এই ‘বাদশাহ’ বানায় কারা?

প্রকাশিত: ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২১

এই ‘বাদশাহ’ বানায় কারা?

মইন উদ্দিন হাসান শাহেদ || কক্সবাজার, ২৬ এপ্রিল ২০২১ : সকালে ঘুম থেকে ওঠে মোবাইল হাতে নিয়ে ফেসবুকে টু মারতেই ভেসে উঠলো কালের কন্ঠের একটি প্রতিবেদন। শিরোনামেই চোখ আটকে গেলো অন্ধকারের ‘বাদশা’ জাহাঙ্গীর।বেশ মজার তো- চোখ মুছে মুছে বিস্তারিত পড়া হলো। গা শিউরে ওঠার মতো কাহিনী। ঘটনা কী? এসব কি সরকারি দল বা প্রশাসনের কেউ জানতো না! এ ডাকাতের বাদশাই বিবরণ পড়তে গিয়ে মোগল সাম্রাজ্যের চতুর্থ সম্রাট নুরুদ্দীন মহম্মদ সেলিম বা বাদশা জাহাঙ্গীরের ইতিহাস মনে পড়লো। তিনি ১৬০৫ থেকে ১৬২৭ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেন। সম্রাট সেলিমের জাহাঙ্গীর নামটি রাজকীয়। এর ফার্সি অর্থ ‘বিশ্ব-বিজয়ী’।বাদশা জাহাঙ্গীরের পিতা বাদশা আকবর ছেলের এ নাম রাখার পেছনে নিশ্চয়ই বাদশাহি কোন কারণ রয়েছে।

সব মানুষের জীবনের পেছনে কোন লুকায়িত গল্প থাকে-এখন সে গল্পেই যায়। কথিত ‘বাদশা’ জাহাঙ্গীরের পিতা জাফরও নাকি ডাকাত ছিল।তিন দশক আগে ডাকাতি মামলায় সাজা কেটেছে।তারা বংশপরম্পরা ডাকাতিতে জড়িত।
সে ইতিহাস লিখে শেষ করার নয়।
কালের কন্ঠের প্রতিবেদন পড়ে জানা গেল পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড়ের মেম্বার জাহাঙ্গীর আলমের উত্থান কাহিনী। গত সপ্তায় একটি খুনের ঘটনার পর জাহাঙ্গীরের অন্ধকার জীবনের কাহিনী আলো ছড়ালো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী জাহাঙ্গীর মানুষের কাছে ভালো হয়ে যাওয়ার ওয়াদা করে মেম্বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভালো কথা-মানুষ তাঁর কথায় মজে গিয়ে তাকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। তা আমজনত বুঝে বা না বুঝে করতে পারে। কিন্তু সে আওয়ামীলীগের মতো একটি রাজনৈতিকদলের ওয়ার্ড় সভাপতি হলো কি করে? দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন,সে কাউন্সিলে সর্বাধিক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আহা রাজনীতি!তাহলে তো দলে তার জন্যে ভালোই গণতান্ত্রিক চর্চা হয়েছে! বিভিন্ন পর্যায়ে এরকম বিতর্কিত নেতা-কর্মীদের উত্থান নতুন নয়।কোন ঘটনা সামনে আসলেই তাদের নিয়ে মাতামাতি হয়,না হয় তারা তো বীরদর্পে সমাজে কর্তৃত্ব- নেতৃত্ব দিয়েই চলছে। তাই জাহাঙ্গীরের অতীত ইতিহাস যে আওয়ামীলীগের কর্তারা জানেন না-তা কিন্তু নয়।এদের কেন, কি কারণে প্রশ্রয় দেয়া হয় নেতা বানানো হয় মানু্ষের কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার।এখন এসব ডাকাত-লুঠেরাদের কাছে ত্যাগী ও জনবান্ধব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা হেরে যেতে বসেছে। রাজনীতি চরমভাবে কলুষিত হয়ে পড়েছে। তাই এসব অন্ধকারের ‘বাদশা’ বানানোর কারিগরদের মুখোশও উম্মোচিত হোক।