লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ

প্রকাশিত: ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ : লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

Manual3 Ad Code

রোববার (১৪ ডিসেম্বর ২০২৫) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র‍্যাবের মহাপরিচালকের কাছে এ নোটিশ পাঠান।

আইনি নোটিশে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন থানা ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অবৈধ অস্ত্র অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী সহিংসতা ও প্রাণনাশের আশঙ্কা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বলেও দাবি করা হয়।

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “এই চরম নিরাপত্তাহীন অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন কার্যত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”

নোটিশে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় পুরো নির্বাচনী মাঠ কার্যত বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়।

Manual7 Ad Code

আইনি নোটিশে দাবি করা হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ব্যর্থ অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের ‘জীবনের অধিকার’ লঙ্ঘনের শামিল হবে।

Manual8 Ad Code

এতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হওয়ায় অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতিতে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

এমতাবস্থায়, নোটিশে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত গণভোট যথাসময়ে আয়োজনের দাবি জানানো হলেও, সব লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও জানানো হয়, আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ