গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

প্রকাশিত: ১২:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২১

গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৮ নভেম্বর ২০২১ : রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, মোহাম্মদ শাজাহান সিদ্দিকী, আব্দুল হামিদ শরীফ এবং নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চেয়ে গণমাধ্যমে নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ডিজেল এবং কেরোসিনের মূল্য ২৩% বৃদ্ধি করলে সড়ক ও নৌ-পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদের নামে ধর্মঘট শুরু করলেও সেটা ছিল মূলত তাদের গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট। কারণ গতকাল তারা সরকারের সাথে বৈঠকে জ্বালানী তেলের মূল্য কমানোর বিষয়ে আলোচনা করেননি, করেছেন ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে আলোচনা। উল্লেখ্য, সিএনজির মূল্য বৃদ্ধি না হলেও সিএনজি চালিত গণপরিবহনের মালিক-শ্রমিকরাও ধর্মঘট করেছেন। সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করেনি বা করতে চায়নি। হঠাৎ এই ধর্মঘটের কারণে দেশের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ভাড়া বৃদ্ধির দাবির প্রেক্ষাপটে সরকার গতকাল সড়ক পরিবহনের ভাড়া ২৭% এবং নৌ-পরিবহনের ভাড়া ৩৫% বৃদ্ধি করেছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জনগণের প্রতি সরকারের বৈরি আচরণ ছাড়া কিছুই নয়। ইতোমধ্যেই গণপরিবহনগুলো সরকার নির্ধারিত বর্ধিত ভাড়ার চেয়ে বেশি হারে প্রায় ৫০ শতাংশ হারে বর্ধিত ভাড়া আদায় শুরু করেছে। অথচ তদারকি বা মনিটরিংয়ের কেউ নেই।

Manual8 Ad Code

নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজধানীর গণপরিবহনসমূহের একটি রিবাট অংশ সিএনজি চালিত। এসব গণপরিবহনও বর্ধিত ভাড়া আদায় করছে। অথচ সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকায়। আমরা সবসময় দেখে আসছি, দেশে গণপরিবহন-সহ সকল ক্ষেত্রের অনিয়মরোধে বা নিয়ন্ত্রণে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ চটকদার বক্তৃতা ও বিবৃতির মধ্যেই থাকতে পছন্দ করেন। আর নির্মমতার জাতাকলে পিষ্ট হয় জনসাধারণ।

গতকালই সরকারের একজন মন্ত্রী বললেন, সিএনজি চালিত বাসের ভাড়া বাড়বে না। এখন কথা হলো, কোন বাস ডিজেল চালিত, কোন বাস সিএনজি চালিত-এটা যাত্রীসাধারণ বুঝবে কীভাবে? গণপরিবহনের গায়ে কি লেখা থাকবে? নাকি গাড়িতে ওঠার আগে যাত্রীদের নিজ দায়িত্বে গাড়ির নিচে তাকিয়ে সিলিন্ডার দেখে নিতে হবে? দায়িত্বশীলদের এমন কথাবার্তা খুবই কাণ্ডজ্ঞানহীন এবং বালখিল্যসুলভ।

Manual3 Ad Code

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে দেশে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধগতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ দুর্বিসহ অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। করোনার অভিঘাতে লক্ষ-লক্ষ মানুষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি হারিয়েছেন। আবার চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্য থাকলেও বহু মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে। দেশে নতুন করে ৩ কোটি ২৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়েছে। এই চরম দুর্দিনে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির ফলে দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য আরেক দফা বৃদ্ধি-সহ জীবনযাত্রার সর্বক্ষেত্রে ব্যয় বেড়ে যাবে, যা নতুন সংকট তৈরি করবে। মূলত দেশের মানুষের এই আর্থিক দুর্গতিকালে সরকার জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করে জনস্বার্থবিরোধী ভূমিকায় অবস্থান নিল। এটা কোনোভাবেই রাজনৈতিক দুরদর্শিতা বা পেশাদারি কাজ হলো না। সরকার সমস্যা তৈরি করে সমাধান দেয়ার চেষ্টা করল।

Manual3 Ad Code

উল্লেখ্য, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন যাবৎ লক্ষ্য করছে, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ‘পুলিশ পাস’ -এর নামে ঢাকার গণপরিবহনে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করছেন। অথচ অনেক বাস কোম্পানী ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া বা হাফ পাস গ্রহণ করে না। দরিদ্র ও অভাগা অনেক যাত্রী ভাড়া দিতে না পারলে পরিবহন শ্রমিকরা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন, মাঝপথে নামিয়ে দেন। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা জানতে চাই, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের এই ‘পুলিশ পাস’ কি অফিসিয়ালি অনুমোদিত? নাকি বিশেষ কারণে সুবিধা আদায় করার পদ্ধতি? বিষয়টি পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে জনমানসে বৈষম্যমূলক ধারণার সৃষ্টি করছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আর্থিক দুরবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে জ্বালানী তেলে ভর্তুকি দিয়ে হলেও গণপরিবহনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

Manual5 Ad Code