দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের পথে রাজনীতি: ঐকমত্য কমিশনের ঐক্যমত কি নির্বাচনকেই অনিশ্চিত করে তুলল?

প্রকাশিত: ২:৩২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২৫

দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের পথে রাজনীতি: ঐকমত্য কমিশনের ঐক্যমত কি নির্বাচনকেই অনিশ্চিত করে তুলল?

Manual8 Ad Code

শরীফ শমশির |

বাংলাদেশের রাজনীতি হঠাৎ দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের পথে : ঐকমত্য কমিশনের ঐক্যমত কি নির্বাচনকেই অনিশ্চিত করে তুলল!/?

Manual4 Ad Code

গত কয়েক মাস বাংলাদেশের রাজনীতিতে লন্ডন বৈঠকের একটা প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল : সব পথ নির্বাচনের দিকেই ধাবিত হচ্ছিল। ফেব্রুয়ারী ছিল টার্গেট। নির্বাচনের একটা অন্তর্লীন সমঝোতার আভাস মিলছিলো ক্ষমতাপ্রত্যাশি সকল দলের বড় বড় সমাবেশ। এই সুযোগে কেউ কেউ একধরনের জরীপ মাঠ প্রকাশ করলো যেখানে বিএনপিকে অপ্রতিরোধ্য মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু এই প্রজেকশনকে একটা চ্যলেন্জ ছুড়ে দেওয়া হলো। বিএনপি তার ৩১ দফাকে বাংলাদেশের রাজনীতির সর্বরোগহর সমাধান হিসেবে প্রচার করলেও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ধীরে ধীরে বিএনপিকে তার রাজনীতির বাইরে টেনে নিয়ে আসলো। শেষ পর্যন্ত বিএনপি বলল, জুলাই সনদ বা ঘোষণা সকল আইনের উর্ধ্বে যেহেতু এটা জনগণের ম্যান্ডেট। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিল, জুলাই সনদ বা ঘোষণায় যাই লেখা হোক না কেন বিএনপি তা স্বাক্ষর করবে যাতে নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হয়। বিএনপিকে এখন তার বাইরেও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সমাবেশ এবং আনুপাতিক হারে ভোট পদ্ধতির দাবি। বিএনপির যেসকল সিনিয়র নেতা ঐকমত্য কমিশনে যান না তাঁরা বলছেন, নির্বাচিত সংসদ ছাড়া জুলাই সনদ বা ঘোষণা বাস্তবায়ন অসম্ভব। তাঁরা সন্দেহ করছেন, এসব কিছু হচ্ছে নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য।

Manual7 Ad Code

এবার সর্বশেষ চ্যালেঞ্জ সামনে চলে আসলো। এনসিপি তাদের ২৪ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই ২৪ দফার মূল বক্তব্য, দ্বিতীয় রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার, সংস্কার সহ সব সম্পন্ন করতে হবে। তারমানে বর্তমান পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন হবে না। হবে গণপরিষদের নির্বাচন এবং নতুন সংবিধান প্রণয়ন। তারমানে দাঁড়ালো, ঐকমত্য কমিশনের ঐক্যমত ও নির্বাচন আর সমান্তরাল লাইনে চলবে না। মূল ছবি এখনো পরিস্কার নয়, পরিষ্কার হবে ৫ আগস্ট সরকার যখন জুলাই ঘোষণা বা সনদ ঘোষণা করবে। এটা নিশ্চিত না হলেও অনুমান করা যায় বিএনপি একটা রাজনৈতিক চিপায় পড়বে। সরলভাবে ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন হতে অনেক কিন্তু, যদি ইত্যাদি যুক্ত হবে। ঐকমত্য কমিশন থেকে কয়েকটি দল সংবিধান প্রশ্নে নিজেদের দ্বিমত প্রকাশ করেছে। বিএনপি প্রবলভাবে ঐকমত্যের কথা বলছে কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে বিএনপিকে একা হাঁটতে হচ্ছে যা হাটহাজারিতে তাঁদের উপস্থিতি প্রমাণ করে।
বাংলাদেশের রাজনীতির স্টকহোল্ডার এখন যুক্তরাষ্ট্র, অর্ন্তবর্তী সরকার ও প্রতিরক্ষা বাহিনী। এঁদের সমান্তরালে আছে, জামাত ইসলাম, এনসিপি ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন।
বিএনপি সরকারের উপর নির্ভরশীলতা ছাড়া আন্দোলন করে নির্বাচনের দাবি আদায় করতে পারবে তার সম্ভাবনা কম।
২০২৪ এর আগস্ট বিএনপির জন্য সুযোগ তৈরি করেছিল, ২০২৫ সালের আগস্টে বিএনপি রাজনীতির চরম চ্যালেঞ্জই পড়বে। দ্বিতীয় রিপাবলিক বিএনপির নির্বাচনী স্বপ্নকে চুরমার করে দিবে না – এমন গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না।
বাংলাদেশের রাজনীতি আগামী কয়েক দিনে তার দ্বন্দ্ব সংগ্রামের চূড়ান্তে পৌঁছবে- এই রকমই মনে হচ্ছে।
#
শরীফ শমশির
লেখক ও গবেষক

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ