শহীদ ফারুকুজ্জামান ফারুকের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০২১

শহীদ ফারুকুজ্জামান ফারুকের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১ : মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজতন্ত্র অভিমুখী অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও শোষণ-বৈষম্যহীন উন্নত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী লড়াইয়ে শহীদ ফারুকুজ্জামান ফারুকের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

১৯৯০‘র ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার-সাম্প্রদায়িকতা-সন্ত্রাস-সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর এক দশক পূর্তির দিনে দশক জুড়ে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের একটা ফল আসলো- স্বৈরাচার এরশাদের পতন। এই সেনা নায়ক তার ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য সামরিক-বেসামরিক আমলা থেকে শুরু করে পথভ্রষ্ট রাজনীতিজীবীদেরকেও হাতে নিয়েছিলো। আর তার যোগ্য পূর্বসূরি জিয়ার মাধ্যমে পুনর্বাসিত হওয়া জামাত-ছাত্র সংঘ-শিবির তথা গো আযম গংদেরকে কখনো সরাসরি আবার কখনো পিছনের দরজা দিয়ে পৃষ্টপোষকতা করেছে এই এরশাদ। যার ফলশ্রুতিতে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাষ্ট্রের ধর্ম পরিচয়ও দিয়ে দেয়া হলো `রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম‘ বিল পাশের মধ্য দিয়ে।
শহীদ জামিল আকতার রতন তাঁর জীবন দিয়ে এই ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। শহীদ ফারুকুজ্জামান ফারুক ছিলেন শহীদ জামিলের সেই একই চেতনার সচেতন যোদ্ধা। ইসলামী ছাত্র শিবির ততদিনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘাপটি মেরে ঢুকে পড়েছে।
ব্রাহ্মনবাড়িয়ার হাওড় অঞ্চল থেকে উঠে আসা তরুণ ফারুকুজ্জামান ছিলেন ছাত্র মৈত্রীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি। ১৯৯০‘র ২২ ডিসেম্বর যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সম্মিলিত উদ্যোগে স্বৈরাচার পতনের আনন্দে বিজয় মিছিল বের হলো ঠিক তখন সেই মিছিলে হামলে পড়লো ঘাপটি মেরে থাকা সেই খুনি শিবির। মিছিলে অংশগ্রহনকারি শিক্ষিকাদের শারিরিকভাবে লাঞ্চিত হতে দেখে ছাত্রমৈত্রীর তরুণ যোদ্ধা ফারুকুজ্জামান সেই শিক্ষিকাদের রক্ষা করতে খালি হাতেই রুখে দাঁড়ায় সন্ত্রাসী শিবিরের গুন্ডাদের বিরুদ্ধে। শিবিরের ছোরা গুলি ও ধারালো অস্ত্রের বর্বরতায় মারাত্মকভাবে আহত হন ফারুক।
২৪ ডিসেম্বর ১৯৯০- শহীদ ফারুকুজ্জামান নিজের জীবন উৎসর্গ করে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান লড়াইকে প্রেরণা দিয়ে গেছেন।
এ লড়াইয়ের প্রতিটি মুহূর্তে তোমাকে মনে পড়ে ফারুক, মনে পড়ে হাওড় অঞ্চলে যেন পানিতে ভেসে না যায় তাই উঁচু করে বাঁধানো তোমার কবরের পাশে তোমার মায়ের নি:শব্দ কান্না। আজকের এই দিনে তোমাকে আরো বেশি করে মনে পড়লো। তোমার হত্যার বিচারতো হয়ইনি বরং তোমার হত্যাকারিরা এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। হয়তো কখনো এ বিচার হবেই না- তবে তোমার দেখিয়ে যাওয়া লড়াইয়ের পথ ধরে আমরা আজো আগুয়ান। এ দেশ থেকে ঐ জামাত-শিবির চক্রকে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক-সংস্কৃতিক ও আদর্শিকভাবে নির্মূল করেই তোমার হত্যার বিচার নেবো। শহীদ ফারুকুজ্জামান ফারুক লাল সালাম।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজতন্ত্র অভিমুখী অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও শোষণ-বৈষম্যহীন উন্নত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী লড়াইয়ে শহীদ ফারুকুজ্জামান ফারুকের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর ৩ মেয়াদের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ‘৯০-এর মহান গণ-অভ্যুত্থানের সংগঠক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।