কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণের ৫৩ বছর পূর্তি কাল

প্রকাশিত: ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৫

কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণের ৫৩ বছর পূর্তি কাল

Manual3 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ : কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণের ৫৩ বছর পূর্তি কাল।

১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রায় ১০ লাখ মানুষের সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

Manual4 Ad Code

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তিনদিনের সফরে তিনি কলকাতায় যান এবং ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসভায় ভারতের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত পশ্চিমবঙ্গবাসীর সামনে ভাষণ প্রদান করেন। সেদিন উত্তাল জনতার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চিরদিন অটুট থাকবে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধুর প্রতি কলকাতাবাসীর আগ্রহ ছিল সীমাহীন। শেখ মুজিবুর রহমানের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে কলকাতায় যাত্রা বিরতি করবেন, এমনটাই ভেবেছিলেন তারা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন দেশের মাটিতে আগে যেতে চেয়েছিলেন বলে এদিন দিল্লী থেকে সরাসরি ঢাকা যাওয়ার পথে কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে বার্তা পাঠান যে, তিনি অতি শিগগিরই কলকাতা আসবেন। পরবর্তীতে একই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের সফরে কোলকাতা আসেন।

শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ ও ভারত দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মৈত্রীর বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে বলে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনদিনের সফরে কলকাতায় আসেন এবং ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসভায় শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ স্বতঃস্ফূর্ত পশ্চিমবঙ্গবাসীর সম্মুখে ভাষণ প্রদান করেন। সেদিন তিনি উত্তাল জনতার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চিরদিন অটুট থাকবে’।

Manual7 Ad Code

তাঁর অগ্নিঝরা ভাষণে উপস্থিত জনতা আবেগপ্লুত হয়েছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য ভারতের জনগণ, সরকার, সশস্ত্রবাহিনী, বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি বঙ্গবন্ধু গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং আসামের জনগণের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন।

Manual5 Ad Code

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বিখ্যাত ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালির ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ছাত্রজীবনে বঙ্গবন্ধুর কলকাতায় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্ববহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই শহরের ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মৌলানা আজাদ কলেজ) থেকে বঙ্গবন্ধু উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময়েই তিনি জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং শুদ্ধ রাজনীতির চর্চা ও গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের অনন্য সম্মিলনে ধর্মনিরপেক্ষতা কীভাবে সমাজজীবনকে বদলে দিতে পারে, তা তিনি কলকাতা শহরে ছাত্রাবস্থাতেই রপ্ত করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের অবদান চিরস্মরণীয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশের প্রায় এককোটি মানুষকে ভারত যেমন আশ্রয়-খাদ্য-রসদসহ সবরকম সহায়তা দিয়েছে, তেমনি হাজার হাজার ভারতীয় সৈন্য এদেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। সে কারণে আমাদের দু’দেশের বন্ধুত্ব রক্তের অক্ষরে লেখা থাকবে।”

Manual7 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ