বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক চেতনা-অর্থনৈতিক সমতায় বিশ্বাসী ছিলেন

প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৩

বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক চেতনা-অর্থনৈতিক সমতায় বিশ্বাসী ছিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৬ আগস্ট ২০২৩ : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাঙালি ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক এবং অভিন্ন সত্তা।
তিনি বলেন, মানবিক বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও অর্থনৈতিক সমতায় বিশ্বাসী ছিলেন।

শনিবার (২৬ আগস্ট ২০২৩) বঙ্গভবনের দরবার হলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত অ্যানিমেশন মুভি ‘মুজিব ভাই’ প্রদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবন-কর্ম, ত্যাগ, তিতিক্ষা, সবগুলো মানবীয় গুণাবলীর সমন্বয়ে তিনি ছিলেন এক অনন্য বাঙালি। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি ধাপেই বঙ্গবন্ধুর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিচয় আমরা পাই। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার আত্মপ্রকাশ হয়েছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার ও মানবিক গুণাবলীর সমন্বয়ে একজন অনন্য মানুষ হিসেবে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর চরিত্রের বিভিন্ন নাটকীয়তা, মানবিক গুণাবলী, তার শৈশব ও কৈশোরের মানবিক কর্মকাণ্ড সবকিছুর সমন্বয়ে তিনি ছিলেন এক অনন্য বাঙালি। বঙ্গবন্ধু কতটা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন তার প্রমাণ তিনি কলকাতায় দাঙ্গার সময় ও দিয়েছেন।’

বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পাওয়ার স্মৃতিচারণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি জাতির পিতাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল ছয় বার উনার সান্নিধ্য পাওয়ার। এর মধ্যে দুই বার স্বাধীনতার পূর্বে, আর চার বার স্বাধীনতার পরে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয় ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে। তিনি আমাকে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) পাবনা জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেছিলেন।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমতায় বিশ্বাসী বঙ্গবন্ধু মুজিবকে জানতে হলে বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে হবে।’ এ সময় আইসিটি বিভাগ নির্মিত ‘মুজিব ভাই’ অ্যানিমেশন মুভি জাতির পিতার জীবন ও কর্ম এবং আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হবে বলে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি ‘মুজিব ভাই’ অ্যানিমেশন মুভিটি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ রূপান্তরের একটি প্রয়াস উল্লেখ করে মুভিটির পরিচালক, প্রযোজক, কলাকুশলীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। আইসিটি বিভাগ তাদের নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, প্রসার ও ব্যবহারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু, বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাসকে তুলে ধরতে নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস চালাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন।

উল্লেখ্য, অ্যানিমেশন একটি মজাদার ও শক্তিশালী মাধ্যম, যা অবাধে কাহিনী বলার সঙ্গে সঙ্গে কাল্পনিক চিত্রকর্ম, স্পেশাল ইফেক্ট, আলোকায়ন, সঙ্গীত ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিষয়বস্তুর সত্যিকারের আত্মপ্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে আইসিটি বিভাগ কর্তৃক নির্মিত ‘মুজিব ভাই’ মুভিটিতে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জীবনযাত্রা, সংগ্রাম এবং দেশের মানুষের মধ্যে তার প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা এবং মর্মস্পর্শী প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

পরে রাষ্ট্রপতি ও অতিথিবৃন্দ মুভিটি দেখেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী অধ্যাপক ড. রেবেকা সুলতানা, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিবগ, সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ