সিলেট ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২৬
নিকোলাস মাদুরোর পক্ষে ভেনেজুয়েলায় চলছে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ।
নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ দেখিয়ে দিচ্ছে, একজন রাষ্ট্রপতিকে বন্দি করলেই জনগণকে বন্দি করা যায় না। নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে আনার পর ডনাল্ড ট্রাম্প দম্ভভরে ঘোষণা করেছিলেন, নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারাই ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
৩ জানুয়ারি মাদুরোকে অপহরণ করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসার পর সাংবাদিকরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ভেনেজুয়েলার শাসনভার এখন কার হাতে, কে বা কারা দেশটি শাসন করবেন? ট্রাম্প তখন নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারাই ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন ঘোষণা দিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের লোকদের দেখিয়ে বলেছিলেন, এরাই ভেনেজুয়েলা চালাবে এবং তার নির্দেশেই সবকিছু হবে। পরের দিন অবশ্য ট্রাম্প বললেন, তিনি আশা করেন অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ তাদের নীতি অনুসরণ করে দেশ চালাবেন। না হলে দেলসিদের ওপর মাদুরোর চেয়েও ভয়াবহ আঘাত করা হবে।
এরপর সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, ভেনেজুয়েলার পরবর্তী নেতা হিসেবে তিনি কি নোবেল বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর কথা ভাবছেন? উত্তরে ট্রাম্প বলেন, মাচাদো একজন চমৎকার মহিলা, কিন্তু নেতা হিসেবে তিনি তেমন গ্রহণযোগ্য নন।
নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অনেক আগে থেকেই ভেনেজুয়েলার বিতর্কিত নেত্রী, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মারিয়া মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রকে তার দেশে হামলা ও হস্তক্ষেপের জন্য বিভিন্ন বক্তৃতায়, এমনকি লিখিতভাবে বারবার অনুরোধ করেছেন। মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর মাচাদো প্রকাশ্যে মার্কিন নেতৃত্বকে ভেনেজুয়েলায় গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে দিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান। কিন্তু তার অনুরোধ সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার বাস্তবতায় তা সম্ভব হয়নি। যদি তা করার বাস্তবতা থাকত, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন নিশ্চয়ই আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম লঙ্ঘন করে রাতের অন্ধকারে কমপক্ষে ৪০ জনকে হত্যা করে মাদুরোকে অপহরণ করত না।
প্রকৃতপক্ষে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় এখন কে? দেশটির নিয়ন্ত্রণ ও শাসনভার এখন কার হাতে? মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ২৩৩ ধারা অনুসারে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে ৯০ দিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ করেছে। একই সঙ্গে নিকোলাস মাদুরোকেই দেশটির একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবেও উল্লেখ করেছে।
সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় দেলসি রদ্রিগেজ দেশটির দায়িত্ব পালন করলেও অনেকের কৌতূহল, ভেনেজুয়েলা আসলে এখন কে চালাচ্ছে?
ট্রাম্প প্রশাসন নিঃসন্দেহে মাদুরোকে অপহরণ করেছে ভেনেজুয়েলায় রেজিম চেঞ্জের উদ্দেশ্যে। কিন্তু অপহরণের পর ভেনেজুয়েলায় কি সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে? সরকারবিরোধীরা, দেশীয় অলিগার্ক, করপোরেট, মার্কিন এজেন্সি ও ধনী শ্রেণি তাদের অর্থে ব্যাপক জনসমাগম ও গণঅভ্যুত্থান তৈরি করতে পারেনি। বিপরীতে মাদুরো সমর্থকদের বিশাল মিছিল, জনসমাবেশ, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও যুদ্ধের প্রস্তুতি শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলকে মাতৃভূমি রক্ষায় উদ্দীপ্ত করছে এবং রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে তারা।
মারিয়া মাচাদোকে দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়ে অনীহার কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেন, তার গ্রহণযোগ্যতা নেই। মজার ব্যাপার হলো, মার্কিনিরাই দীর্ঘদিন ধরে এই মাচাদোকে অতিরঞ্জিত করে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করেছে। যোগ্যতা না থাকলেও এই বিতর্কিত, ধূর্ত ব্যক্তিকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পর্যন্ত দিয়েছে—যে পুরস্কার নিয়ে নোবেল কমিটিও দ্বিধাবিভক্ত ছিল। তাহলে যাকে সামনে রেখে তারা ভেনেজুয়েলার শাসনকাঠামো সাজাতে চেয়েছিল, ওই ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তারা নিজেরাই প্রশ্ন তুলছেন। নিশ্চয়ই তাদের কাছে তথ্য আছে যে, তাকে দিয়ে মাদুরোকে ঠেকানো যাবে না।
২০২৪ সালের ভেনেজুয়েলার নির্বাচনকে তারা কারচুপির ও অগ্রহণযোগ্য বলে মাদুরো সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাদের ভাষায় এই সরকার অবৈধ। তাহলে তারা কেন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করছেন না? সরকার বাতিলের কথা বলছেন না? এমন দাবি কেউ তুলেছে বলে শুনিনি। নির্বাচনের কথা মুখে না আনার কারণ কি বিরোধীদের আত্মবিশ্বাসের অভাব? মাদুরোর দল আবার ক্ষমতায় আসতে পারে—এটাই কি তাদের উদ্বেগ?
ট্রাম্প প্রশাসন সেটা না করে মাদুরো প্রশাসনকেই দিয়ে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করতে চায়। কারণ অন্য সরকার এলেও দেশবিরোধী যে কোনো চুক্তি বা কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ মাদুরোর দলের পক্ষ থেকেই আসবে। ওই বিবেচনায় কি তারা এই কৌশল অবলম্বন করছেন? কারণ মাদুরো জীবিত থাকলে, দেশে ও রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকলে তাকে অবজ্ঞা করে বা তাকে ব্যবহার করে ওই কাজ করা সম্ভব নয়।
হলিউডি মুভির কায়দায় মাদুরোকে দেশ থেকে তুলে আনতে পারলেও ক্ষমতা বিরোধীদের হাতে তুলে দিতে পারছেন না কেন ডনাল্ড ট্রাম্প? সেটা কি এই ভেবে যে, গায়ের জোরে করতে গেলে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হবে? একদিকে যেমন সরকারের গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে, অন্যদিকে টিকে থাকার বিষয়টিও কঠিন। ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটি পুরোপুরি দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ মার্কিন আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে, অন্য পক্ষ তার বিপক্ষে।
মাদুরোকে অপহরণের পর ট্রাম্প প্রশাসন ভেবেছিল, তারা ভেনেজুয়েলা দখল করে ফেলবে, দেশের সর্বস্তরের জনগণ তাদের স্বাগত জানাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। দেশটির অধিকাংশ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা ট্রাম্পকে দস্যু, চোর-ডাকাত, লুটেরা বলছে। দুদিন না যেতেই মার্কিনিরা স্বীকার করেছে যে মাদুরো অপহরণের মাধ্যমে সমস্যা কমেনি বরং জটিলতা বেড়েছে। দেশে গৃহযুদ্ধ বেধে গেলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তেল ও খনিজসম্পদ লুণ্ঠনের অভিলাষ পূরণ হবে না। দেশটি জ্বলন্ত বৈরুত বা ভিয়েতনামের মতো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠবে—যা কারও জন্য সুখকর হবে না।
চীন-রাশিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর ভূমিকা ও সমর্থনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইতিমধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা সমাধানের কথা বলেছেন।
মাদুরো যদি এতটা অজনপ্রিয় হতেন, তাহলে অপহরণের পর দেশটি স্বয়ং বিরোধীদের দখলে চলে যাওয়ার কথা। তা হয়নি কেন? অর্থাৎ বিরোধীদের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন ও আস্থা নেই। বামপন্থী মাদুরোর প্রশাসনের বিশাল জনসমর্থন আছে বলেই তারা এখনো টিকে আছে। এত বড় ঘটনার পর সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা কেউ পক্ষ ত্যাগ করেননি। বরং দিন দিন ভেনেজুয়েলা মাদুরোময় হয়ে উঠছে।
পশ্চিমা মিডিয়ায় মাচাদোপন্থীদের উল্লাস-নাচ দেখানো হচ্ছে, কিন্তু মাদুরোর পক্ষে লাখ লাখ লোক রাস্তায় নামছে—তার প্রচার করা হচ্ছে না। শুধু ভেনেজুয়েলায় নয়, সারা পৃথিবীতে মাদুরোর পক্ষে বিক্ষোভ হচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী ব্রাজিল সরকার ‘কমিউনিটি অব লাতিন আমেরিকান অ্যান্ড ক্যারিবিয়ান স্টেটস’ (CELAC)-এর জরুরি সভা আহ্বান করেছে। এই ঘটনায় পুরো লাতিন আমেরিকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। লাতিন ও ক্যারিবীয় তরুণ-যুবকরা ভেনেজুয়েলার পক্ষে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করছে। বিশ্বের অন্য পরাশক্তি চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়াসহ ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা—অধিকাংশ দেশেই ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত হয়েছে। এমনকি তার নিজ দেশেও বিরোধী পক্ষ ও সাধারণ জনগণ ট্রাম্পের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। কতগুলো ইস্যু ট্রাম্প গায়ের জোরে ঠেকাবেন—শুল্ক, অভিবাসন, বেকারত্ব, যুদ্ধ? ট্রাম্প কি পারবেন নিজ দেশে, প্রতিবেশীদের ও বিশ্ব জনমতকে অবজ্ঞা করতে?
মাদুরো অপহরণের ঘটনায় জাতিসংঘ সনদ ও সার্বভৌমত্বের নীতি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শক্তিধর রাষ্ট্র একতরফা পদক্ষেপ নিলে নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ছোট ও মাঝারি দেশগুলো আরও নিরাপত্তাহীন হবে, আঞ্চলিক জোট ও অস্ত্রায়ন বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র বনাম রাশিয়া-চীন ব্লকের মধ্যে উত্তেজনা বাড়বে। লাতিন আমেরিকায় মার্কিনবিরোধী প্রতিরোধ জোরদার হতে পারে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা বলেছেন, ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে বোমাবর্ষণ করে প্রেসিডেন্টকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র সব সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি আরও বলেন, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে হস্তক্ষেপ ভয়াবহ। তিনি এ বিষয়ে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চান। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সংকট সমাধানে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। একই প্রস্তাব স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের।
মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক ভিডিও বার্তায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, মাদুরো স্বৈরাচারী, একনায়ক হতে পারেন, কিন্তু ট্রাম্পের অধিকার নেই একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে প্রবেশ করে কাউকে গ্রেপ্তার করার। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও গত নির্বাচনের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসও এক্স-এ ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ ও মাদুরোকে অপহরণের মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছেন। ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সেই দেশে একটি গৃহযুদ্ধে পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন।”
পশ্চিমা মিডিয়া দেখলে মনে হবে ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর অবস্থা খুব করুণ। কিন্তু ভেনেজুয়েলার জনগণ রাজপথ দখল করছে, শুধু ভেনেজুয়েলা নয় আমেরিকার প্রধান শহরসহ সারা বিশ্ব ফুঁসে উঠছে। অর্থাৎ দেশে-বিদেশে ট্রাম্প-রুবিও ও মার্কিন প্রশাসন যেভাবে আক্রমণ ও প্রতিরোধের মুখোমুখি হবেন, তাতে সামনের দিনগুলো তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।
মাদুরোর দল ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলার (পার্তিদো সোশালিস্তা উনিদো দে ভেনেজুয়েলা, যা সংক্ষেপে পিএসইউভি বলে পরিচিত) সঙ্গে নীতিগত দ্বন্দ্ব থাকলেও কমিউনিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলাও মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধের ডাক দিয়েছে। দেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও রাস্তায় নেমে পড়েছে। সর্বস্তরের মানুষ পথে নেমেছে। তারা স্লোগান তুলছে: ‘ঐক্যবদ্ধ জনগণ কখনো পরাজিত হয় না’।
#
লেখক :
ড. মঞ্জুরে খোদা টরিক
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি