সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বিচারে ব্যর্থ সরকার: ৩২ বিশিষ্ট নাগরিক

প্রকাশিত: ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২৬

সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বিচারে ব্যর্থ সরকার: ৩২ বিশিষ্ট নাগরিক

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ : দেশে একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও ধারাবাহিক সহিংসতা, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর নৃশংস হামলা, হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ধর্মীয় স্থাপনায় আক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা মনে করেন, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

গতকাল দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারায় দেশে অপরাধ প্রবণতা ও সহিংসতা আরও উৎসাহিত হচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে মন্দির, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ও হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় দেশি-বিদেশি উস্কানিদাতা ও পৃষ্ঠপোষক গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে মদদ দিচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

৩২ বিশিষ্ট নাগরিক অভিযোগ করেন, “আমরা বিস্ময় ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, প্রতিটি ঘটনার পর তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও নাশকতা, হত্যা ও হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের ক্ষেত্রে সরকার বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।” এর ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

Manual2 Ad Code

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব সহিংসতা পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করা, সাম্প্রদায়িক বিভাজন উসকে দেওয়া এবং একটি ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করাই এসব ঘটনার মূল উদ্দেশ্য বলে জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিঘ্নিত করতে একটি মহল এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

Manual8 Ad Code

এ অবস্থায় চার দফা দাবি উত্থাপন করেন বিবৃতিদাতারা।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
২. এসব ঘটনার নেপথ্যে থাকা উস্কানিদাতা ও পৃষ্ঠপোষক গোষ্ঠীকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩. সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা।
৪. মন্দির, গির্জাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীরা।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—সুলতানা কামাল, খুশী কবির, রাশেদা কে. চৌধুরী, জেড আই খান পান্না, ইফতেখারুজ্জামান, আনু মুহাম্মদ, সৈয়দ আমিরুজ্জামান, শাহীন আনাম, ফিরদৌস আজিম, শামসুল হুদা, নূর খান, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়ের, সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেন, স্বপন আদনান, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, রোবায়েত ফেরদৌস, জোবাইদা নাসরীন, মনিন্দ্র কুমার নাথ, পাভেল পার্থ, সালেহ আহমেদ, পারভেজ হাসেম ও রেজাউল করিম চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

Manual4 Ad Code

বিবৃতিদাতারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সংখ্যালঘু নাগরিকদের জানমাল ও ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

Manual4 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ