মানবাধিকার দিবস এবং এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

প্রকাশিত: ১:১৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২২

মানবাধিকার দিবস এবং এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

সৈয়দ অামিরুজ্জামান |

মানবাধিকারের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ –

Journal of United Nation এ বলা হয়েছে যে, “The establishment of human rights provided the foundation upon which rests the political structure of human freedom. The achievement of human freedom generates the will as the capacity for economic and social progress, the attainment of economic and social progress provides the basic for true peace”.
জাতিসঙ্ঘের প্রাক্তন মহাসচিব উথান্ট এর বক্তব্য হতে বোঝা যায় যে মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষেত্রে প্রকৃত কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই মানবাধিকারের উদ্ভব। মানবাধিকার কথাটির ব্যবহার আজ থেকে প্রায় দু’শো থেকে তিনশো বছর আগে থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এর প্রকৃত ধারনা খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ২০০০ অব্দ হতে বিরাজ ছিল। ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর-এ Universal declaration of Human Rights এর মাধ্যমে মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করা হয় যা মানবাধিকারের ইতিহাসে এক বিশেষ মাইলফলক। প্রকৃতপক্ষে আজ থেকে প্রায় ১৪শ বছর পূর্বে আল্লাহ প্রদত্ত দীন ইসলাম অর্থাৎ মুহাম্মদ (সাঃ) কর্তৃক তা প্রণীত হয়েছিল। আজকের এই বিশ্বে মানবাধিকারের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সার্বজনীন। মানবাধিকার কি, তার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ নিয়ে নীচে আলোচনা করা হলঃ

মানবাধিকার কি
মানবাধিকার বা “Human Rights” কথাটি দুটি শব্দ তথা human ও rights নিয়ে গঠিত হয়েছে। এখানে অধিকার বলতে এমন সত্তা বা দাবিকে বুঝায় যা মানুষ কর্তৃক সংক্ষরিত। এ অধিকারের ব্যাপারে GilChrist বলেন, “Rights arise from the fact that man is a social being”.
FRW Times তার “Human Rights and Duties” Article এ বলেছেন, “Right is moral power of claim to receive something which is due through justice”.
আমরা এই অধিকারের সংজ্ঞা থেকে মানবাধিকারের সংজ্ঞা পাই।
আমরা মানবাধিকারের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলতে পারি যে, যেসকল মানুষ হিসেবে সকলের জন্য প্রযোজ্য তা হল মানবাধিকার।

ড. শফিক আহমেদ বলেছেন, “মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা, ক্ষমতার বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপনের জন্য একান্তভাবে প্রয়োজনীয় অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার”।

গাজী শামসুর রহমান বলেছেন, “সকল দেশের, সকল কালের,সকল মানুষের ন্যূনতম যে অধিকারসমূহ সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত, একেই বলা হয় মানবাধিকার”। (মানবাধিকার ভাষ্যঃ গাজী শামসুর রহমান, পৃষ্ঠা:৩৩)

Gaiues Ezjiofor বলেছেন, “মানবাধিকার হল সেসব অধিকারের আধুনিক নাম যাকে ঐতিহ্যগতভাবে অধিকার বলা হয় এবং নৈতিক অধিকার যা প্রত্যেক ব্যক্তি প্রতিটি স্থানে ও সার্বক্ষণিকভাবে এই কারণে পেয়ে থাকে, সে অনান্য সকল সৃষ্টির তুলনায় অধিক বোধশক্তি সম্পন্ন এবং নৈতিক গুণাবলীর অধিকারী। ন্যায়বিচার ছাড়া এসব অধিকার হতে মানুষকে দূরে রাখা যাবে না”।(Protection of Human Rights)

মোস্তাফা জামান ভুট্টো বলেন, “মানবাধিকার হল সেই অধিকার যা মানুষের সুস্থ্য, সুন্দর ও শান্তিময় জীবন-যাপনের নিশ্চয়তা দেয়”।

The New Encyclopedia Britannica তে বলা হয়েছে যে, “Rights thought to belong to individual under the natural law as a consequence of his being Human”.
তাহলে আমরা উপরের প্রামাণ্য সংজ্ঞাসমূহ হতে এ কথা নির্ধিধায় বলতে পারি যে, মানুষের যে সকল অধিকার সর্বজনীনভাবে স্বীকৃতিস্বরুপ আর যা যেকোন মানুষের জন্য খর্ব করা হলে পরে তা হবে চরম অন্যায়, সেই অধিকারসমূহ হল মানবাধিকার।

মানবাধিকারের কতিপয় দিকসমূহ
১. মানবাধিকার মানুষের মর্যাদার স্বীকৃতি দেয় এবং আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য পথ প্রদর্শনের নীতিমালা দেয়।
২. মানুষের জুলুম-অত্যাচার ও শক্তি প্রয়োগের হাত থেকে রক্ষা করে নিরাপত্তা দেয়।
৩. মানবাধিকারের ফলে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব দেয় যা সকল ব্যক্তি ও শাসকগোষ্ঠীর মোকাবিলায় অধিকার বাস্তবায়নের গ্যারান্টি দেয় যা হল বিচার বিভাগ।
মানবাধিকারের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
মানবাধিকারের ধারনা শুরু হয়েছিল খ্রিষ্টীয়পূর্ব ১৫০০ অব্দ হতে। পারতপক্ষে মানবাধিকারের প্রধান ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ৬২২ খ্রিষ্টাব্দ মহানবী (সাঃ) কর্তৃক “মদীনা সনদ” ঘোষণার মধ্য দিয়ে। এরপর ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডে যে ম্যাগনে কার্টা সাক্ষরিত হয় যাকে মানবাধিকারের প্রথম সনদ বলা হয়। এই মানবাধিকারের উৎপত্তি এর ব্যাপারে কিছু উল্লেখযোগ্য দিক নীচে তুলে ধরা হলঃ

ইংল্যান্ডে মানবাধিকারের বিকাশ
ম্যাগনে কার্টা
এই পৃথিবীতে মানবাধিকারের উৎপত্তির ব্যাপারে যে দলীলটির কথা বলা হয় তা হল ম্যাগনে কার্টা এর দলীল। তৎকালীন রাজা জনের অত্যাচার বন্ধ করতে স্টেফানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজার সাথে ম্যাগনে কার্টা দলীলটির সাক্ষর করেন যেখানে ৬৩টি ধারা উল্লেখ ছিল। প্রকৃতপক্ষে এই চুক্তিটি সাক্ষরিত হয় ব্যারনদের (তথা জমির মালিকদের নিম্নভূক্ত খেতাব) সাথে রাজার যারদ্বারা ব্যারনদের অধিকারের দায়িত্ব রাজাকে নিতে হয়েছিল।

বিল অফ রাইটস প্রদান
১৬২৮ সালে পার্লামেন্ট কর্তৃক “বিল অব রাইটস” প্রদান করা হয় যা ছিল মানবাধিকারের সর্বপ্রথম সাংবিধানিক দলীল। এ দলীলে মাত্র ৪টি ধারা ছিল যার দ্বারা অহেতুক করারোপ, কাউকে জেলে আটকানো, রাজার কমিশন জারী করার ব্যাপারে সীমাবদ্বতা আনা হয়। যদিও এ দলীলটির বাস্তবে প্রয়োগ ঘটে নাই। এ ধারাটি বাস্তবায়ন না করার দরুন রাজা চার্লসকে ১৬৪৯ সালে প্রাণ দিতে হয়েছিল।

বিল অফ রাইটস প্রদান
১৬৮৯ সালে ইংলিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক পিটিশন অব রাইটস প্রণীত হয় যারদরুন রাজশক্তি জনশক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে। এ ধারা কার্যকর হওয়ার পর পর রাজার ক্ষমতা অনেকাংশে হ্রাস্ব পায়। এ প্রসংগে ও.হুদ ফিলিপ বলেন, “বিল অব রাইটস হল মানবাধিকারের সর্বপ্রথম ভিত্তি”। পরবর্তীতে ১৭০১ সালে এক্ট অব সেটেলমেন্ট প্রণয়ন করা হয় যার দ্বরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

আমেরিকাতে মানবাধিকারের বিকাশ
ইংল্যান্ডের পর মানবাধিকার বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে যুক্তরাষ্ট্র। ঔপনিবেশিক শাসনের কব্ল থেকে রক্ষা করার জন্য ১৭৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার মহানায়ক জর্জ ওয়াশিংটন পেনসেলভেনিয়ার ফিলাফিলডেল হতে Declaration of Independence এর ঘোষণা দেন। যেখানে বলা হয়,
“All men are created equal with inalienable rights to life, liberty and the pursuit of happiness”.
এ অধিকারগুলোকে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ ঘোষণায় জনগণের এমন ক্ষমতা ও অধিকারের কথা বলা হয়।

ফ্রান্সে মানবাধিকার
যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারকে অনুসরণ করে ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে বিপ্লব সংঘটিত হয়।বিপ্লবে তৎকালীন রাজা ষোড়শ লুই ও তার স্ত্রী রাণী মেরিসহ অনেক রাজপ্রসাদের কর্মচারীদের গিলেটিনে হত্যা করা হয়। এরপর বিপ্লবীদের দ্বারা দেশ পরিচালিত হতে থাকে এবং তারা একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। তারা মানুষের মৌলিক মানবাধিকারের ব্যাপারে তারা “Declaration of the rights of man and Citizens” নামে একটি দলীল প্রণয়ন করে।এখানে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকারের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকারের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয় আলোচনা করা হয়। এখানের বলা হয়, “Men are born and remain free and equal in rights”. এখানকার ধারনাসমূহ কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে মানবাধিকারে বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকার ঘোষণা
১৯১৪ হতে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত প্রথম বিশ্ব যুদ্ব চলতে থাকে যেখানে প্রায় দেড় কোটি মানুষ নিহত হয়। এরপর ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ব সংঘটিত হয় যেখানে প্রায় ছয় কোটি লোক নিহত হয়। এতে হিটলারের নাৎসি বাহিনী কর্তৃক প্রায় ষাট লক্ষ ইয়াহূদী প্রাণ বিসর্জন দেয়।তখন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সারা বিশ্বের মানুষ নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করল। ২য় বিশ্ব যুদ্ব চলাকালীন সময় থেকে মিত্রশক্তি মানবাধিকারের কথা চিন্তা-ভাবনা শুরু করে। ১৯৪১ সালের ১৪ই আগষ্ট আটলান্টিক চার্টার ও ১৯৪২ সালের জানুয়ারিতে জাতিসংঘের গৃহীত ঘোষণায় এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। ১৯৪৫ সালে সান-ফ্রান্সিসকোতে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে মানবাধিকারের ব্যাপারে কোন সুস্পষ্ট নীতি-মালা ছিল না যদিও একটি মানবাধিকার কমিশন গঠিত হয়েছিল। ১৯৪৬ সালের জানুয়ারি মাসে সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনে আন্তর্জাতিক অধিকারসমূহের বিল প্রণয়ন করার পরিকল্পণা গ্রহণ করা হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারি হতে এর কাজ শুরু হয়।অতঃপর ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের ৩৮টি দেশের সম্মতিতে সর্বপ্রথম মানবাধিকার সনদ প্রণয়ন করা হয়। এ ঘোষণায় ১৯টি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার এবং ৬ টি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের কথা স্বীকৃত। পরবর্তীতে অনেক দেশ ঔপনিবেশিক শাসনের কবল হতে রক্ষা পায় ১৯৬৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর সে দেশগুলোর সম্মতিক্রমে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা দেয়া হয় এর ফলশ্রুতিতে ১৯৭৬ সালে জাতিসংঘের ৩৫তম সদস্যের অনুমোদন নিতে বাধ্য করা হয়।পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালের ১৫ই ডিসেম্বর ৫৯টি দেশের সম্মতিতে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার,মৃত্যুদণ্ডাদেশ বেশ কয়েকটি সনদ যুক্ত করে। এভাবে করে বিভিন্ন সময় মানবাধিকারের ক্রমবিকাশ হতে থাকে এবং তা বর্তমানরুপ ধারন করেছে।

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোঘণাপত্র
মুখবন্ধ
যেহেতু মানব পরিবারের সকল সদস্যের সমান ও অবিচ্ছেদ্য অধিকারসমূহ এবং সহজাত মর্যাদার স্বীকৃতি‌ই হচ্ছে বিশ্বে শান্তি, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তি;
যেহেতু মানব অধিকারের প্রতি অবজ্ঞা এবং ঘৃণার ফলে মানুবের বিবেক লাঞ্ছিত বোধ করে এমন সব বর্বরোচিত ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং যেহেতু এমন একটি পৃথিবীর উদ্ভবকে সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ কাংবা রূপে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে সকল মানুষ ধর্ম এবং বাক স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং অভাব ও শংকামুক্ত জীবন যাপন করবে;
যেহেতু মানুব যাতে অত্যাচার ও উত্পীড়নের মুখে সর্বশেষ উপায় হিসেবে বিদ্রোহ করতে বাধ্য না হয় সেজন্য আ‌ইনের শাসন দ্বারা মানবাধিকার সংরক্ষণ করা অতি প্রয়োজনীয়;
যেহেতু জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়াস গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক;
যেহেতু সদস্য জাতিসমূহ জাতিসংঘের সনদে মৌলিক মানবাধিকার, মানব দেহের মর্যাদা ও মূল্য এবং নারী পুরুষের সমান অধিকারের প্রতি তাঁদের বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বৃহত্তর স্বাধীনতার পরিমণ্ডলে সামাজিক উন্নতি এবং জীবনযাত্রার উন্নততর মান অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছেন;
যেহেতু সদস্য রাষ্ট্রসমূহ জাতিসংঘের সহযোগিতায় মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সমূহের প্রতি সার্বজনীন সম্মান বৃদ্ধি এবং এদের যথাযথ পালন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্য অর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ;
যেহেতু এ স্বাধীনতা এবং অধিকারসমূহের একটি সাধারণ উপলব্ধি এ অঙ্গীকারের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ
এজন্য এখন
সাধারণ পরিষদ
এই
মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র
জারী করছে
এ ঘোবণা সকল জাতি এবং রাষ্ট্রের সাফল্যের সাধারণ মানদ‌ও হিসেবে সে‌ই লক্ষ্যে নিবেদিত হবে, যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি এবং সমাজের প্রতিটি অঙ্গ এ ঘোষণাকে সবসময় মনে রেখে পাঠদান ও শিক্ষার মাধ্যমে এ‌ই স্বাধীনতা ও অধিকার সমূহের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে সচেষ্ট হবে এবং সকল সদস্য রাষ্ট্র ও তাদের অধীনস্থ ভূখণ্ডের জাতিসমূহ উত্তরোত্তর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়াসের মাধ্যমে এ‌ই অধিকার এবং স্বাধীনতাসমূহের সার্বজনীন ও কার্যকর স্বীকৃতি আদায় এবং যথাযথ পালন নিশ্চিত করবে।

ধারা ১
সমস্ত মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের বিবেক এবং বুদ্ধি আছে ; সুতরাং সকলেরই একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে আচরণ করা উচিত্‍।
ধারা ২
এ ঘোষণায় উন্নেণিত স্বাধীনতা এবং অধিকারসমূহে গোত্র, ধর্ম, বর্ণ, শিক্ষা, ভাষা, রাজনৈতিক বা অন্যবিধ মতামত, জাতীয় বা সামাজিক উত্পত্তি, জন্ম, সম্পত্তি বা অন্য কোন মর্যাদা নিবিশেষে প্রত্যেকের‌ই সমান অধিকার থাকবে।
কোন দেশ বা ভূখণ্ডের রাজনৈতিক, সীমানাগত বা আন্তর্জ্জাতিক মর্যাদার ভিত্তিতে তার কোন অধিবাসীর প্রতি কোনরূপ বৈষম্য করা হবেনা; সে দেশ বা ভূখণ্ড স্বাধীন‌ই হোক, হোক অছিভূক্ত, অস্বায়ত্বশাসিত কিংবা সার্বভৌসত্বের অন্য কোন সীমাবদ্ধতায় বিরাজমান।
ধারা ৩
জীবন, স্বাধীনতা এবং দৈহিক নিরাপত্তায় প্রত্যেকের অধিকার আছে।
ধারা ৪
কা‌উকে অধীনতা বা দাসত্বে আবদ্ধ করা যাবে না। সকল প্রকার ক্রীতদাস প্রথা এবং দাসব্যবসা নিষিদ্ধ করা হবে।
ধারা ৫
কা‌উকে নির্যাতন করা যাবে না; কিংবা কারো প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ করা যাবে না অথবা কা‌উকে এহেন শাস্তি দেওয়া যাবে না।
ধারা ৬
আ‌ইনের সামনে প্রত্যেকের‌ই ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি লাভের অধিকার আছে।
ধারা ৭
আ‌ইনের চোখে সবা‌ই সমান এবং ব্যক্তিনির্বিশেবে সকলে‌ই আ‌ইনের আশ্রয় সমানভাবে ভোগ করবে। এ‌ই ঘোষণা লঙ্ঘন করে এমন কোন বৈষম্য বা বৈষম্য সূষ্টির প্ররোচনার মুখে সমান ভাবে আশ্রয় লাভের অধিকার প্রত্যেকের‌ই আছে।
ধারা ৮
শাসনতন্ত্রে বা আ‌ইনে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত জাতীয় বিচার আদালতের কাছ থেকে কার্যকর প্রতিকার লাভের অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।
ধারা ৯
কা‌উকে‌ই বেয়ালখুশীমত গ্রেপ্তার বা অন্তরীণ করা কিংবা নির্বাসন দে‌ওয়া যাবে না।
ধারা ১০
নিজের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ এবং নিজের বিরুদ্ধে আনীত ফৌজদারী অভিযোগ নিরূপণের জন্য প্রত্যেকের‌ই পূর্ণ সমতার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ বিচার-আদালতে প্রকাশ্য শুনানি লাভের অধিকার রয়েছে।
ধারা ১১
১. দত্তযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের নিশ্চিত অধিকারসম্বলিত একটি প্রকাশ্য আদালতে আ‌ইনানুসারে দোবী প্রমাণিত না হ‌ওয়া পর্যন্ত নির্দোষ গণ্য হ‌ওয়ার অধিকার থাকবে।
২. কা‌উকে‌ই এমন কোন কাজ বা ক্রটির জন্য দণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না, যে কাজ বা ক্রটি সংঘটনের সময় জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আ‌ইনে দণ্ডনীর অপরাধ ছিলনা। দণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনের সময় যে শাস্তি প্রযোজ্য ছিল, তার চেয়ে গুরুতর শাস্তি‌ও দে‌ওয়া চলবে না।
ধারা ১২
কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কিংবা তাঁর গৃহ, পরিবার ও চিঠিপত্রের ব্যাপারে খেয়ালখুশীমত হস্তক্ষেপ কিংবা তাঁর সুনাম ও সম্মানের উপর আঘাত করা চলবে না। এ ধরনের হস্তক্ষেপ বা আঘাতের বিরুদ্ধে আ‌ইনের আশ্রয় লাভের অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।
ধারা ১৩
১. নিজ রাষ্ট্রের চৌহদ্দির মধ্যে স্বাধীনভাবে চলাফেরা এবং বসবাস করার অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।
২. প্রত্যেকের‌ই নিজ দেশ সহ যে কোন দেশ পরিত্যাগ এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অধিকার রয়েছে।
ধারা ১৪
১. নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পা‌ওয়ার জন্য ভিন্নদেশে আশ্রয় প্রার্থনা করবার এবং সে দেশের আশ্রয়ে থাকবার অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।
২. অরাজনৈতিক অপরাধ এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্য এবং মূলনীতির পরিপন্থী কাজ থেকে সত্যিকারভাবে উদ্ভূত অভিযোগের ক্ষেত্রে এ অধিকার প্রার্থনা না‌ও করা যেতে পারে।
ধারা ১৫
১. প্রত্যেকের‌ই একটি জাতীয়তার অধিকার রয়েছে।
২. কা‌উকে‌ই যথেচ্ছভাবে তাঁর জাতীয়তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, কিংবা কারো জাতীয়তা পরিবর্তনের অধিকার অগ্রাহ্য করা যাবে না।
ধারা ১৬
১. ধর্ম, গোত্র ও জাতি নির্বিশেবে সকল পূর্ণ বয়স্ক নরনারীর বিয়ে করা এবং পরিবার প্রতিষ্ঠার অধিকার রয়েছে। বিয়ে, দাম্পত্যজীবন এবং বিবাহবিচ্ছেদে তাঁদের সমান অধিকার থাকবে।
২. বিয়েতে ইচ্ছুক নরনারীর স্বাধীন এবং পূর্ণ সম্মতিতে‌ই কেবল বিয়ে সম্পন্ন হবে।
৩. পরিবার হচ্ছে সমাজের স্বাভাবিক এবং মৌলিক গোষ্ঠী-একক, সুতরাং সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা লাভের অধিকার পরিবারের রয়েছে।
ধারা ১৭
১. প্রত্যেকের‌ই একা অথবা অন্যের সঙ্গে মিলিতভাবে সম্পত্তির মালিক হ‌ওয়ার অধিকার আছে।
২. কা‌উকে‌ই যথেচ্ছভাবে তাঁর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা বাবে না।
ধারা ১৮
প্রত্যেকের‌ই ধর্ম, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতায় অধিকার রয়েছে। এ অধিকারের সঙ্গে ধর্ম বা বিশ্বাস পরিবর্তনের অধিকার এবং এ‌ই সঙ্গে, প্রকাশ্যে বা একান্তে, একা বা অন্যের সঙ্গে মিলিতভাবে, শিক্ষাদান, অনুশীলন, উপাসনা বা আচারব্রত পালনের মাধ্যমে ধর্ম বা বিশ্বাস ব্যক্ত করার অধিকার‌ও অন্তর্ভূক্ত থাকবে।
ধারা ১৯
প্রত্যেকের‌ই মতামত পোষণ এবং মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় অধিকার রয়েছে। অবাধে মতামত পোষণ এবং রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে যে কোন মাধ্যমের মারফত ভাব এবং তথ্য জ্ঞাপন, গ্রহণ ও সন্ধানের স্বাধীনতা‌ও এ অধিকারের অন্তর্ভূক্ত।
ধারা ২০
১. প্রত্যেকের‌ই শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশগ্রহণ ও সমিতি গঠনের স্বাধীনতায় অধিকার রয়েছে।
২. কা‌উকে কোন সংঘভূক্ত হতে বাধ্য করা যাবে না।
ধারা ২১
১. প্রত্যক্ষভাবে বা অবাধে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিজ দেশের শাসন পরিচালনায় অংশগ্রহণের অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।
২. নিজ দেশের সরকারী চাকুরীতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।
৩. জনগণের ইচ্ছা‌ই হবে সরকারের শাসন ক্ষমতার ভিত্তি; এ‌ই ইচ্ছা নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত প্রকৃত নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যক্ত হবে; গোপন ব্যালট কিংবা সমপর্যায়ের কোন অবাধ ভোটদান পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ধারা ২২
সমাজের সদস্য হিসেবে প্রত্যেকের‌ই সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার আছে। জাতীয় প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সংগঠন ও সম্পদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রত্যেকের‌ই আপন মর্যাদা এবং ব্যক্তিত্বের অবাধ বিকাশের জন্য অপরিহার্য সামাজিক, অথনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ আদায়ের অধিকার রয়েছে।
ধারা ২৩
১. প্রত্যেকের‌ই কাজ করার, স্বাধীনভাবে চাকূরী বেছে নেবার, কাজের ন্যায্য এবং অনুকূল পরিবেশ লাভ করার এবং বেকারত্ব থেকে রক্ষিত হবার অধিকার রয়েছে।
২. কোনরূপ বৈষম্য ছাড়া সমান কাজের জন্য সমান বেতন পাবার অধিকার প্রত্যেকের‌ই আছে।
৩. কাজ করেন এমন প্রত্যেকের‌ই নিজের এবং পরিবারের মানবিক মর্যাদার সমতুল্য অস্তিত্বের নিশ্চয়তা দিতে পারে এমন ন্যায্য ও অনুকূল পারিশ্রমিক লাভের অধিকার রয়েছে; প্রয়োজনবোধে একে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাদি দ্বারা পরিবধিত করা যেতে পারে।
৪. নিজ স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য প্রত্যেকের‌ই ট্রেড ই‌উনিয়ন গঠন এবং তাতে যোগদানের অধিকার রয়েছে।
ধারা ২৪
প্রত্যেকের‌ই বিশ্রাম ও অবসরের অধিকার রয়েছে; নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে বেতনসহ ছুটি এবং পেশাগত কাজের যুক্তিসঙ্গত সীমা‌ও এ অধিকারের অন্তর্ভূক্ত।
ধারা ২৫
১. খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিত্সা ও প্রয়োজনীয় সমাজ কল্যাণমূলক কার্যাদির সুযোগ এবং এ সঙ্গে পীড়া, অক্ষমতা, বৈধব্য, বার্ধক্য অথবা জীবনযাপনে অনিবার্যকারণে সংঘটিত অন্যান্য অপারগতার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং বেকার হলে নিরাপত্তার অধিকার সহ নিজের এবং নিজ পরিবারের স্বাস্থ্য এবং কল্যাণের জন্য পর্যাপ্ত জীবনমানের অধিকার প্রত্যেকের‌ই রয়েছে।
২. মাতৃত্ব এবং শৈশবাবস্থায় প্রতিটি নারী এবং শিশুর বিশেষ যত্ন এবং সাহায্য লাভের অধিকার আছে। বিবাহবন্ধন-বহির্ভূত কিংবা বিবাহবন্ধনজাত সকল শিশু অভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ করবে।
ধারা ২৬
১. প্রত্যেকের‌ই শিক্ষালাভের অধিকার রয়েছে। অন্ততঃপক্ষে প্রাথমিক ও মৌলিক পর্যায়ে শিক্ষা অবৈতনিক হবে। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে। কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সাধারণভাবে লভ্য থাকবে এবং উচ্চতর শিক্ষা মেধার ভিত্তিতে সকলের জন্য সমভাবে উন্মুক্ত থাকবে।
২. ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ এবং মানবিক অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা-সমূহের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে শিক্ষা পরিচালিত হবে। শিক্ষা সকল জাতি, গোত্র এবং ধর্মের মধ্যে সমঝোতা, সহিষ্ণুতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়াস পাবে এবং শান্তিরক্ষার স্বার্থে জাতিসংঘের কার্যাবলীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
৩. কোন ধরনের শিক্ষা সন্তানকে দে‌ওয়া হবে, তা বেছে নেবার পূর্বাধিকার পিতামাতার থাকবে।
ধারা ২৭
১. প্রত্যেকের‌ই সমষ্টিগত সাংস্কৃতিক জীবনে অংশগ্রহণ করা, শিল্পকলা উপভোগ করা এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও তার সুফল সমূহে অংশীদার হ‌ওয়ার অধিকার রয়েছে।
২. বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পকলা ভিত্তিক কোন কর্মের রচয়িতা হিসেবে নৈতিক ও বৈষয়িক স্বার্থ সংরক্ষণের অধিকার প্রত্যেকের‌ই থাকবে।
ধারা ২৮
এ ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহের বাস্তবায়ন সম্ভব এমন একটি সামাজিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অংশীদারীত্বের অধিকার প্রত্যেকের‌ই আছে।
ধারা ২৯
১. প্রত্যেকের‌ই সে সমাজের প্রতি পালনীয় কর্তব্য রয়েছে, যে সমাজে‌ই কেবল তাঁর আপন ব্যক্তিত্বের স্বাধীন এবং পূর্ণ বিকাশ সম্ভব।
২. আপন স্বাধীনতা এবং অধিকারসমূহ ভোগ করার সময় প্রত্যেকে‌ই কেবলমাত্র ঐ ধরনের সীমাবদ্ধতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন যা অন্যদের অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহ নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নৈতিকতা, গণশৃংখলা ও সাধারণ কল্যাণের ন্যায়ানুগ প্রয়োজন মেটাবার জন্য আ‌ইন দ্বারা নির্নীত হবে।
৩. জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ও মূলনীতির পরিপন্থী কোন উপায়ে এ অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহ ভোগ করা যাবে না।
ধারা ৩০
কোন রাষ্ট্র, গোষ্ঠী বা ব্যক্তি এ ঘোষণাপত্রের কোন কিছুকে‌ই এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না, যার বলে তারা এ‌ই ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহ নস্যাত্‍ করতে পারে এমন কোন কাজে লিপ্ত হতে পারেন কিংবা সে ধরনের কোন কাজ সম্পাদন করতে পারেন।

উপসংহার
পরিশেষে বলা যায় যে, মানুষের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যে মানবাধিকারের কথা বলা হচ্ছে বাস্তবিক অর্থে তা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত।মানবাধিকার সনদ প্রদান করার পর তার প্রতি অনেকের আশা-আকাংখা ছিল। কিন্তু এত কিছু করার পর বর্তমান ফিলিস্তিন, ইরাক, আফগানিস্তান, মায়ানমার পরিস্থিতি মানবাধিকার বিকাশের পথে অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে। যদিও এর কিছু সাফল্য রয়েছে। পারতপক্ষে আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর পূর্বে মহানবী (সাঃ) কর্তৃক যে মানবাধিকার ঘোষণা করা হয়েছিল তা সকলের জন্য অনুসরণীয় এবং তাকে আমরা মানবাধিকারের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করে সামনের দিকে আগাতে থাকলে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
অামাদের দেশে মানবাধিকারের মূল ভিত্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে বিদ্যমান শোষণমূলক অার্থ-সামাজিক ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন দরকার। দরকার জনগণের মৌলিক মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সুশাসন নিশ্চিত করা। আর সেটি করতে হলে আমাদের বৈষম্যহীন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ এই চার নীতিতে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তাহলেই জনঅাকাঙ্খা পূরণ করা সম্ভব হবে।

#
সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, মৌলভীবাজার জেলা;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক

সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি’।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ অাইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৬৫৯৯৫৮৯

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ