রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মস্কোকে ত্রিপক্ষীয়ভাবে কাজ করার প্রস্তাব ঢাকার

প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২১

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মস্কোকে ত্রিপক্ষীয়ভাবে কাজ করার প্রস্তাব ঢাকার

ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২১: রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মস্কোকে বাংলাদেশ, রাশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা গ্রহণের পর ঢাকা, বেইজিং ও নেপিডোর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা থেমে যায়।
শুক্রবার তাশখন্দে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সাইডলাইনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এ প্রস্তাব দেন।
ড. মোমেন আজ তার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার উজবেকিস্তান সফরের ফলাফল শেয়ার করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি তাকে (লাভরভ) বলেছি যে আপনি (রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে) ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ নিতে পারেন… তাদের সাথে (মিয়ানমার) আপনার সুসম্পর্ক রয়েছে … আপনি যদি বলেন, তারা শুনবে।’
মোমেন বলেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকার প্রস্তাবটি এ মুহূর্তে গ্রহণ না করলেও তিনি এ উদ্যোগ নিয়ে অন্যদের সাথে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া সবসময় ঢাকাকে সঙ্কট নিরসনে মিয়ানমারের সাথে দ্বিপক্ষীয়ভাবে কাজ করার থাকার পরামর্শ দেয়। তবে ‘আমি তাকে বলেছি যে আমরা দ্বিপক্ষীয়ভাবে অনেক চেষ্টা করেছি এমনকি চীনকে সম্পৃক্ত করে ত্রিপক্ষীয়ভাবেও। কিন্তু গত চার বছরে একজনও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করা যায়নি।’
ড. মোমেন বলেন, মস্কো ও বেইজিং উভয়েরই নেপিডোর সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে। তাই তিনি জানিয়েছেন ঢাকা আশা করছে যে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে রাশিয়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মধ্যস্থতা করবে।
সম্প্রতি মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মস্কো সফর করেছেন এবং দু’দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মোমেন বলেন, সম্প্রতি জাতিসংঘে ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ সংক্রান্ত প্রস্তাব গ্রহণকালে রাশিয়া ও চীন প্রথমবারের মত তাদের সমর্থন দিয়েছে।
জাতিসংঘে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সর্বসমমতিক্রমে প্রস্তাব গৃহীত হওয়াকে একটি একটি বড় মাইলফলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি অর্জন, এটি একটি পরিবর্তন।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মিয়ানমারের নতুন সামরিক সরকার অভ্যন্তরীণ ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত থাকায় চীনা পক্ষ ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আবার শুরুর ব্যাপারে এখনও মিয়ানমারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি।
বৈঠককালে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের পাঠানো সদয় বার্তার জন্য তার ধন্যবাদ জানান।
মোমেন বলেছেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মস্কো যেমন সহায়তা করেছিল তেমনিভাবে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে রাশিয়া সবময় প্রস্তুত রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৫ থেকে ১৬ জুলাই তাশখন্দে অনুষ্ঠিত ‘মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া: আঞ্চলিক যোগাযোগ, চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেয়ার পর আজ সকালে দেশে ফিরে আসেন।