শিশু হাম-এ আক্রান্ত হলে কী করণীয়?

প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২৬

শিশু হাম-এ আক্রান্ত হলে কী করণীয়?

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬ : বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হাম (Measles)। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ এবং টিকাদান কর্মসূচি (EPI) একযোগে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছে।

হাম কী এবং কেন বিপজ্জনক

Manual7 Ad Code

হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে—

জ্বর,
সর্দি-কাশি,
চোখ লাল হওয়া,
শরীরে লালচে ফুসকুড়ি।

চিকিৎসা না হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে—বিশেষ করে অপুষ্ট বা কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে।

Manual3 Ad Code

শিশু আক্রান্ত হলে করণীয়

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নিলে জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে করণীয়গুলো হলো—

১. আলাদা রাখা (Isolation):
আক্রান্ত শিশুকে পরিবারের অন্য সদস্য, বিশেষ করে অন্য শিশুদের থেকে দূরে রাখতে হবে, যাতে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে।

২. দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া:
লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৩. নিজে থেকে ওষুধ না দেওয়া:
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়ানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

৪. সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা:

পরিচর্যার সময় মাস্ক ব্যবহার করা,
শিশুকে স্পর্শ করার আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া,
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা,
প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Manual7 Ad Code

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এমআর (Measles-Rubella) টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সচেতনতার গুরুত্ব

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “হাম প্রতিরোধে শুধু একটি পরিবারের সচেতনতা যথেষ্ট নয়। পুরো সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়দেরও এ বিষয়ে জানাতে হবে।”

Manual3 Ad Code

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান

শিশুর টিকা নিশ্চিত করুন,
জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবহেলা করবেন না,
ভিড় এড়িয়ে চলুন,
আক্রান্ত শিশুকে স্কুল বা জনসমাগমে পাঠাবেন না।

উপসংহার

হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও অবহেলার কারণে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই সময়মতো টিকাদান, দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই পারে শিশুদের নিরাপদ রাখতে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “দ্রুত পদক্ষেপই পারে একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে।”

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ