সিলেট ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২৬
ভর্তি বাণিজ্যবিরোধী আন্দোলনের অগ্রদূত, যার আত্মত্যাগ বদলে দিয়েছিল কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির ইতিহাস
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ : বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী নেতা, বীর শহীদ রেজওয়ানুল ইসলাম চৌধুরী সানি’র ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
দিনটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনগুলো তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
শহীদ সানি ছিলেন কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান ভর্তি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলনের এক অগ্রণী নেতা। ২০০৯ সালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে তথাকথিত দলীয় কোটার আড়ালে চলা ভর্তি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর ব্যানারে আন্দোলন গড়ে তুলতে গিয়ে তিনি ও তার সহযোদ্ধারা তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রমৈত্রীর নেতৃবৃন্দের গতিবিধি দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি ছাত্রমৈত্রীর নেতৃত্বের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। ছাত্র শিবিরের অনুপ্রবেশকারী নিজাম–তুষার গংয়ের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা এই নৃশংস হামলা চালায়।
হামলার সময় ধারালো হাসুয়ার আঘাতে শহীদ সানি গুরুতর আহত হন। তার মাথায় আঘাত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মগজ বেরিয়ে আসে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই হামলায় ছাত্রমৈত্রীর আরেক নেতা শেরাফাত আলী বুলবুল গুরুতর আহত হন। তিনি দীর্ঘ প্রায় ছয় থেকে সাত মাস স্মৃতিশক্তি হারিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার পর তিনি বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারলেও সেই ভয়াবহ দিনের মানসিক ট্রমা আজও তাকে তাড়িত করে।
শহীদ সানি’র আত্মত্যাগ শুধু একটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং তা দেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করে। তার জীবনোৎসর্গের প্রেক্ষাপটে আন্দোলন তীব্রতর হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ভর্তি বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সকল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তির প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে এই অনলাইনভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি ধীরে ধীরে দেশের প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু হয়। এর ফলে নিজ নিজ মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত হয় এবং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ার অবসান ঘটতে শুরু করে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ভিত্তিপ্রস্তর রচিত হয়েছিল শহীদ সানি’র আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, সানি হত্যা মামলার বিচারিক রায় ঘোষিত হলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তার সহযোদ্ধা ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা মনে করেন, বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি ভবিষ্যতে আরও অন্যায়ের জন্ম দিতে পারে।
শহীদ সানি’র ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ’৯০-এর মহান গণ-অভ্যুত্থানের সংগঠক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “শহীদ সানি’র আত্মত্যাগ প্রমাণ করে দিয়েছে যে সংগ্রাম কখনো বৃথা যায় না। তার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার আমাদের রক্ষা করতেই হবে।”
দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন ছাত্র ও শ্রমজীবী সংগঠন আলোচনা সভা, স্মরণসভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
শহীদ সানি—লাল সালাম।
তার আত্মত্যাগ ইতিহাসে অমলিন হয়ে থাকবে।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি