কল্পনা ও বিশ্বাস কতটা কাজে লাগে?

প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৩

কল্পনা ও বিশ্বাস কতটা কাজে লাগে?

Manual3 Ad Code

ড. মু. আলী আসগর |

মানুষের শরীরের চেয়ে মন অনেক বেশি শক্তিশালী। মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষমতা (কোটি কোটি নিউরোন দ্বারা সৃষ্ট) একটা সুপার কম্পিউটারের চেয়েও অনেক অনেক বেশি। আমাদের কল্পনা ও বিশ্বাস অর্থাৎ ‘মনছবি’ পর্যায়ক্রমে এই নিউরোনগুলোর আস্থা স্থাপন করে কাজের মাধ্যমে আমাদেরকে লক্ষ্যে পৌঁছায়। জীবনের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট হলেই আত্মবিশ্বাস আসবে। সে কারণে নিজের মধ্যে ১০০% আস্থা তৈরিতে লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট করাটা জরুরি।
প্রশান্ত মনের স্থির পর্দায় সফলতার ব্লু প্রিন্ট (প্রতিচিত্র) অর্থাৎ ‘মনছবি’ আঁকতে হবে। ‘মনছবি’ হচ্ছে মনের পর্দায় শুভ গভীর বিশ্বাস, একাগ্রচিত্তে ও গভীর মনোযোগে লালিত সাফল্যের ছবি। অর্থাৎ আপনি ভালো যা পেতে চান তা একাগ্রভাবে প্রথমে চাওয়া, চাওয়াটা ‘পাবোই’ বলে বিশ্বাস করা ও আন্তরিকভাবে বাস্তবায়নে কাজ করা।
‘মনছবি’ হলো শুভ চাওয়া, বিশ্বাস ও পরিশ্রমে লালিত ভবিষ্যতের বাস্তবতা (Future Reality) যা যে কোন সাফল্যের ‘ভ্রুণ’।

Manual1 Ad Code

‘মনছবির’ এ প্রক্রিয়ার ফলপ্রসূতার জন্য নিম্নোক্ত ৪টি শর্ত আছে —
১) স্থির লক্ষ্য;
২) লক্ষ্যে আস্থা ও একাত্মতা;
৩) লক্ষ্যে আকাঙ্ক্ষা ও আনন্দ;
৪) লক্ষ্য পূরণে নীরবে কাজ।

স্থির ও সুস্পষ্ট লক্ষ্যের ছবি (মনছবি) যখন মনে গেঁথে যায় তখন মানুষের মস্তিষ্কের কর্মগঠন বদলে যায় এবং তখন আপনার মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্য বাস্তবায়নের কাজে লেগে যায়। এটি বিজ্ঞানসম্মত।

মনে রাখবেন, বারবার লক্ষ্য পরিবর্তন করলে আপনার মস্তিষ্ক কর্মপন্থা ঠিক করতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। সেকারণে লক্ষ্যে ও লক্ষ্য পূরণে কাজে সংকল্পবদ্ধ থাকুন। লক্ষ্য পূরণে নীরবে নিরলসভাবে কাজ করুন। তাড়াতাড়ি পাওয়ার প্রবণতা ত্যাগ করুন।

Manual5 Ad Code

আমরা যখন একাগ্র কল্পনায় আমাদের লক্ষ্যের ছবি মনে গেঁথে ফেলি তখন তা ব্রেন ও স্নায়ুতন্ত্রকে (নার্ভাস সিস্টেম) স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য অর্জনের পথে পরিচালিত করে।
‘মনছবিকে’ আমরা তুলনা করি ‘মিসাইলের’ সাথে। মিসাইলের যেমন টার্গেট নির্ধারণ করে দিলে আর কোনো দিক-নির্দেশনার প্রয়োজন হয় না। মিসাইল নিজের পথে এগিয়ে চলে, মনছবিও ঠিক তেমনি।

Manual6 Ad Code

মনছবির মাধ্যমে লক্ষ্যের ছবি অবচেতন মনে বসিয়ে দিলে মন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে লক্ষ্যে পৌঁছার জন্যে তার সকল শক্তিকে নিয়োগ করে অবিরাম কাজ করে যায়। দুর্দমনীয় আগ্রহ ও উদ্যম সৃষ্টি করে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছার জন্যে যা যা করা দরকার তা করার জন্যে মনের গভীরে একটা তাড়না সৃষ্টি করে।

#
ড. মু. আলী আসগর
প্রফেসর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ