সিলেট ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ : বাংলা সংগীতভুবনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, অসংখ্য কালজয়ী গানের গীতিকার ও সুরকার, প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ আবু জাফরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
২০২৪ সালের এই দিনে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। রেখে গেছেন এক মেয়ে ও তিন ছেলে। বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন তার সাবেক স্ত্রী।
আজ চিরচেনা সংগীতপুরুষকে তার জন্মস্থান কুষ্টিয়ায় শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানো হবে। মরদেহ নেওয়া হচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের গড়ের বাড়ি কাঞ্চনপুর গ্রামে। আসরের নামাজের পর কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে সেখানে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।
বাংলা গানের ভুবনে অনন্য স্বাক্ষর
বাংলা আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গানের ইতিহাসে আবু জাফর এক অনিবার্য নাম। তার সৃষ্ট বিখ্যাত গান ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ তাকে দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেয়। বিবিসির জরিপে গানটি সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের মধ্যে স্থান পেয়েছিল।
তাঁর লেখা ও সুরারোপিত ‘তোমরা ভুলেই গেছ মল্লিকাদির নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গায়ে’, ‘আমি হেলেন কিংবা মমতাজকে দেখিনি’, ‘তুমি রাত আমি রাতজাগা পাখি’সহ অসংখ্য গান এখনো শ্রোতাদের নস্টালজিয়ায় ভাসায়। গানগুলোর কথায় সহজিয়া ভাব, সুরে মাধুর্য—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অনন্য ধারার স্রষ্টা।
রাজশাহী ও ঢাকা বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত সংগীতশিল্পী ও গীতিকার ছিলেন তিনি। তার রচিত দেশাত্মবোধক গানগুলো ৭০–৮০ দশকে তরুণদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
শিক্ষকতা থেকে সংগীত—দুই ভুবনেই সমান দীপ্তি
সংগীতের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। চুয়াডাঙ্গা কলেজ ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন সহজ-সরল, প্রিয় ও অনুপ্রেরণাদায়ী একজন মানুষ।
কুষ্টিয়ার জনপদে জন্ম নেওয়া এই সঙ্গীতগুরু সাহিত্যচর্চায়ও রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— ‘নতুন রাত্রি পুরনো দিন’, ‘বাজারে দুর্নাম তবু তুমিই সর্বস্ব’ এবং অনূদিত কাব্য ‘বিপ্লবোত্তর সোভিয়েত কবিতা’।
একান্ত নিভৃতে শেষ জীবন, আর আজ সারা দেশের ভালোবাসা
জীবনের শেষ কয়েক বছর বেশ নিভৃতে কাটিয়েছেন আবু জাফর। আলো-ঝলমলে মঞ্চ থেকে দূরে থাকলেও তার পাশে ছিল সন্তানরা। মৃত্যুর পর আবারও তার গানগুলো নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
শ্রোতারা বলছেন, আবু জাফর কখনো হারিয়ে যাওয়ার মানুষ নন—তার সৃষ্টিই তাকে বন্দনা করবে যুগের পর যুগ। সংগীতের প্রতি মানুষের টান যতদিন থাকবে, ততদিন ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ থেকে ‘তুমি রাত আমি রাতজাগা পাখি’—সবগুলো গান তাকে স্মরণ করিয়ে দেবে।
সংগীতাঙ্গনের শোক—“একটি যুগের অবসান”
বাংলা গানের বরেণ্য শিল্পীরা মনে করছেন, আবু জাফরের মৃত্যু শুধু একজন সুরকারের প্রয়াণ নয়; এটি বাংলা গানের এক সুসময়ের অবসান। সংগীতশিল্পীরা তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন—তিনি ছিলেন সুরের সাধক, যিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সৃষ্টিতে নিবেদিত ছিলেন।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি