প্রতিশ্রুতি আছে পথনকশা নেই

প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২১

প্রতিশ্রুতি আছে পথনকশা নেই

* ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ছাড় * উপেক্ষিত গরিব-মধ্যবিত্তরা * করোনা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানেও সুখবর নেই

॥ || এম এইচ নাহিদ ||॥

“মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করার”-স্বপ্ন দেখে ’৭২-এ স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে তা ১০ ধারায় উল্লেখ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার ৫০ বছরে সেই স্বপ্ন পূরণের হিসাব মেলানোর মাহেন্দ্রক্ষণে উত্থাপিত হলো আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত নতুন বাজেট। সাধারণভাবে বিশাল অংকের বাজেট দেখে বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা মনে পড়লেও বাস্তবতার আলোকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন মেলে নি। উন্নয়ন যাত্রার তরী থেকে ছিটকে পড়া ৬ কোটি গরিবের ভাগ্য পরিবর্তনের দিক নির্দেশনা নেই দেশের ৫০তম বাজেটে। পাহাড়সম ধনী-গরিবের বৈষম্য কিভাবে নিশ্চিত হবে তার পরিকল্পনা নেই আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের অর্থমন্ত্রী আ ফ ম মুস্তফা কামালের তৃতীয় বাজেটে। ব্যবসায়ী দৃষ্টিতে গড়ে ওঠা কামাল সাহেব জাত ভাইদের কথায় ব্যবসায়ী বান্ধব বাজেট দিলেও করোনা মহামারীতে কর্মহীন নতুন আড়াই কোটি গরিবের জন্য কি করছেন তা উল্লেখ করেন নি। তিনি করোনা মোকাবিলা করে অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনে অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কিভাবে বাস্তবায়ন হবে-সে বিষয়টি বাজেটে পরিষ্কার বলেন নি। করোনার অভিঘাতে বিপর্যস্ত অর্থনীতির মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের হিসাব কষলেও কোভিডকালীন এই প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান কিভাবে হবে-তা হয়তো বলতে ভুলেই গেছেন। জীবন-জীবিকা রক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু তা রক্ষায় যে সবার আগে গরিব ও নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য ব্যবস্থা করা দরকার তা ভাবেন নি। অথচ ব্যবসায়ীদের কথা ঠিকই ভেবে কর ও ভ্যাটে ব্যাপক ছাড় দিয়েছেন। জোরালো পদক্ষেপ নেই মধ্যবিত্তের জন্য। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়লেও পরিস্থিতি বিবেচনায় তা খুব বেশি না। পুরো বাজেটে গত অর্থবছরে কী কী করেছেন তার বিশাল ফিরিস্তি থাকলেও সামনে কী করা হবে তার কোনো দিক নির্দেশনা নেই। আকারঅনুযায়ী রয়েছে বিশাল ঘাটতি। তাই অর্থনীতিবিদরা বলছেন, “এই বাজেট বাস্তবায়নই চ্যালেঞ্জ হবে।” শিক্ষাবিদরা বলছেন, “বাজেট শিল্প ও ব্যবসায়ী বান্ধব, শিক্ষাবান্ধব নয়। আর রাজনীতিবিদরা বলছেন, “এ বাজেট গণমুখী নয়।” প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিশ্রুতিতে ভরা থাকলেও নেই বাস্তবায়নের পথনকশা।

বাজেট মানেই জনতার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কি হচ্ছে! কি হতে পারে! কোন পণ্যের দাম বাড়বে? কোন পণ্যের দাম কমবে? সাথে সংসদে জমকালো আয়োজনে বাজেট অধিবেশন। কিন্তু এবার মহামারী করোনার কারণে ৩ জুন জাতীয় সংসদে নিরবেই উত্থাপিত হলো ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল তৃতীয়বারের মতো পেশ করলেন ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট। প্রস্তাবিত এই বিশাল বাজেটের আয়ের উৎস হিসেবে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভুত কর ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং কর বহির্ভুত খাত থেকে আসবে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। তারপরেও ধার্যকৃত বাজেটে ঘাটতি থাকবে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করা হবে বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ থেকে। বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। অবশ্য এর মধ্যে অনুদান রয়েছে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। বাকিটা ঋণ হিসেবে নিতে হবে। আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সংগৃহিত হবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা আর সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য খাত থেকে আসবে ৩৭ হাজার কোটি টাকা। ঋণের জন্য সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ করা হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।

“জীবন-জীবিকার প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ”-শিরোনামে পেশকৃত বাজেটের অর্থ জনপ্রশাসনে ব্যয় করা হবে ১৮.৭ শতাংশ। এরপর শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে ১৫.৭%, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ১১.৯%, সুদ বাবদ ১১.৪%, স্থানীয় সরকার ৭%, প্রতিরক্ষা ৬.২%, সামাজিক সুরক্ষায় ৫.৭%, কৃষিতে ৫.৩%, স্বাস্থ্যে ৫.৪%, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় ৪.৮%, জ¦ালানি ও বিদ্যুতে ৪.৫%, গৃহায়নে ১.১%, বিনোদন-সংস্কৃতি ও ধর্মে ০.৮%, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবায় ০.৭% এবং বিবিধতে ০.৮% ব্যয় করা হবে। ব্যয় বরাদ্দের খাত অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে জনপ্রশাসন খাতে। টাকার অংকে এ খাতে বরাদ্দ ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শিক্ষা ও প্রযুক্তিখাতে বরাদ্দ ৮৫ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। শিক্ষায় বরাদ্দ কতটা যতেষ্ঠ হয়েছে সে বিশ্লেষণের আগে এই বাজেটে অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসন এবং গরিব মানুষের মুক্তির ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা।

মুস্তফা কামাল তার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ বক্তব্যে বলেছেন,“ করোনা ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোকাবিলায় জীবন ও জীবিকাকে প্রাধান্য দিয়ে অর্থনীতিেেক পুনর্গঠনের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করবে এ বাজেট।” বলেছেন,“ এবারের বাজেট হবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি সবার বাজেট। সমাজের সব শ্রেণির মানুষেকে প্রাধান্য দিয়ে এই বাজেট করা হয়েছে।” তার এই বক্তব্যের সাথে বাজেটে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সুবিধার মিল পেলেও সমাজের গরিব ও মধ্যবিত্তের ক্ষেত্রে কোনো মিল পান নি অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদরা। করোনার অভিঘাতে দেশে গত ১ বছরে কত মানুষ কর্মহীন হয়েছেন বাজেটের কোথাও তা স্বীকার করা হয় নি। কত মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছেন তাও উল্লেখ নেই। অথচ বেসরকারি গবেষণা অনুযায়ী দেশে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছেন। পূর্বের গরিব সহ দেশে মোট গরিব এখন ৬ কোটি। দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন ৪২ শতাংশ মানুষ। এসব কিভাবে নিরসন করা হবে তার কোনো পরিকল্পনা না দিয়েই অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে তিনি নাকি দারিদ্র্যের হার ১২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অতিদরিদ্রের হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনবেন। কিন্তু কিভাবে আনবেন তা তিনি বলেন নি। এমনকি দরিদ্রদের সহায়তায় বাছাই এবং সহায়তার কৌশল নিয়েও কোনো আলোকপাত করেন নি। ‘করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাজেটে করপোরেট সেক্টরকে গুরুত্ব দিলেও দরিদ্র ও করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের বিষয়ে কোনো নজর নেই। সামাজিক সুরক্ষা ও জীবন-জীবিকা রক্ষার কথা বলা হয়েছে। তবে কিভাবে বাস্তবায়ন হবে তার পরিকল্পনা নেই। কর্মসংস্থানের কথা বলেছেন। কিন্তু কিভাবে হবে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের কি হবে সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেই। সামাজিক নিরাপত্তাখাতে ১ লাখ ৭ হাজার ৩১৪ কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের মধ্যে সরকারি চাকুরিজীবীদের পেনশন, সঞ্চয়ের সুদ পরিশোধ, ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তি এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা বাদ দিলে সামাজিক সুরক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিমাণ খুবই কম। গত অর্থ বছরের বরাদ্দ খরচ করার পরেও ৪৬ শতাংশ মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর বাইরে আছেন। ফলে এ বরাদ্দ দিয়ে নতুন গরিব মানুষের এই খাত থেকে অর্থ পাওয়ার কোনো সুযোগই থাকছে না। নেই গরিব মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিশা। আবার বড় ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়া হলেও বিপাকে পড়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। মধ্যবিত্তরা সংসার এখনই চালাচ্ছেন সঞ্চয় ভেঙে। প্রবাসীরা ছুটিতে এসে আটকা পড়েছেন। নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতির চাপে মধ্যবিত্তরা এখনই পিষ্ট। এরই মধ্যে পরিবহন ভাড়া বাড়ার আভাস দেওয়া হয়েছে। পরিবহন ভাড়া বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাবে। ফলে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষেরও বাজেটে সুখবর নেই।

কিন্তু ব্যবসায়ী বান্ধব অর্থমন্ত্রী ঠিকই ব্যবসায়ীদের কথা রেখেছেন। তিনি ব্যবসায়ীদের কর ও ভ্যাটে ব্যাপক ছাড় দিয়েছেন। ভ্যাট ফাঁকি ব্যবসায়ীরাই দেয়। অথচ এবার ভ্যাট ফাঁকিতে জরিমানা কমিয়েছে। বাজেটে শর্ত সাপেক্ষে কিছু উৎপাদন কোম্পানিকে ১০ বছর মেয়াদে এবং আরো কিছু শর্ত সাপেক্ষে আরো ১০ বছর কর অব্যহতির প্রস্তাব করেছেন। দিতে চেয়েছেন কর অবকাশ সুবিধা। বিভিন্ন খাতে চলমান ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। আমদানির ক্ষেত্রে কমিয়েছেন উৎস কর। ব্যবসার বিভিন্ন জটিলতা দূর করতে কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাবও করেছেন। কালোটাকা সাদা করার অবাধ সুযোগ না দিলেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ও জরিমানা দিয়ে ফ্লাট, প্লট কিংবা অ্যাপার্টমেন্ট কিনে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ বহাল রেখেছেন।
অন্যদিকে ব্যক্তি পর্যায়ে কর কমান নি। বরং টিনধারীদের খুঁজে বের করার মধ্যদিয়ে ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

করোনা মোকাবিলায় ১০ হাজার টাকা থোক বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু কোভিড প্রতিরোধে দৃশ্যমান ও উদ্ভাবনী পরিকল্পনা বাজেটে নেই। করোনার প্রথম ধাপ কিভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে সেই ফিরিস্তি দেওয়া হলেও এবারও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবং সামনে তৃতীয় ঢেউ প্রসঙ্গে কিছু বলা হয় নি। আবার করোনা মোকাবেলায় কত হাসপাতাল হবে, কি পরিমাণ আইসিইউ বেড বাড়বে স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ও প্রশিক্ষণ কেমন হবে তা বলা হয় নি। ফলে কোভিড মোকাবিলায় তেমন গুরুত্ব পরিলক্ষিত হয় নাই। অন্যদিকে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপি’র ২ শতাংশ বরাদ্দের দাবি থাকলেও এ খাতে বরাদ্দ ১ শতাংশের নিচেই রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় জীবন রক্ষার কৌশল অবলম্বনের পাশাপাশি শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষাখাতে শিক্ষাবিদদের মোট বাজেটের ২০ শতাংশের দাবিকে উপেক্ষা করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা-এই চার মন্ত্রণালয় মিলে বরাদ্দ দিয়েছেন ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রযুক্তি বাদ দিলে শিক্ষায় বরাদ্দের পরিমাণ খুবই কম। শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও নেই। শিক্ষার কার্যক্রম চালু করতে কী কী পদক্ষেপ থাকবে, স্কুলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর জন্য কোনো বরাদ্দ নতুন বাজেটে আছে কিনা তারও স্পষ্ট বক্তব্য নেই। স্বাস্থ্যে মোট বাজেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হলেও তা শিক্ষায় কতটা কাজে লাগবে সেটাই প্রশ্ন। শিক্ষাবিদরা বলছেন, আগামী বাজেট ব্যবসা সহায়ক হলেও এটি শিক্ষা সহায়ক হয় নি। করোনায় শিক্ষার যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থ দিয়ে মোচন সম্ভব নয়। শিক্ষার ক্ষতি পূরণে কোনো পরিকল্পনা করা হয় নি।’

ফলে সামগ্রীক বাজেট বিশ্লেষণে অর্থনীতিবিদ এবং রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা বলছেন এই বাজেট ব্যবসায়ী ও শিল্পবান্ধব হলে এখানে করোনা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গরিব-মধ্যত্তিরা উপেক্ষিত হয়েছে। বাজেটে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হলেও অর্থনৈতিক বৈষম্য জিইয়ে রেখে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে! গরিব-মধ্যবিত্তদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে না। পূরণ হবে না বঙ্গবন্ধু’র ‘ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা’র স্বপ্ন।

লেখক: সাবেক ছাত্র নেতা।