সিলেট ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সাবেক সদস্য, খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, কিংবদন্তী শ্রমিক নেতা ও বর্ষীয়ান মার্কসবাদী রাজনীতিক কমরেড হাফিজুর রহমান ভূইয়ার ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষে খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
শ্রমিক আন্দোলনের আপসহীন নেতা হিসেবে খ্যাত কমরেড হাফিজুর রহমান ভূইয়া আজীবন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানা রক্ষা, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
কমরেড হাফিজুর রহমান ভূইয়া ১৯৪৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৫৯ সালে এসএসসি পাসের পর ১৯৬০-৬১ সালে দৌলতপুর বিএল কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ ঘটে। ছাত্রাবস্থায় প্রবীণ বাম রাজনীতিক কমরেড কালিপদ ঘোষের হাত ধরে তিনি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন।
পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে আযমখান কমার্স কলেজ থেকে বি.কম এবং ১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষিত হয়েও ব্যক্তিগত উন্নতির পথ বেছে না নিয়ে তিনি শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামের পথে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেন।
শ্রমিক আন্দোলনে সম্পৃক্ততা
কমরেড নজরুল ইসলামের প্রেরণায় ১৯৬৬ সালে তিনি শ্রমিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলে চাকরিতে যোগদান করেন। সেখানে এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নে একাধিকবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পাশাপাশি আলিম ও ইস্টার্ন জুট মিলস মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তাঁকে পদোন্নতির প্রস্তাব দিলেও তিনি শ্রমিক আন্দোলনের স্বার্থে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে ডিজিএম পদে লোভনীয় পদোন্নতিও তিনি নেননি—যা তাঁর আদর্শিক দৃঢ়তা ও শ্রমিক স্বার্থের প্রতি অবিচল অবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৭০ সালের শুরুতে তিনি পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ইউপিপি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯২ সালে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের ঐক্য কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে পুনর্গঠিত বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির খুলনা জেলা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে সপ্তম পার্টি কংগ্রেসে তিনি পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৫ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি পার্টির খুলনা জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংগ্রামী জীবন ও কারাভোগ
আন্দোলনমুখর জীবনে তিনি রক্ষীবাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন এবং বিভিন্ন সময়ে মোট পাঁচবার কারাভোগ করেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সংগ্রাম, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা আন্দোলন এবং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি ছিলেন সামনের সারির সংগঠক।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন কমিটি, পাট-সুতা-বস্ত্রকল সংগ্রাম পরিষদ, খুলনা-যশোর পাট শিল্প সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিল ডাকাতিয়া সংগ্রাম কমিটি, “পানি ঠেকাও ফুলতলা বাঁচাও” আন্দোলন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং শিল্প-কারখানা রক্ষা আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব ছিল সুদৃঢ় ও প্রভাবশালী।
শিক্ষা ও সামাজিক অবদান
রাজনৈতিক ও শ্রমিক আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তাঁর উদ্যোগ ও নেতৃত্বে ফুলতলা এম এম কলেজ, ফুলতলা মহিলা ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়, যা অঞ্চলের শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মৃত্যুবার্ষিকী পালন
৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে খুলনার আলীম গেট চত্বরে স্মরণ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় তাঁর সমাধিতে পার্টির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় ফুলতলা উপজেলা অডিটোরিয়ামে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।
উক্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পার্টির জেলা সভাপতি কমরেড অ্যাডভোকেট মিনা মিজানুর রহমান, মহানগর সভাপতি কমরেড শেখ মফিদুল ইসলাম, জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড আনসার আলী মোল্লা, মহানগর সাধারণ সম্পাদক কমরেড এস এম ফারুখ-উল-ইসলাম, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মনির আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার উদ্দিন দিলু।
শ্রদ্ধা ও মূল্যায়ন
ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন, “কমরেড হাফিজুর রহমান ভূইয়ার সংগ্রামী জীবন আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করে শ্রমিকশ্রেণির মুক্তির লড়াইয়ে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ ও সংগ্রাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
শ্রমিক অধিকার ও প্রগতিশীল রাজনীতির ধারায় কমরেড হাফিজুর রহমান ভূইয়ার অবদান স্মরণ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আরও বেগবান হবে।
কিংবদন্তী শ্রমিক নেতা ও বর্ষীয়ান মার্কসবাদী রাজনীতিক কমরেড হাফিজুর রহমান ভূইয়া স্মরণে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—
আজ আবার ফেরে সেই বারোই ফেব্রুয়ারি,
শ্রমিকের চোখে আজ নীরব অগ্নিধারী।
খুলনার মাটিতে বাজে শোকের ঢেউ,
লাল পতাকাতে জাগে স্মৃতির বাউল বেউ।
দামোদর গ্রামের মাটির ঘ্রাণ ভরা,
সেই ঘরেই জন্ম নিল দীপ্ত তারা।
উনিশশো চুয়াল্লিশের প্রভাত আলোয়,
এসেছিল শিশু এক সংগ্রামের ঢালোয়।
সম্ভ্রান্ত পরিবার, শিকড় ছিল দৃঢ়,
তবু হৃদয় জুড়ে ছিল জনতার সূর্য।
কৈশোরেই শুনেছে মেহনতি গান,
ক্ষুধার্ত জনতার অশ্রুর টান।
এসএসসি পেরিয়ে তরুণ অগ্রপথিক,
বিএল কলেজে জাগে লাল রাজনীতি দীক্ষা।
ছাত্র ইউনিয়নের পতাকা হাতে,
শপথ নিয়েছিল অন্যায় রুখিতে।
কালিপদ ঘোষের দীপ্ত হাত ধরে,
কমিউনিস্ট স্বপ্ন যায় রক্তে ভরে।
বইয়ের পাতায় শুধু পাঠ নয়,
শ্রমিকের মুক্তি ছিল তার জয়।
বি.কম শেষে জ্ঞানের সাধনা,
রাজশাহীতে এম.কম স্বপ্ন গাঁথা।
কিন্তু ডিগ্রির চেয়ে বড়ো যে শপথ,
শোষণের শৃঙ্খল ভাঙার রথ।
নজরুলের আহ্বানে এল ডাক,
খালিশপুর মিলের জেগে উঠল ফাঁক।
প্লাটিনাম জুবিলির জুটের চাকা,
ঘুরে ঘুরে শুনত শ্রমিকের ফাঁকা।
চাকুরির ভেতরে সংগ্রামের শপথ,
মজদুর ইউনিয়নে নেতৃত্বের রথ।
সভাপতি, সম্পাদক—বারেবারে জয়,
শ্রমিকের হৃদয়ে তারই আশ্রয়।
আলিম মিল, ইষ্টার্ণের কণ্ঠ,
শুনেছে তারই প্রতিবাদের সুরম্য।
পদোন্নতির লোভনীয় ডালি,
ফিরিয়ে দিলেন অবিচল খালি।
ডিজিএম পদের স্বর্ণ প্রলোভন,
নেননি তিনি—শ্রমিকেই জীবন।
ব্যক্তিগত সুখ ছিল তুচ্ছ তার,
সমষ্টির মুক্তিই একমাত্র ধার।
সত্তরের প্রভাতে পার্টির সভ্য,
লেনিনবাদী পথ করে দৃশ্য।
ইউপিপি থেকে ঐক্যের ডাকে,
সংগ্রামের ধারা অটুট থাকে।
ওয়ার্কার্স পার্টির ঐতিহাসিক ক্ষণ,
ঐক্য কংগ্রেসে দৃপ্ত ঘোষণা।
খুলনা জেলার নেতৃত্বভার,
কেন্দ্রীয় কমিটিতে অবিচল দ্বার।
পলিটব্যুরোর সম্মানিত আসন,
সংগঠনের প্রতি অমল বিশ্বাসন।
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সভাপতির দায়,
শ্রমিকের পাশে থেকেছেন সদাই।
রক্ষীবাহিনীর নির্মম প্রহার,
কারাগারের অন্ধকার পার।
পাঁচ পাঁচবার বন্দিত্বের রাত,
তবু দমেনি তার সংগ্রামের হাত।
পাট-সুতা-বস্ত্রকলের অগ্নি,
মজুরির দাবিতে জেগেছে ধ্বনি।
জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের শপথ,
সংগ্রামের পথে অবিরাম রথ।
খুলনা-যশোর পাটশিল্প রক্ষা,
ডাকাতিয়া বিলে জীবনের আকাঙ্ক্ষা।
পানি ঠেকাও, ফুলতলা বাঁচাও,
মাটির মানুষের অধিকার কাঁচাও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নরেখা,
শিল্প রক্ষার দৃপ্ত দেখা।
সাম্রাজ্যবাদী আঁধারের বিরুদ্ধ,
সম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সুদৃঢ়।
স্বৈরশাসনের কালো দেয়াল,
ভেঙে দিতে ছিলেন অগ্নিজ্বাল।
রাষ্ট্রায়ত্ত মিলের কান্নাধ্বনি,
তার কণ্ঠে পেত মুক্তির বাণী।
শ্রমিকের চোখে তিনি ছিলেন পথ,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগ্রত শপথ।
দরিদ্রের ঘরে আলোর দিশা,
সংগ্রামী জীবনের অমল দীক্ষা।
ফুলতলা এম এম কলেজ দাঁড়ায়,
মহিলা ডিগ্রি কলেজ স্বপ্ন গড়ায়।
শিক্ষার আলোয় আলোকিত গ্রাম,
তারই শ্রমে রচিত অবিরাম।
কমরেড, তোমার অমল নাম,
মেহনতিদের হৃদয়ে অবিরাম।
তোমার পদচিহ্ন ধূলিমাখা,
আজও সে পথে সংগ্রাম আঁকা।
বারোই ফেব্রুয়ারির শোক নয় শুধু,
এ দিন জাগায় অগ্নিস্ফুলিঙ্গ রুদ্র।
আলীম গেটের জনতার ঢল,
স্মৃতির ভেতর জাগে নতুন বল।
সমাধির বুকে লাল ফুল ঝরে,
শপথ জাগে দৃঢ় কণ্ঠস্বরে।
অডিটরিয়ামে গুঞ্জরিত গান,
“শ্রমিকের মুক্তি, হোক অবসান।”
তুমি আছো লাল পতাকার ভাঁজে,
তুমি আছো প্রতিটি রক্তমাঝে।
কারখানার সাইরেন বাজে যখন,
তোমার ডাকেই জাগে সংগঠন।
হে বর্ষীয়ান মার্কসবাদী প্রাণ,
তোমার জীবন সংগ্রামের গান।
শোষণহীন এক সমাজ স্বপ্ন,
তোমারই বুকে রচিত অক্ষর।
মৃত্যু কেবল দেহের অবসান,
আদর্শ থাকে অনির্বাণ।
শ্রমিকের ঘামে, মাঠের ধুলায়,
তোমার নামই জেগে ওঠে ফুলায়।
আজ নবম বর্ষে স্মরণক্ষণ,
নব অঙ্গীকার, নব আয়োজন।
তোমার অসমাপ্ত পথের ধারা,
আমরাই হব তারই তারা।
যতদিন জুটের চাকা ঘুরে,
যতদিন সূর্য ওঠে ভোরে,
ততদিন কমরেড তোমার গান,
জাগাবে লড়াই, জাগাবে প্রাণ।
হে শ্রমিকনেতা, লাল অভিবাদন,
তোমার আদর্শ চির অক্ষয় লোক।
বাংলার মাটিতে শপথ করি—
শোষণমুক্ত স্বদেশ গড়ি।
এই হোক তোমার প্রতি শ্রদ্ধা,
সংগ্রামে থাকুক অটল প্রত্যয়-নিবদ্ধ।
কমরেড হাফিজুর রহমান ভূইয়া নাম,
বাংলার ইতিহাসে অম্লান ধ্রুবধাম।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি