চট্টগ্রাম আদালতে বোমা হামলা : বোমা মিজানের মৃত্যুদন্ড ও জেএমবির জাবেদের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২১

চট্টগ্রাম আদালতে বোমা হামলা : বোমা মিজানের মৃত্যুদন্ড ও জেএমবির জাবেদের যাবজ্জীবন

চট্টগ্রাম, ০৩ অক্টোবর ২০২১ : ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবনে পুলিশ চেক পোস্টে আত্মঘাতী বোমা হামলা মামলায় জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজানের মৃত্যুদন্ড ও জেএমবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাবেক কমান্ডার জাবেদ ইকবালের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৩ অক্টোবর ২০২১) চট্টগ্রাম সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হালিমের আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার আরিফুল ইসলাম। রায় ঘোষণার সময় জাবেদকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছিল। আর জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান পলাতক রয়েছেন।
এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ রোববার সকাল থেকে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. ইউনুস বলেন, জাবেদ ইকবালকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ২ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন। আর জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজানকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই, উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার আরিফুল ইসলাম বলেন, রায়ে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। জাবেদকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো। কারণ জাবেদ হামলার পরিকল্পনাকারী এবং সহায়তাকারী।
তিনি বলেন, জাবেদ হামলার বিষয়ে নিজের সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। অপরাধের কথা স্বীকার করেছে, অনুতপ্ত হয়েছে। যে ঘটনায় দুইজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে ও অনেক মানুষ আহত হয়েছে সেই মামলায় জাবেদের মৃত্যুদন্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। যিনি নিজেই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাই তার যাবজ্জীবন প্রত্যাশা করি না। তার মৃত্যুদন্ড চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের পুলিশ চেক পোস্টের সামনে বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান পুলিশ কনস্টেবল রাজীব বড়ুয়া ও ফুটবলার শাহাবুদ্দীন। আহত হন পুলিশ কনস্টেবল আবু রায়হান, সামসুল কবির, রফিকুল ইসলাম, আবদুল মজিদসহ ১০ জন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বোমা হামলায় নিহতের ঘটনায় চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর ২০০৬ সালের ১৮ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্ত চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক পরিদর্শক হ্লা চিং প্রু জেএমবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ও বোমা তৈরির কারিগর জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্যে অন্য একটি মামলায় জেএমবির সাবেক প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই এবং জেএমবির সাবেক সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানির ফাঁসির আদেশ কার্যকর হওয়ায় তাদের মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
২০১৮ সালে চট্টগ্রাম সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলে মামলাটি ওই ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। একই বছরের ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রিসিভ করেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২১ সেপ্টেম্বর রায়ের জন্য ৩ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন আদালত।