দেশেও ওমিক্রনে আক্রান্ত দু’জন: হেলাফেলা করলেই সর্বনাশ

প্রকাশিত: ১২:৪৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০২১

দেশেও ওমিক্রনে আক্রান্ত দু’জন: হেলাফেলা করলেই সর্বনাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১: মরণঘাতি করোনার থাবায় বিপর্যস্ত বিশ্ব যেমন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তেমনি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণপণ লড়াইয়ে ব্যস্ত বাংলাদেশ। করোনায় মৃত্যুর মিছিল থামার সাথে সাথে শনাক্তের সংখ্যাও কমেছে। কিন্তু নতুন করে বিশ্ববাসীকে চোখ রাঙাচ্ছে ‘ওমিক্রন’। নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তাও আবার মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে। বাংলাদেশেও দু’জন ওমিক্রণে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফলে দেশবাসীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে ওমিক্রণ। কিন্তু উৎকণ্ঠা বাড়লেও, মানুষের মধ্যে তেমন সচেতনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। করোনা কমার সাথে সাথে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আগ্রহও কমে গেছে। অথচ স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, ওমিক্রন প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

দানবীয় তাণ্ডব ছড়ানো ডেল্টার জন্ম হয়েছিল ভারতে, আর ওমিক্রণের জন্ম আফ্রিকার একটি দেশে। ডা. অ্যাঞ্জেলিক কুইটজি’র মাধ্যমে আবিষ্কার হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে এই নতুন ভ্যারিয়েন্টটি ইতোমধ্যে আফ্রিকা থেকে আমেরিকা, ইউরোপ থেকে এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ল্যাটিন আমেরিকা সহ গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ১১ নভেম্বর বাংলাদেশে দু’জন নারী ক্রিকেটের শরীরেও ওমিক্রন জীবাণু পাওয়া গেছে। তাদেরকে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। কিন্তু ইতোমধ্যে আক্রান্ত দেশ থেকে আসা অনেকের খোজ মিলছে না। প্রতিবেশি দেশ ভারতেও ৩২ জন ওমিক্রনে আক্রান্ত। ভাইরাসটির আবিষ্কারক অ্যাঞ্জেলিক কুইটজি বলেছেন, ওমিক্রন খুব বেশি ক্ষতি করতে পারবে না। আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়ি থেকেই চিকিৎসা নিতে পারবেন। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বলেছে, ওমিক্রন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। সে জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ক এই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা দুনিয়ার প্রতিটি দেশকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশ ওমিক্রন মোকাবেলায় বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রস্তুত করা হচ্ছে করোনা হাসপাতাল সহ দেশের সকল হাসপাতালকে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে লেজেগোবরে অবস্থা, তাতে ওমিক্রন মোকাবেলায় কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে সেটাই প্রশ্ন। ভাবনার বিষয় হলো যারা আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তারাও ওমিক্রনে আক্রান্ত হতে পারেন। এমনকি ডাবল ডোজ দেওয়া ব্যক্তিরা এ ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হতে পারেন। স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, ওমিক্রণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন কম বয়সী পুরুষরা। ভাইরাসটি ক্ষণে ক্ষণে রূপান্তরিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসের ধরণ ৫০ বার রূপান্তরিত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা এও বলেছেন, ওমিক্রন দ্রুত ছড়াতে পারে, এমনকি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও ভেদ করতে পারে। দিন যত যাচ্ছে ওমিক্রনের আতঙ্ক ততো বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ‘ওমিক্রন প্রতিরোধের জন্য টিকাই উত্তম সুরক্ষা।’ কিন্তু দুনিয়ার বড় বড় দেশগুলোই তো শতভাগ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পারে নাই। বাংলাদেশ তো টিকায় আরো পিছিয়ে আছে। ইতোমধ্যে ডাবল ডোজ টিকা নিয়েছেন ২ কোটি মানুষ। আর সিঙ্গেল ডোজ নিয়েছেন ২ কোটি মানুষ।
ফলে টিকা উত্তম সুরক্ষা হলেও বাংলাদেশে তা এখনো পর্যাপ্ত মানুষ গ্রহণ করেন নি। তাহলে ওমিক্রন থেকে বাঁচার উপায় কি?-এ প্রশ্নের উত্তরে বিশ্লেষকরা বলছেন, সবার আগে সীমান্ত বন্ধ করতে হবে। বিদেশ থেকে যেই আসুক, তাদের উপযুক্ত চিকিৎসা এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। আবার দেশি-বিদেশি স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, কেবল উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও টিকা নিলেই হবে না-মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাস্ক পড়তে হবে। এই কঠিন সময়ে মাস্ক-এর বিকল্প নেই।
কিন্তু বাংলাদেশে ধরেই নেওয়া হয়েছে এখানে করোনা নেই। শপিংমল, হাট-বাজার, বিনোদন স্পট, রাস্তাঘাটে যে পরিমাণ মানুষকে মাস্ক না পড়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখি-তাতে সামনে ভয়ঙ্কর বিপদ হতে পারে। সে বিপদ আসার আগেই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সর্বদা স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সামাজিকভাবে সচেতন থাকতে হবে।
মানুষ যেভাবে অবহেলায় কাটাচ্ছেন, তাতে করোনায় আবার বিপদ আসন্ন। রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। থাকলেও তা কপালে কিংবা থুতনিতে। ফলে ওমিক্রন মোকাবেলায় সরকারকে যেমন অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে, তেমনি সাধারণ মানুষকে ওমিক্রন প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আমরা আশা করব- অনীহা-অবহেলায় দেশবাসী দিন পার করবেন না। তারা সকলেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন, মাস্ক পরবেন এবং জনসমাগম থেকে দূরে থাকতে হবে। হেলাফেলা করবেন তো সর্বনাশ ডেকে আনবেন।