গাজীপুর মুক্ত দিবস আজ

প্রকাশিত: ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫

গাজীপুর মুক্ত দিবস আজ

Manual2 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিবেদক | গাজীপুর, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ : আজ ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর মুক্ত দিবস। এই দিবসটি পালন উপলক্ষে ঢাকা ও গাজীপুরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

Manual2 Ad Code

১৯৭০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটির একাংশের নেতৃত্বে পল্টনের বিশাল জনসভা থেকে ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা’র কর্মসূচি প্রকাশ্যে উত্থাপন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও ১৯৭১ সালের ৯ মার্চ ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বাঙালির স্বাধীনতা আন্দলন ও বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্তের প্রতি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর একাত্মতা ঘোষণার পর জাতিগত নিপীড়ন-শোষণ-বৈষম্য-বঞ্চনার শিকার মুক্তিপাগল বাঙালি যুদ্ধের জন্য তৈরিই ছিলো বলা যায়।

Manual1 Ad Code

১৯৭১ সালের ১ ও ২ জুন কলকাতার বেলেঘাটায় যুদ্ধরত কমিউনিস্ট ও বামপন্থী দল এবং গণসংগঠনসমূহ মিলিত হয়ে গঠন করেছিল বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি। এ সম্মেলনে গৃহীত ঘোষণাপত্র তখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকার করেই সমন্বয় কমিটি সরকারকে সহযোগিতাও যেমন করবে, তেমনি স্বতন্ত্রভাবেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করবে। এ সমন্বয় কমিটির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দল ছিল ন্যাপ (ভাসানী) ও ‘কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি’ যার নেতৃত্বে সারাদেশে ১৪টি সশস্ত্র ঘাটি এলাকা ছিল।

Manual6 Ad Code

১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা সুসংগঠিত হয়ে পাক হানাদার বাহিনীকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। গাজীপুরের ছয়দানা মালেকের বাড়ি, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, রাজেন্দ্রপুর, মাজুখান রেলওয়ে ব্রীজ, কালীগঞ্জ, কাপাসিয়া, শ্রীপুরের ইজ্জতপুর, কাওরাইদ ব্রিজ, টঙ্গী, বোর্ড বাজার, ইছরকান্দি, কাশিমপুরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ধরে ঢাকার দিকে পলায়নরত পাক হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর রাতভর মুক্তিযুদ্ধের পর ১৫ ডিসেম্বর সকালে গাজীপুর মুক্ত হয়।

দিবসটি পালন উপলক্ষে গাজীপুরে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস উদযাপন কমিটি, গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন, জনকল্যাণ সমিতি, ভাওয়াল আইডিয়াল একাডেমি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গাজীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সংবর্ধনাসহ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।