এখন থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতিতে যেতে চায় আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১

এখন থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতিতে যেতে চায় আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনও ২ বছরের বেশি সময় রয়েছে। দীর্ঘ সময় হাতে রেখেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২১) গণভবনে আয়োজিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইশতেহার প্রণয়ন কাজ এগিয়ে নেয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে অংশ নেয়া একাদিক নেতা বলেন, বৈঠকে সাংগঠনিক আলোচনার পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাহী কমিটির নেতাদের বক্তব্য শুনে প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দেন সভানেত্রী।

সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের কাজের বিষয়ে বেশ কয়েকজন উপ-কমিটির সদস্য সচিবের বক্তব্য শুনেন সভানেত্রী। এরপর শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে সভা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম করে উপ-কমিটিগুলোকে ইশতেহার প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিতে বলেন তিনি।

এছাড়া জনগনের কল্যানে ইশতেহারে কোন কোন বিষয় অর্ন্তভূক্ত করা যায় এবং কোন কোন বিষয়ে সংস্কার আনা যায় সেগুলো নিয়ে কাজ করতে বলেন সভাপতি। তিনি ইশতেহারের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন বলেও জানান বৈঠকে অংশ নেয়া একজন উপ-কমিটির সদস্য সচিব।

বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা, দলের বিভিন্ন পর্যায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন শেষ করা, নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ, দলীয় কোন্দল নিরসন, তৃণমূলে বিশৃঙ্খলা দূর করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

এছাড়া জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সরকার বিরোধী যে অপপ্রচার ও চক্রান্ত হচ্ছে, সে ব্যাপার সজাগ থাকার পাশাপাশি কঠোর জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে চক্রান্তমূলক সকল তৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করারও নির্দেশ দেন তিনি।

এক বছর পর দলের নির্বাহী কমিটির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যা চলে দীর্ঘ ৫ ঘন্টাব্যাপি। অংশ নেন অর্ধশতাধিক নেতা। নির্বাহী কমিটির বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হলেও মূল আলোচনা হয়েছে সাংগঠনিক বিষয়ে।

গত বছরের ৩ অক্টোবর নির্বাহী সংসদের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে আট সাংগঠনিক বিভাগের জন্য আট সাংগঠনিক টিম গঠন হয়েছিল। সর্বশেষ বৈঠকের পর থেকে বিগত এক বছরের সাংগঠনিক কাজের সার্বিক বিষয়ের তথ্য তুলে করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্গানাজিং সেক্রেটারিরা। তারা ইউনিয়ন ওয়ার্ড থেকে শুরু করে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন। একজন অর্গানাজিং সেক্রেটারি উপস্থিত না থাকায় তার পক্ষে প্রতিবেদন উত্থাপণ করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।

সভায় অংশ নেয়া নেতারা জানান, সাংগঠনিক বিষয়ে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো দ্রুত নিরসনের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। বিশেষ করে জরুরি সমস্যাগুলো আগে সমাধান করতে বলেন। এছাড়া যেসব এলাকায় কলহ-বিবাদ রয়েছে সেগুলোও মিমাংসা করার নির্দেশ দেন তিনি। তবে সভানেত্রী মেয়াদোত্তীর্ণ ৪২ সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিলেও কোন সময় বেধে দেননি বলেও জানা গেছে।

নির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, লম্বা বৈঠক হয়েছে। সভার মেইন ফোকাসটা ছিল সাংগঠনিক বিষয় এবং পরবর্তি (জাতীয়) নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়। তবে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের বিষয়ে কোন আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।