রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৮ বছর আজ :দাবি পূরণ হয়নি এখনো

প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২১

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৮ বছর আজ :দাবি পূরণ হয়নি এখনো

Manual1 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি || সাভার, ২৪ এপ্রিল ২০২১ : রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির আট বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে ধসে পড়েছিল নয়তলা ভবন রানা প্লাজা। এটি ছিল দেশের পোশাক শিল্পে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। ভবন ধসে প্রাণ হারান হাজারেরও বেশি মানুষ। যারা প্রাণে বেঁচে গেছেন, তারাও পঙ্গুত্ব নিয়ে কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন।

জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনসহ শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ বলছে, যাদের অবহেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, এই আট বছরেও তাদের শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোও এখনো যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায়নি।

তাদের দাবি, যাদের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, ভবন মালিক সোহেল রানাসহ তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া। আহত শ্রমিক ও নিহত শ্রমিকদের স্বজনদের পুনর্বাসন করা। শ্রমিকদের আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। রানা প্লাজার জায়গাটি অধিগ্রহণ করে শ্রমিকদের জন্যে হাসপাতাল নির্মাণ এবং ২৪ এপ্রিলকে ‘জাতীয় শ্রমিক শোক দিবস’ ঘোষণা করা।

Manual8 Ad Code

জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ জানায়, এর আগেও বর্ষপূর্তিতে ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সারাদেশে শ্রমিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করেছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও চলমান লকডাউনের কারণে এ বছর সেসব কর্মসূচি সীমিত পরিসরে করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন বলেন, ‘করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে জনসমাগম কমিয়ে এ বছর রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস পালন করা হচ্ছে। সকালে সাভারের আশুলিয়ার আঞ্চলিক শ্রমিক সংগঠনগুলো নিয়ে গড়ে তোলা “শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের” পক্ষ থেকে রানা প্লাজার অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। কর্মসূচিতে ১৮টি শ্রমিক সংগঠন অংশ নিয়েছে। প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ জন করে অংশগ্রহণ করেছে। এ ছাড়াও, আহত-নিহত শ্রমিকদের স্বজনরাও এতে অংশ নেন।’

‘মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর থেকেই আমরা বেশ কয়েকটি দাবিতে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস পালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছি। কিন্তু, এই আট বছরেও আমাদের দাবিগুলো পূরণ হয়নি’, যোগ করেন তিনি।

Manual3 Ad Code

রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘করোনা ও চলমান লকডাউনের কারণে রানা প্লাজার আহত শ্রমিক ও নিহত শ্রমিকদের পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। করোনাকালে তাদের সহযোগিতায় সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

Manual4 Ad Code

শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, ৭ বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত রানা প্লাজার বিচারকাজ শেষ হয়নি। প্রতিশ্রুতি মতো দেওয়া হয়নি শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় অনেক শ্রমিকের জীবন অন্ধকারে চলে গেছে। সরকার তাদের নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিলেও অনেক পরিবার এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা ভবন মালিক সোহেল রানার ফাঁসিসহ ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ