মির্জা আব্বাস প্রচণ্ড রকম অসুস্থ: একদল বেয়াদবের সংগঠিত বুলিং ও হ্যারাসমেন্টের শিকার

প্রকাশিত: ২:৩২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০২৬

মির্জা আব্বাস প্রচণ্ড রকম অসুস্থ: একদল বেয়াদবের সংগঠিত বুলিং ও হ্যারাসমেন্টের শিকার

Manual2 Ad Code

হাফিজ সরকার |

মির্জা আব্বাস প্রচণ্ড রকম অসুস্থ। তাঁর সঙ্গে যা করা হয়েছে তাকে রাজনীতি বলা যায় না। আসলে তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই কাজটি করিয়াছে জামাত আর করেছে এনসিপির একদল বেয়াদব, আক্রমণাত্মক রাজনীতিক। এর নেতৃত্বে ছিলেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। সোজা ভাষায় বললে, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও এনসিপির কিছু নেতা মিলে যা করেছেন, সেটি হলো সংগঠিত বুলিং ও হ্যারাসমেন্ট।

Manual7 Ad Code

সংগঠিত বুলিং ও হ্যারাসমেন্ট বলতে আমরা কী বুঝি?

Manual2 Ad Code

যখন কারও রাজনৈতিক অবস্থান, নীতি, বা কাজের সমালোচনা না করে তাঁকে ব্যক্তি হিসেবে টার্গেট করা হয়, এবং সেটি ধারাবাহিকভাবে এমনভাবে করা হয় যাতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, তখন সেটিই সংগঠিত বুলিং। মির্জা আব্বাসের ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই ঘটেছে। তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক মোকাবিলা করা হয়নি। তাঁর বক্তব্যের জবাব রাজনৈতিকভাবে দেওয়া হয়নি। বরং কয়েকজন তথাকথিত তরুণ নেতা দল বেঁধে তাঁকে ঘিরে যে আচরণ করেছে, তা নিছক বুলিং।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, মির্জা আব্বাসের পক্ষে বিএনপির যেভাবে দাঁড়ানো উচিত ছিল, সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি। তাঁকে যে মানসিক, রাজনৈতিক, এবং দলগত সমর্থন দেওয়া দরকার ছিল, বিএনপি সেটিও দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি বিএনপির বড় ধরনের ব্যর্থতা। একটি দল যদি নিজের সিনিয়র নেতার পাশে সংকটের মুহূর্তে দৃঢ়ভাবে না দাঁড়ায়, তাহলে সেটি শুধু সাংগঠনিক দুর্বলতাই নয়, রাজনৈতিক দূরদৃষ্টিরও অভাব প্রকাশ করে।

Manual8 Ad Code

বিএনপির এখন বুঝতে হবে, জামায়াতের যুবসংগঠনসুলভ এই এনসিপি যে কায়দায় রাজনীতি করছে, সেটি জেন্টলম্যান পলিটিক্স নয়। এদের ভাষা, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, এবং আক্রমণাত্মক প্রবণতা কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়, এরা ব্যক্তি নয়, প্যাক হিসেবে কাজ করে। এরা প্যাক মেন্টালিটি থেকে অপারেট করে। একজনকে আলাদা করে চিহ্নিত করে, তারপর দল বেঁধে তার ওপর চড়াও হয়। প্রথমে তারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে টার্গেট করেছে, তারপর সালাউদ্দিন আহমেদকে, এরপর মির্জা আব্বাসকে। কাল তারা তারেক রহমানকে টার্গেট করবে না, জায়মা রহমানকে করবে না, বা তারেক রহমানের স্ত্রীকে করবে না, এমন নিশ্চয়তা কোথায়? তারা আসলে ওয়াটার টেস্ট করছে। কোথায় কতদূর যাওয়া যায়, কে কতটা সহ্য করে, কোথায় প্রতিরোধ দুর্বল, সেটাই তারা মেপে নিচ্ছে।

এটিকে আইনগতভাবে ডিল করা ঠিক হবে না। কারণ রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান কেবল আইন দিয়ে হয় না। কিন্তু সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে এর মোকাবিলা অবশ্যই করা যায়। বিএনপি চাইলে সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, অ্যাক্টিভিস্ট, এবং সামাজিকভাবে প্রভাবশালী মহলের কাছে পৌঁছাতে পারে। তাদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে যে এই নেতাদের প্যাক মেন্টালিটি, ধারাবাহিক হ্যারাসমেন্ট, এবং বুলিংয়ের ভাষা আসলে রাজনীতির সুস্থ পরিবেশকে ধ্বংস করছে। এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে না বলা, জনমত তৈরি করা, এবং রাজনৈতিকভাবে একে অগ্রহণযোগ্য করে তোলাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।

Manual6 Ad Code

বিএনপি যদি এখনই এই কাজ না করে, তাহলে আজ নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী যেভাবে মির্জা আব্বাসকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, কাল অন্য কেউ আরেকজনকে একইভাবে টার্গেট করবে। এই প্রক্রিয়া থামবে না, বরং আরও স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তাই সময় থাকতে বিএনপির উচিত নিজেদের নেতা ও কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্নটিকেও রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসেবে দেখা। কারণ রাজনীতি শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, এটি মানুষকে নিয়ে কাজ করার বিষয়। আর মানুষকে যদি ধারাবাহিকভাবে অপমান, হ্যারাসমেন্ট, এবং মানসিক চাপে ভেঙে ফেলা হয়, তাহলে সেটি আর রাজনীতি থাকে না, সেটি হয়ে ওঠে নিষ্ঠুরতা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ