এবং সোভিয়েত বাহিনী। আমেরিকা এই আগ্রাসণকে
সোভিয়েত আধিপত্য বিস্তারের একটা পদক্ষেপ হিসেবে দেখে ও সিআইএ-কে কাজে লাগিয়ে তা প্রতিহত করার সর্বত চেষ্টা শুরু করে। সে সময় পাকিস্থানে অপারেশন সাইক্লোন-এ সাহায্য করার নামে অর্থ সাহায্য করতে থাকে যা মুলত জঙ্গী প্রশিক্ষণে কাজে লাগানো হয়। এই সম্পদে বলিয়ান মুজহিদীনরা পুর্ণ শক্তিতে জিহাদ শুরু করে। এই বিদ্রোহের অংশ হিসেবে বিল লাদেন প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেয় এবং তা পরবর্তীতে ভয়ঙ্কর জঙ্গী সংগঠন আল কায়দার সৃষ্টিতে সাহায্য করে। দীর্ঘ ধৈর্যশীল লড়াইয়ের পর মুজাহিদীনরা সাফল্য পায় এবং ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত বাহিনীকে আফগানিস্থান থেকে বিতাড়িত করে। এইভাবেই তালিবান, আল কায়দা ও মুসলিম ব্রাদারহুড প্রভৃতি জঙ্গী সংগঠনের জন্ম হয়।

নতুন বন্ধুঃ

২০০৩ সালে মার্কিন বাহিনীর ইরাক আক্রমণ যা জাতীয়তাবাদী চিন্তায় পুষ্ট এবং ধর্মনিরপেক্ষ ধারায় শাসিত সাদ্দাম হোসেন ( যিনি নিজে একজন সুন্নি) জামানার অবসান ঘটে। সেই সময় এই অঞ্চলে শিয়া অধিপত্য বিশিষ্ট ইরানের প্রভাব বাড়ে এবং ইরাকেও তাদের হাতে ক্ষমতা চলে আসে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কার্যাবলীতে ইরাক, বাহারিন, ইয়েমেন ও লেবাননের শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের আমেরিকার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যে বহুদিনের মিত্র ইজারেল ছাড়াও এই যৌথ স্বার্থকে কেন্দ্র করে নিপিড়িত সুন্নি গোষ্ঠী এবং তাদের জঙ্গী দলের সঙ্গে আমেরিকার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এটাই পরবর্তীতে ভয়ঙ্কর জঙ্গী সংগঠন আইসিস-কে আমেরিকার মদত দেওয়ার প্রেক্ষাপট রচনা করে।বিশেষ করে সিরিয়ার রাজনীতির প্রেক্ষিতে এই মদত দান এখনও গুরুত্বপুর্ণ হয়ে আছে। সে কথা পরে আলোচনা করা যাবে।

আল কায়দাঃ

আফগানিস্থানে লড়াই করা জঙ্গী মুজাহিদীনদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম ওসামা বিন লাদেন, এক আরব ধনকুবের ব্যবসায়ীর সন্তান। আল কায়দা হল তাঁর সৃষ্ট , সুন্নী মুসলমানদের একটি জঙ্গী সংস্থা যার শাখা ছড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ১৯৮৮ সালে ওসামা বিন লাদেন,আবদুল্লা আজম ও অন্যান্য মুজাহিদীন যারা আশির দশক ধরে আফগানিস্থানে সোভিয়েতআগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়েছে তাদের একটা অংশ আল কায়দা তৈরি করেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জিগিনিউ ব্রিজেজিনস্কি ১৯৭৯ সালে আফগানিস্থান সফরের সময় বিল লাদেনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
মুজাহিদীনদের প্রতি তাঁর উপদেশ ছিল, “আল্লাহ-র প্রতি তোমাদের গভীর বিশ্বাসের কথা আমার জানা এবং তাই বলাযায় তোমরা সাফল্যপাবেই। এই দেশের জমি তোমাদের, লড়াই ক্রমশ প্রবল হবে এবং একদিন না একদিন তোমরা তোমাদের বাড়ি, মসজিদ ফিরে পাবে। কারণ তোমাদের কাজ সঠিক লক্ষ্যে ধাবিত ও আল্লহ তোমাদের সঙ্গে আছেন”।
* প্রাক্তন ব্রিটিশ বিদেশ সচিব, রবিন কুক বলেছেন, “বিন লাদেন আসলে পশ্চিমী নিরাপত্তাসংস্থার পাহাড় প্রমাণ ভুল অঙ্কের ফলাফল। সমগ্র আশির দশক জুডে সিআইএ তাঁর অস্ত্র জগিয়েছে এবং সৌদি আরব অর্থ সাহায্য করেছে যাতে আফগানিস্থানে রাশিয়ান আধিপত্যের বিরুদ্ধে জিহাদ জারি থাকে”।
* এ প্রসঙ্গে এবিসি নিউজ তার আলেখ্যে লিখেছে, “আশির দশকে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান জিহাদে যোগ দিতে বিল লাদেন তাঁর সুখের ঘর ছেড়ে বেড়িয়েছিলেন।এই লড়াইয়ে তাকে সাহায্য করেছিল আমেরিকা যূক্তরাষ্ট্র যারা সিআইএ-র মাধ্যমেআফগান প্রতিরোধে ৩ বিলিয়ান ডলার খরচ করেছিল”।

ঘটনা প্রবাহ:

১১ আগস্ট, ১৯৮৮ পাকিস্থানের পেশোয়ারে বিন লাদেন, জওয়াহিরি এবং ডা.ফাদল এর উপস্থতিতে এক মিটিংয়ে আল কায়দা স্থাপিত হয়। এই গোষ্ঠী বিপুল সৌদি সম্পদ, আজীবন মিশরীয় জঙ্গীর অভিজ্ঞতা, কায়রো বুদ্ধি জীবীর কাছ থেকে পাওয়া জিহাদের দার্শনিক ভিত্তিতে সমদ্ধৃ হয়ে ওঠে।
৭ আগস্ট, ১৯৯০ঃ
ইউএস বাহিনী প্রথম গালফ যুদ্ধের প্রস্তুতিতেসৌদি আরবে পৌঁছায়। সেই সময়বিন লাদেন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং
তার মুহাহিদীন বাহিনীকে সাদ্দাম হোসেনর রাজধানী রক্ষায় সাহায্যকরতে নিয়োগ করেন।
১৯৯১ সালেঃ
রাজ পরিবারের উপর প্রকাশ্যে আক্রমণ করার পর আরব ছেড়ে সুদানের পথে পাড়ি জমান যেখান থেকে তিনি পরবর্তী আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
১৯৯২ সালের ২৯ ডিসেম্বরঃ
আল কায়দার প্রথম বোমার আঘাতে লাদেনের গোল্ড মোহর হোটেলে দু’জন ব্যক্তির মৃত্যুৃ হয়।
২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ সালেঃ
তাদের আক্রমণের ব্যাপকতা পরিষ্কার হয়ে যায় যখন নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে (WTC) ৫০ কেজি বিস্ফোরকের আক্রমণে ১০০০ মানুষ আহত ও ৬ জন নিহত হয়।
১৯৯৩ সালের ৪ অক্টোবরঃ
সোমালিয়ায় ব্ল্যাক হক ডাউন-এর ঘটনায় ১৮ জন মার্কিন কর্মচারী মারা যায়।
১৯৯৪ সালেঃ
ডা. ফাদল জঙ্গী কার্যকলাপ থেকে নির্বাসন নেন। জাওয়াহিরিরও পতন ঘটে।
তবে আল কায়দার ঘাতক কার্যলাপের ভিত্তি হিসাবে ফাদলের পুস্তিকা গুলি থেকে যায়।
১৯৯৬ সালেঃ
বিন লাদেন আফগানিস্থানে এসে তখনকার তালিবান সরকারের প্রধান মোল্লাওমরের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি করেন।
১৯৯৭ সালেঃ
ইসলামিক গ্রুপ কাগজে কলমে হিংসার পথ ছেড়ে দিলেও জাওয়াহিরি তা বাঞ্চাল করতে মিশর আক্রমণের ছক কষে।ঐবছর ১৭ নভেম্বরঃ
সে দেশের লাক্সরে ৬২ মানুষবন্দুকবাজের হাতে মারা যায়।
২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ঃ
বিন লাদেন ফতোয়া জাড়ি করে যে মার্কিন নাগরিকেরা আল কায়দার নির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং মুসলমানদের তাদের মেরে সে কর্তব্য পূরণ করা উচিৎ।
৭ আগস্ট, ১৯৯৮ঃ
কেনিয়া ও তানজানিয়ার মার্কিন বিদেশ দপ্তরে আক্রমণের ফলে ২২৩ জনের মৃত্যুৃ হয়। এই সময় বোঝা যায় আল কায়দার আক্রমণের বৈশিষ্ট হচ্ছে এক সঙ্গে অনেক
জায়গায় আক্রমণ।
১৯৯৮ সালের ২০ আগস্টঃ
প্রথম ইউএস প্রতিআক্রমণ ঘটে সুদান এবং আফগানিস্থানের শিবিরে।
১২ অক্টোবর, ২০০০ঃ
USS Cole আদেনে নোঙ্গোর করার পর বিষ্ফোরক পূর্ণ একটি ভেসেল তাকে আঘাত করে। ফলে ১৭ নাবিক নিহত হয়।
১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ঃ
আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার,পেন্টাগনে আছড়ে পড়া বিমান হানায় ২,৯৭৪ জনের মৃত্যুৃ , ৬০০০ মানুষের আহত হয়
এবং ১০ বিলিয়ান ডলার সম্পত্তির ক্ষতি হয়।
২০০১ সালের অক্টোবরেঃ
ইউএস বাহিনী আফগানিস্থান আক্রমণ করে তালিবানদের ক্ষমতাচ্যুত করে।
নভেম্বর, ২০০১ আফগানিস্থানের তোরা বোরার যুদ্ধে বিন লাদেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
২০০২ সালের ১১ এপ্রিলঃ,
আল কায়দা তিউনেশিয়াতে আবার আক্রমণ শানায়।
২০০৩ সালের ২০ মার্চঃ
গণঘাতক মারণাস্ত্র রাখার অজুহাতে আমেরিকা সাদ্দাম হোসেনের ইরাক
আক্রমন করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত এবং পরবর্তীতেমৃত্যুৃদন্ড দেয়।
১২ মে, ২০০৩ সালেঃ.
রিয়াধে বিদেশী অধ্যুশিত এলাকা লক্ষ্য করে লাগাতার বোম নিক্ষেপ করে২৭ জন মানুষকে মারা হয়।
১৬ মে, ২০০৩ সালেঃ
কাশাব্লাঙ্কাতে আত্মঘাতী বোম মেরে ৪৫ জনকে হত্যা করা হয়।
২০ ডিসেম্বরঃ
তুরস্কে ব্রিটিশ নাগরিকদের আক্রমণ করে ২৭ জনকে মারা হয়।
১১ মার্চ, ২০০৪ সালেঃ
মাদ্রিদে আক্রমণের ফলে ১৯১ জনের মৃত্যুৃ ও ২০০০ জন আহত হয়।
২০০৫ সালের ৭ জুলাইঃ
ইউনাটেড কিংডমে (UK) মেট্রো এংঅন্যান্য পরিবহণ ব্যবস্থায়সিরিয়াল ব্লাস্টে ৫২ জন মারা যায়।

পরবর্তীতে আরও অনেক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তালিকা আর বিস্তারিত করতে চাইছি না।

(চলবে)