সিলেট ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:১২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | নয়াদিল্লি (ভারত), ২২ জানুয়ারি ২০২৬ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ ভারতের যোগদান নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের পাঁচটি বাম দল— কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (এমএল) লিবারেশন, অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক এবং রেভল্যুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি— এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছে, যাতে ভারত এই মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
বাম দলগুলোর অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই ‘বোর্ড অব পিস’ আসলে গাজার জন্য ঘোষিত তথাকথিত ‘গাজা পিস প্ল্যান’ কার্যকর করার একটি হাতিয়ার। এই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত। ফলে, এই বোর্ডে ভারতের অংশগ্রহণ হলে তা ফিলিস্তিনি জনগণের ঐতিহাসিক সংগ্রামের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে বলে মনে করছে বামপন্থীরা।
জাতিসংঘকে পাশ কাটানোর অভিযোগ
যৌথ বিবৃতিতে বাম নেতারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রস্তাবিত বোর্ড ইচ্ছাকৃতভাবে জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে একটি নতুন আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণভাবে মার্কিন নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় জাতিসংঘ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, তাকে দুর্বল করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাম দলগুলোর মতে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনও উদ্যোগ জাতিসংঘের কাঠামোর মধ্যেই হওয়া উচিত। একক কোনও শক্তিধর রাষ্ট্রের ইচ্ছানুসারে গঠিত বোর্ড আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তা বহুপাক্ষিকতার মূল নীতিকে ক্ষুণ্ন করে।
ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থানের প্রসঙ্গ
বিবৃতিতে ভারতের ঐতিহাসিক পররাষ্ট্রনীতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে এবং উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে এসেছে। জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা দেশ হিসেবে ভারত সবসময় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার কথা বলেছে।
বাম নেতাদের বক্তব্য, বর্তমান প্রস্তাবে সায় দিলে ভারতের সেই ঐতিহ্যবাহী অবস্থান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটে ভারতের নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী অভিসন্ধি’র অভিযোগ
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই বোর্ড আসলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী অভিসন্ধিরই প্রতিফলন। গাজা ও বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট জনগণ ও রাষ্ট্রগুলোর মতামতকে উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে শুধু ফিলিস্তিন নয়, গোটা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাম দলগুলোর মতে, ভারত যদি এই উদ্যোগে যুক্ত হয়, তবে তা ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের হস্তক্ষেপকে বৈধতা দেবে। তাই এই মুহূর্তে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সরকারের প্রতি আহ্বান
বিবৃতির শেষাংশে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ভারত যেন এই ধরনের প্রস্তাব থেকে দূরে থাকে এবং জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ফিলিস্তিনের পক্ষে নিজের অবস্থান আরও জোরালো করে। পাশাপাশি, মার্কিন চাপ বা প্রলোভনে না পড়ে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সঙ্গে সংহতি বজায় রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন— সিপিআই-এর সাধারণ সম্পাদক ডি. রাজা, সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লকের সাধারণ সম্পাদক জি. দেবরাজন এবং রেভল্যুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভট্টাচার্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতি শুধু একটি কূটনৈতিক প্রস্তাবের বিরোধিতা নয়, বরং ভারতের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির দিশা নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি