স্বৈরাচারবিরোধী ‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থান দিবস অাজ

প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২১

স্বৈরাচারবিরোধী ‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থান দিবস অাজ

ঐতিহাসিক প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ : স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র জনতার ‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থান দিবস অাজ। আমা‌দের জনগ‌ণের সুদীর্ঘ রাজ‌নৈ‌তিক সংগ্রা‌মের ইতিহা‌সে এক গৌর‌বোজ্জ্বল দিন। ১৯৯০ সা‌লের এ দিন‌টি‌তে উত্থাল, ঐ‌তিহা‌সিক গণঅভ্যুত্থা‌নের মু‌খে উদ্ধত সাম‌রিক স্বৈরশাসক খুনী এরশা‌দের পতন ঘ‌টে‌ছি‌লো।

১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ডা: শামসুল আলম খান মিলন হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ৯ বছরের সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র-গণআন্দোলন অপ্রতিরোধ্য গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিলো। ৪ ডিসেম্বর রাত ১০টার বিটিভি’র সংবাদে এরশাদের পদত্যাগের ঘোষণা প্রচারিত হয়েছিলো। রাতের নীরবতা ভেঙে তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিলো রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ।

বুর্জোয়াশ্রেণির অভ্যন্তরীণ আপোষ-সমঝোতার মধ্য দিয়ে এরশাদের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছিলো ৬ ডিসেম্বর। বুর্জোয়াশ্রেণির প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোও ৪ ডিসেম্বর জনগণের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের দিনটাকে আড়াল করে ৬ ডিসেম্বর ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ হিসেবে পালন করতে থাকে। কিন্তু, ১৯৯১ সাল থেকে ছাত্রসংগঠনগুলো ৪ ডিসেম্বরকে গণ-অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালন করতো।

এখন ছাত্র সংগঠনগুলোও আর ৪ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করে না। সে ইতিহাস, ছাত্র-জনতার সে ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান আজ বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাচ্ছে। ‘৯০-এর পতিত স্বৈরাচার এবং আজকের ক্ষমতাসীনরা এখন পরস্পর বন্ধু ও সহযোগী। তাই, পুরনো ইতিহাস চর্চা করে ক্ষমতাসীনরা বন্ধুকে বিব্রত করতে চায় না। কিন্তু, বামপন্থী রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোর উচিত, ছাত্র-জনতার গৌরবময় সংগ্রামের ইতিহাস বিস্মৃত হতে না দেয়া।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ