দক্ষিণবঙ্গের লোনাজলে তরমুজ চাষে সফলতা : কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় ৯ দফা দাবি

প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২১

দক্ষিণবঙ্গের লোনাজলে তরমুজ চাষে সফলতা : কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় ৯ দফা দাবি

বিশেষ প্রতিবেদন | ঢাকা, ২৮ এপ্রিল ২০২১: দক্ষিণবঙ্গের ফসলি জমি থেকে চিংড়ি চাষের লোনাজল হটিয়ে বিগত কয়েকবছর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো কোনো বছর প্রাকৃতিক দূর্যোগজনিত কারনও পর্যাপ্ত পরিমাণ খরিদ্দারের অভাবে কৃষকগণ খুব বেশী লাভবান হন নাই।কিন্তু বিগত বছর হতে ব্যাপক খরিদ্দারের আগমন ঘটায়, কৃষকগণ তরমুজে ভালো দাম পেয়েছিলেন। যদিও চাষের জমির পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল। চলমান বছরে কৃষকগণ খৃলনার দাকোপ উপজেলা, বটিয়াঘাটা উপজেলা ও পাইকগাছা উপজেলার কোনো কোনো এলাকায় ব্যাপক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এর মধ্যে দাকোপের অধিকাংশ জায়গায় তরমুজ চাষ হয়েছে।ইতোমধ্যে তরমুজ বিক্রয় শুরু হয়েছে।

বেপারীর সংখ্যাও অনেক। সরাসরি মাঠে ট্রাক নামছে। প্রতি বিঘা (.৩৩একর) গড় হিসাবে এক লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০/৭৫দিনের নিবিড় শ্রমপরিচর্যার ফসল তরমুজ। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১২-১৫ হাজার টাকা।অনেক নারী-পুরুষ শ্রমিকের তরমুজ চাষের সময় প্রয়োজন হয়। কয়েক হাজার শ্রমিক এই দুইমাস ধরে চাষের কাজ করেছে। বিঘা প্রতি খরচের বড় একটা অংশ এলাকার শ্রমিকেরা পায়। বিক্রয়কৃত তরমুজ পরিবহনে তোলার ক্ষেত্রেও বেশ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। এতে বোঝা যায় তরমুজ একটি শ্রমঘন চাষের ফসল। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে, স্থানীয় জাতীয় কৃষক সমিতি কৃষকদের সমস্যা সমাধানে ৯ দফা দাবি নির্ধারণ করেছেন এবং এই দাবিসমূহ উল্লেখপূর্বক ইউ এন ও বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে। যার অনুলিপি উপজেলা চেয়ারম্যান ও কৃষি কর্মকর্তাকে প্রদান করা হয়েছে এবং জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটিকে জ্ঞাত করানো হয়েছে। এরপরে ৯ দফা দাবিতে লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার ও হাটসভা করার কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয়েছে, স্থানীয়ভাবে এ আন্দোলনে কার্যক্রম করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে।
৯দফা দাবিসমূহঃ-
১)প্রত্যেক ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিবিড়ভাবে তরমুজ চাষীদের পাশে থাকতে হবে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে তৎপর থাকতে হবে।
২)তরমুজ চাষীদের তালিকা ও চাষ সংক্রান্ত সার্বিক তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
৩)সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে সঠিক বীজ সার ও কীটনাশক সরবরাহ করতে হবে।
৪)প্রয়োজনীয় সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৫)সরকার কর্তৃক সল্পমেয়াদী সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ প্রদান করতে হবে।
৬)দূর্যোগ জনিত ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের ক্ষতিপূরন দিতে হবে।
৭)তরমুজ বিক্রয়ের জন্য সরকার কর্তৃক প্রচার সংক্রান্ত সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
৮)তরমুজ বিক্রয়ের সময় পরিবহন ও বাজারজাত করনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।(হাটে, ঘাটে,পথে)
৯)উৎপাদিত অতিরিক্ত তরমুজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করতে (হিমায়িতকরন,প্রক্রিয়াজাতকরন ইত্যাদি)করার জন্য সরকার কর্তৃক পদক্ষেপগ্রহণ করতে হবে।