মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৭ নভেম্বর

প্রকাশিত: ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২৫

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৭ নভেম্বর

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৩ নভেম্বর ২০২৫ : আগামী ১৭ নভেম্বর পালিত হবে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। শোষিত- বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামী নেতা হিসেবে পরিচিত এই মহান রাজনীতিক ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এবং টাঙ্গাইলের সন্তোষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গ্রহণ করেছে বিস্তারিত কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে মওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা এবং তাঁর আদর্শ ও সংগ্রাম নিয়ে স্মরণসভা।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করবেন। তাঁরা তাঁদের বাণীতে ভাসানীর নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও জনগণের কল্যাণে তাঁর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করবেন বলে জানা গেছে।

শোষিতের কণ্ঠস্বর

১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মওলানা ভাসানী। তাঁর শৈশব-কৈশোর কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। তিনি শৈশব থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মনোভাবের পরিচয় দেন। পরবর্তী সময়ে টাঙ্গাইলের সন্তোষে বসবাস শুরু করে তিনি এই অঞ্চলকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন।

‘মজলুম জননেতা’ উপাধিতে ভূষিত ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশের বাম প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম জনক। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমলের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম— সর্বত্রই তিনি ছিলেন আপসহীন নেতা। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে কৃষক-মজুর, শ্রমজীবী মানুষের ঐক্য গড়ে ওঠে, যা তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ও স্বাধীনতার প্রেরণা

Manual4 Ad Code

মওলানা ভাসানী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু ও সহযোদ্ধা। তিনি সর্বদা জনগণের অধিকার আদায়ে আপসহীন ছিলেন এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে তাঁর ঐতিহাসিক ‘বিদায় পশ্চিম পাকিস্তান’ বক্তৃতা বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চির সংগ্রামী এক নেতা

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলতেন এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানাতেন।

Manual4 Ad Code

স্মরণে ও শ্রদ্ধায়

ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে দিনব্যাপী নানা আয়োজন থাকবে। সকালেই মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। বিকেলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

Manual2 Ad Code

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও তাঁর জীবন ও আদর্শ নিয়ে বিশেষ আলোচনা, প্রবন্ধ পাঠ ও প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী আজও বাংলার রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর প্রগতিশীল, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক ভাবধারা আজও জাতির পথপ্রদর্শক হয়ে আছে।

 

Manual5 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ