সিলেট ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
একদিন লিখেছিনু আদর্শ যে হবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।
আজ লিখিতেছি বড় দুঃখ লয়ে প্রাণে
তোমরা মানুষ হবে কাহার কল্যাণে?
মানুষ গড়িয়া ওঠে কোন্ উপাদানে;
বাঙালি বোঝেনি তাহা এখনো জীবনে—
পুঁথি হাতে পাঠ শেখা—দু-চারটে পাশ
আজিকার দিনে তাহে মিলে না আশ্বাস,
চাই শৌর্য, চাই বীর্য, তেজে ভরা মন
“মানুষ হইতে হবে” হবে এই পণ—
বিপদ আসিলে কাছে হবে আগুয়ান
দুই খানি বাহু বিশ্বে সবারি সমান—
দাতার যে দান তাহা সকলেই পায়
কেউ ছোট কেউ বড় কেন হয়ে যায়!
কেন তবে পদতলে পড়ি বারবার?
“মনুষ্যত্ব” জাগাইলে পাইব উদ্ধার— |
যত অপমান, যত লাঞ্ছনা পীড়ন
একতার বলে সব হইবে দমন!
তেজীয়ান, বলীয়ান সেই ছেলে চাই
সোনার বাংলা আজি হারায়েছে তাই |
আবার গড়িতে হবে বীর শিশুদল,
বাংলার রূপ যাহে হবে সমুজ্জ্বল।
#
কবিতাটির সারমর্ম—
কুসুমকুমারী দাশের “মনুষ্যত্ব” কবিতায় কবি মানুষের প্রকৃত আদর্শ ও মানবিক গুণাবলির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। কবি মনে করেন, প্রকৃত মানুষ হওয়া মানে শুধু বই পড়া, পরীক্ষায় পাশ করা বা কথায় বড় হওয়া নয়; বরং কাজে বড় হওয়া, সাহসী হওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি অর্জন করাই মানুষের আসল পরিচয়।
কবিতায় বলা হয়েছে, মানুষ গড়ে ওঠে শৌর্য, বীর্য, তেজ, মানবিকতা ও সমতার আদর্শে। বিপদের সময় এগিয়ে আসা, সকল মানুষকে সমান চোখে দেখা এবং দানের ক্ষেত্রে বৈষম্য না করাই মনুষ্যত্বের লক্ষণ। কবি আক্ষেপ করে বলেন, বাঙালি জাতি এখনো এই সত্য পুরোপুরি বুঝতে পারেনি বলেই বারবার অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে।
কবির মতে, মনুষ্যত্ব জাগ্রত হলে ঐক্যের শক্তিতে সব অন্যায় ও নিপীড়ন দমন করা সম্ভব। তাই তিনি তেজস্বী, বলশালী ও সাহসী নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যারা আবার বাংলাকে গৌরবান্বিত করবে।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি