ধর্ম যখন সন্ত্রাসীর হাতিয়ার-১৭: সন্ত্রাসীর মদতদাতা (২)

প্রকাশিত: ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২১

ধর্ম যখন সন্ত্রাসীর হাতিয়ার-১৭: সন্ত্রাসীর মদতদাতা (২)

||।। হাফিজ সরকার ||।।

২৫ এপ্রিল ২০২১: আইসিস-এর উৎপত্তিঃ
আইসিস-এর উৎপত্তির ইতিহাস জানতে হ’লে বঝুতে হবে আমেরিকা সাদ্দাম হোসেনের ইরাককে পর্যদস্তু করার পর সেখানকার রাজনৈতিক সামজিক পরিস্থিতি। ২০০৩ সালের পর ইরাকে ক্ষমতায় আসে শিয়া সম্প্রদায়ের শাসক। এর আগে সাদ্দাম হোসেন ধর্ম নিরপেক্ষ উপায়ে সরকার চালাতেন বলে তাতে সংখ্যালঘু সুুন্নি সম্প্রদায়ের ভালো অংশ গ্রহণ ছিল। সাদ্দাম ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় তাঁর ওপর রুষ্ট শিয়ারা ক্ষমতা দখল করে। মার্কিন সেনা সাদ্দামের জমানার লোকেদের শত্রু হিসেবে দেখতে শুরু করে ও তারা অকথিত অত্যাচারের শিকার হয়।এছাড়া শিয়া শাসকদের প্রভাবে সুন্নি সম্প্রদায়ের যুবকদের মধ্যে প্রচুর সংখ্যক বেকার তৈরিহয়।২০০৬ সালে সুন্নি অধ্যুষিত ইরাকে ইসলামিক স্টেটের দাবিদার কয়েকটি ছোট গোষ্ঠী একত্রে জন্ম হয় আইএসআই। তার প্রতিষ্ঠাতা নেতা ছিলেন আবু-ওমর আল-বুগদাদি। সেই সময় তাদের হাতে না ছিল টাকা, না ছিল কর্মী নিয়োগের ক্ষমতা। প্রথম দিকে তারা মার্কিন সেনার সামান্য সমস্যা সৃষ্টি করে। ২০০৯ সালের পর তাদের কাজের অভিমুখ সিরিয়ার চলমান গৃহৃ যুদ্ধের দিকে ঘুরে যায়। সেই সময় সিরিয়াতে আল কায়দা এবং ফ্রি সিরিয়ান আর্মি (FSA) প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল।

ফ্রি সিরিয়ান আর্মিঃ

২০১৩ সালের জুন মাসেঃ
FSA-এর নর্দান জেনারেল প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রার্থনা করে। এর এক সপ্তাহের মধ্যে আমেরিকা, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক এবং ইজরায়েল FSA-কে অস্ত্র, অর্থ এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করতে সম্মত হয়। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রচার মাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পরে যে আমেরিকার গুপ্তচর বিভাগ CIA-র অর্থসাহায্যে এবং যোগাড় করা অস্ত্র সিরিয়ার বিদ্রোহীদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। এক বছরের মধ্যে এই অস্ত্রগুলোই আইসিস এর হাতে চলে যায়। ফ্রি সিরিয়ান আর্মি আসাদ সরকারকে উচ্ছেদের জন্য আমেরিকাকে সাহায্য করতেই এই অস্ত্র ভান্ডার নতুন তৈরি ইসলামিক গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দেয় এবং সেনা সরবরাহ শুরু হয়। এছাড়া ইরাকে মার্কিনীদের ছেড়ে যাওয়া সমরাস্ত্র ও সরঞ্জামও আইসিস-এর হাতে আসে।

তেলের বদলে অস্ত্রঃ

সেই সময়ে বহু ভিডিও বা ইন্টারনেট পোস্টিং-এ মার্কিন সমরাস্ত্রে সজ্জিত আইসিস বাহিনীদের দেখা যায়। ফলে এরা দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং ২০১৪ সালের জুন মাসে সিরিয়ার উত্তর অংশ দখল করে নেয়। এর ফলে আইসিস তেল বিক্রি করে প্রতিদিন ২০ লাখ ডলার রোজগার করতে থাকে। আর এই তেল কম দামে কিনে বদলে আমেরিকা অস্ত্র সাহায্য করতে থাকে আইসিসকে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার বন্ধু সিরিয়ান সরকারের অবসান।এ প্রসঙ্গে বায়ু সেনার প্রধান থমাস ম্যকিনারনি বলেন, “সিরিয়াতে আমরা … ভুল পক্ষকে সাহায্য করছি এবং ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সঠিক অংশকে সাহায্য করিনি। বেঙ্ঘাজি (লিবিয়ার শহর) থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রভান্ডার শেষ পর্যন্ত আইসিস-এর হাতে পৌঁছেছে। এইভাবে আমরা আইসিস তৈরিতে সাহায্য করেছি”।

লিবিয়ায় কূটনীতিঃ.

লিবিয়ান বিপ্লব ওবামার প্রথম বৈদেশিক অনুপ্রবেশ। ওবামার নেতৃত্বে লিবিয়াতে দেশের ভেতরে থাকা বিদ্রোহীদের হাতে পৌঁছেছে ২৫০ মিলিয়ান ডলার সাহায্য। এই বিদ্রোহকে আরব বসন্ত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং মানবিক কারণ দেখিয়ে ন্যাটোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। গদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সিআইই-র সক্রিয় ভূমিকা আজ আর গোপন নেই। লস এঞ্জেলেস টাইমস পত্রিকা প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী এটা স্পষ্ট যে ওবামাই লিবিয়ান সরকারের উপর বোমা বর্ষনের আদেশ দিয়েছিলেন। লিবিয়ান বিদ্রোহীরা পরে স্বীকার করে তাদের মধ্যে ইরাকে আল কায়দার যে অংশ সংযুক্ত শক্তিকে সাহায্য করেছিল, তারাও ছিল।

শেষমেশ আইসিসঃ

২০১১-র পর থেকে সিরিয়ান সরকারের সঙ্গে যুদ্ধরত সন্ত্রাসবাদীদের, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে তার সহযোগীরা বিলিয়ন ডলার ক্যাশ, যুদ্ধাস্ত্র , এমনকি যানবাহন সরবরাহ করতে থাকে। পশ্চিমী মাধ্যম এটা স্বীকার করলেও তাদের বক্তব্য ছিল যে তা মধ্যপন্থীদের হাতে পৌঁছচ্ছে। টানা তিন বছর ধরে এই তথাকথিত মধ্যবর্গীয়রা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশ সহ তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার ও জর্ডানের সাহায্য পেয়েছে। মার্কিন মদতে এই সাহায্যের পরিমাণ ক্রমশ বেড়েছে যা শেষমেশ পুষ্ট করেছে আইসিস-কে।

ভিডিও অদৃশঃ

২০১৪ সালের অক্টোবরে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায় যে সিরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর কোবাণিতে আমেরিকার বায়ু সেনার ফেলে যাওয়া বাক্স বাক্স অস্ত্র আইসিস জঙ্গীরা সংগ্রহ করছে। ভিডিওটি পরে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং মার্কিন সামারিক সুত্রে বলা হয় যে সেটি নাকি ভুল করে ফেলা হয়েছিল। ২৮ বান্ডল গ্রেনেড, মর্টার ও অন্যান্য অস্ত্র আসলে কুর্দিস যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে ফেলা হয়েছিল। ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী গল্পটি সন্দেহর উদ্রেক করে।
কারণ এলাকাটি ইসলামিক স্টেটের নিয়ন্ত্রণাধীন ও সাইট (Search for International
Terrorist Entities (SITE)-এর গোয়েন্দা বিভাগ দ্রুত ভিডিওটি সরিয়ে দেয়। এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় কারণ এরপরেও আইসিস অধিকৃত ইরাকের সালাহুদ্দিন প্রদেশের ইয়াত্রিব ও ব্যালাড জেলায় আকাশ পথে আমেরিকার অস্ত্রবর্ষন অব্যাহত থাকে। ইরাকে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী অভিযোগ করে সেই অস্ত্রও আইসিস-এর হাতে পৌঁছায়।

তেল সাম্রাজ্য ও মার্কিন স্বার্থঃ

এছাড়া আরেকটি স্বার্থ আমেরিকাকে সবসময়ই উদ্দীপ্ত করেছে তা হল তেল সাম্রাজ্যেআধিপত্য। সৌদি আরবে মার্কিন আগ্রাসন প্রথম পরিলক্ষিত হয় ১৯৩২ সালে যখন আরব স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি ক্যালোফোর্নয়ার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। এরপর থেকেই সোদি আরবেমার্কিন আধিপত্য বাড়তে থাকে।

লক্ষ্য পাইপ লাইনঃ

পারস্য উপসাগরের ধারে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সোদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক ঘাটি তৈরির পেছনেও একই উদ্দেশ্য কাজ করেছে। ২০০১ সালে আফগানিস্থানে তালিবানদের হটানোর পেছনেও অন্যতম গোপন অভিসন্ধি একটি অনুগতশাসন ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে তুর্কমেনিস্থান থেকে দক্ষিণে আফগানিস্থান হয়ে পাকিস্থানে আরব উপসাগর পর্যন্ত তেল ও গ্যাসের পাইপ লাইন রক্ষা করা সহজ হয়। ইউনোকাল কোম্পানি,সৌদি কোম্পানি ডেলটার সঙ্গে কাস্পিয়ান সাগর থেকে তুর্কমেনিস্থান- আফগানিস্থান- পাকিস্থান হয়ে ভারত মহাসাগরে (TAPI) প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে আসার প্রোজেক্ট তৈরিতে সাহায্যকরেছে।২০১৩ সালে তুর্কমেনিস্থানে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার আশা।এই কাজে সাফল্য আনতে আফগান যুদ্ধের পরেই সিআইএ তাজিক ও উজবেক গৃহযীদ্ধাদের মধ্যে ৭০ লাখ ইউএস ডলার বিলিয়ে দেয় এবং তাদের হয়ে বড় ধরণের বায়ু অভিযান করে।
এছাড়া সিআইএ কাজাক অয়েল বোর্ডের আধিকারিকদেরও হাত করে।

যুদ্ধেুর মাঝেও তেলে বুমঃ

গত ১০১৫ সালের অগাস্ট, সেপ্টেম্বর মাসে ইরাক থেকে আমদানী করা তেলে আমেরিকায় বন্যাহওয়ার যোগাড় হয়। ঐ সময় অপোরিশোধিত তেলের দাম কমে ৪০.০৬ ডলার প্রতি ব্যারেলে।নভেম্বরে দাম আরও ১২% কমে। এটা ঘটেছে এমন এক সময় যখন সিরিয়াতে আইসিস-এর বিরুদ্ধে মার্কিন-রুশ-ফরাসী বাহিনী বায়ু অভিযানে ব্যস্ত। সাধারণভাবে এই সময় তেলের দাম বাড়ার কথা। কিন্তু হলো ঠিক উল্টোটা। এই সময় আইসিস-এর সঙ্গে যুদ্ধ এবং সস্তা দাম সত্যেও ইরাক তার তেল উৎপাদনের গতি বাড়িয়ে দেয়। ইরাক একাই আন্তর্জাতিক বাজারে ৩ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানী করে। ওপেক অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের গতির দাঁড়ায় ১মিলিয়াল ব্যারেল/ প্রতিদিন। এই পর ঘটনাই হয়েছে মার্কিন প্রভাব ও স্বার্থে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে আমেরিকা ইরাক থেকে প্রতিদিন ৫,২১,০০০ ব্যারেল তেল আমদানী করে।

ইজরায়েলের মাধ্যমেঃ

২০১৫ সালের পর থেকেই ইজরায়েলের সাহায্যে আইসিস অধিকৃত অঞ্চলের বেআইনি তেল তুরস্কের পথে ইজরায়েলে পৌঁছতে থাকে। আল-আরবি আল-জাদিদ নামে ইউকে থেকেইংরেজিতে প্রকাশিত একটি পত্রিকাতে দেখা যায় কি করে সিরিয়া ও ইরাকে আইসিস ঘাটির বেআইনি তেল চোরাচালানকারিদের মাধ্যমে ইজরায়েলে পৌঁছায়। এরা তেল কিনে তা কুর্দিস্থান সরকারের কাছে বিক্রি করে তাতে লেবেল সেঁটে ঘুর পথে ইজরায়েলে চালান করে। ইজরায়েলেতেল শোধনের পরিকাঠামো দুর্বল হওয়ায় তা ভূমধ্য সাগরীয় দেশে বিক্রি করা হয় যেখানে তাআধা আইনি ব্যবস্থায় আসে। এই লেনদেন চলে মার্কিন ডলারে।
ইজারেয়েল আইসিস-এর চোরাই তেলের ৭৫% শতাংশই কিনে নেয় এবং তার বদলে আইসিসকে সমরাস্ত্র, যুদ্ধ সরঞ্জাম ও আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসায় খরচ বহন করে।

আইসিস-এর তেল আমেরিকার রাস্তায়ঃ

ইরাক অধ্যুষিত কুর্দিস্থানে কিরকুকযেখানে তেল পরিশোধন ও ব্যারেলজাত হয় বহু মার্কিন ও ব্রিটিশ কোম্পানি যেমন সেভরন, এক্সোন মোবিল, হেস, ম্যারাথন অয়েল, জেনেল এনার্জিপ্রভৃতি কাজ করে। এই কোম্পানিরা এই তেলের সঙ্গে গ্র্যাভাল, জল ও রাসায়নিক বাইন্ডার মিশিয়ে জেট ব্ল্যাক রঙে পরিবর্তন করে তাকে জেটের মাধ্যমে ফিলিডায়ালফিয়ার বিমান বন্দরে নিয়ে যায়। এইভাবে নিউইয়র্কের রাস্তায় হাজির হয় আইসিস-এর চোরাই তেল।

ইসলাম আতঙ্কঃ

আমেরিকার আরেকটি পরিকল্পিত কাজ হ’ল ভারতে ইসলামাতঙ্ক ও মুসলমানন বিদ্বেষ তৈরিকরা। উদ্দেশ্য সারা বিশ্বে ধর্মীয় বিভেদ বাড়িয়ে জাতীয় ঐক্য ভেঙ্গে দেওয়া ও হানাহানি বাড়িয়েযুদ্ধের আবহাওয়া বজায় রাখা।
# ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানদের বিপদ কাটছেই না। একে তো ডোনাল্ড ট্রাম্প নানা নীতিমালা তৈরি করে মুসলিমদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কঠিন করে তুলেছেন অন্যদিকে মার্কিনীদের মধ্যেও বাড়ছে মুসলিম বিদ্বেষ।

# সম্প্রতি এক জরিপে দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের। জরিপেদেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে গত বছরের তুলনায় মুসলমান বিদ্বেষী গোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। অতীতে মুসলিম বিদ্বেষী গোষ্ঠীর সংখ্যা ৩৪ থাকলেও বর্তমানে তা শতাধিকহয়ে গেছে।সাম্প্রতিক প্রকাশিত এক রিপোর্টে এ উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সার্দান প্রোভার্টি ‘ল’ সেন্টার। অন্যদিকেআমেরিকায় অবস্থিত হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রিপালবিকান হিন্দু কোয়ালিশন ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েছে।তারা আমেরিকার নেতৃত্বে সন্ত্রাস মোকাবিলা এবং ট্রাম্পের অন্যান্য পদক্ষেপকেসমর্থন করছে। ট্রাম্পও বলেছেন,”আমি ভারত ও হিন্দুদের খুব ভক্ত”। এইভাবেই এই উপমাহাদেশে ধর্মীয় বিভেদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে ইন্ধন যোগাচ্ছে আমেরিকা।

উপমহাদেশে বিভেদের বাতাবরণঃ

ভারতের প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্থান ও বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত। তাছাড়া এই দু’দেশেমুসলিম মৌবাদীদের দাপটও খুব বেশি। আগেই বলা হয়েছে তার পেছনে মার্কিন গোয়েন্দাসংস্থা সিআইএ-র মদত অব্যাহত। অন্যদিকে ভারত সরকার নিজের দেশে পাক বিদ্বেষছড়ানোর পাশাপাশি মুসলমান বিদ্বেষকেও উসকে দিচ্ছে। আমারা একটু গভীরভাবে চিন্তাকরলেই দেখব যে সমস্ত হিন্দু যেমন আধিপত্যবাদী নয় তেমন মুসলমান সমাজও সন্ত্রাসবাদী নয়। ইসলাম ধর্মেও সন্ত্রাসবাদের কথা নেই। ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের প্রতিনিধি বিজেপিসরকার, ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এদেশের পিছিয়ে পড়া এবং নানাভাবে নিপিড়িতমুসলমান সমাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে। আমরা জানি গত ১০০ বছরে এই উপমহাদেশের বুকেসংঘঠিত হয়েছে অনেকগুলি হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা যার শেষতমটি নরেন্দ্র মোদী, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকা কালীন সময়েগুজরাট দাঙ্গা। সমগ্র মুসলমান সমাজকে সন্ত্রাসবাদী আখ্যাদেওয়া এবং হিন্দু প্রভূত্বকে ভারতীয় সাংস্কৃতি বলে প্রচারের আড়ালে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ আবহাওয়াকে বিষাক্ত করে তোলার চেষ্টা চলছে।

মার্কিন তোষনঃ

বর্তমান মোদী সরকারের ওপর আমেরিকার প্রভাব কতটাতা বোঝা যায়, একের পর এক মার্কিন স্বার্থবাহী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে। অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগ, বিদেশে টাকা নিয়ে যাওয়ার ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি , ভারতের সেনা ঘাটিগুলিকে আমেরিকা কতৃক যে কোনও সময় ব্যবহারের চুক্তি এই মার্কিন বশ্যতার জ্বলন্ত প্রমাণ। নোট বাতিল ও ভারতবাসীকেডিজিট্যাল লেনদেনের মধ্যে যেতে বাধ্যকরা মার্কিন স্বার্থরক্ষার সর্বশেষ নিদর্শন। কাজেই ধর্মীয় বিভেদের মাধ্যমে জাতীয়তাকে বিভক্ত করার মার্কিন চক্রান্তকে ব্যর্থ করার সময় এসেছে।

সংগ্রহ ও সম্পাদনাঃ
হাফিজ সরকার।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ