জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের নেতৃত্বে নতুন উদ্যোগ

প্রকাশিত: ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২, ২০২৬

জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের নেতৃত্বে নতুন উদ্যোগ

Manual2 Ad Code
‘ইউথ ক্লাইমেট গ্রান্ট ২০২৬’-এ সারাদেশের নিবন্ধিত যুব সংগঠনগুলোর প্রি-রেজিস্ট্রেশন আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০২ জুন ২০২৬: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্ব ও স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে ‘ইউথ ক্লাইমেট গ্রান্ট ২০২৬’ কর্মসূচির প্রি-রেজিস্ট্রেশন আহ্বান করেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ভিএসও বাংলাদেশ (VSO Bangladesh)।

দেশের আটটি বিভাগের নিবন্ধিত যুব সংগঠনগুলোর জন্য উন্মুক্ত এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, জলবায়ু-স্মার্ট উদ্ভাবন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক টেকসই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হবে।

Manual7 Ad Code

সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্বাচিত সংগঠনগুলো ২০২৬ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন জলবায়ু অভিযোজন ও কমিউনিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। এ লক্ষ্যে ৩ জুন ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে প্রি-রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করা হবে।

Manual5 Ad Code

তরুণদের জলবায়ু নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে। বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থান, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে জলবায়ু ঝুঁকির শীর্ষ দেশগুলোর একটি। এই বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের অংশগ্রহণকে টেকসই জলবায়ু সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে ভিএসও বাংলাদেশ।

সংস্থাটির মতে, তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্যোগগুলো স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে অধিকতর সংযুক্ত হওয়ায় কমিউনিটি পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিশেষ করে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, সামাজিক সচেতনতা, স্থানীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা প্রচারে যুব সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব খাতে গুরুত্ব দেওয়া হবে

‘ইউথ ক্লাইমেট গ্রান্ট ২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় জলবায়ু উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

জলবায়ু অভিযোজন (Climate Adaptation),
জলবায়ু-স্মার্ট জীবিকা (Climate-smart Livelihoods),
প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (Nature-based Solutions),
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার,
নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (WASH),
কৃষি ও আগ্রোইকোলজি,
দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (DRR),
যুব নেতৃত্ব ও স্বেচ্ছাসেবিতা,
অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ।

কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে ছোট ছোট কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব। এ ধরনের গ্রান্ট কর্মসূচি তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও উৎসাহিত করবে।

Manual7 Ad Code

নিবন্ধিত যুব সংগঠনগুলোর জন্য সুযোগ

এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে হলে সংগঠনকে অবশ্যই নিবন্ধিত যুব সংগঠন হতে হবে। ভিএসও বাংলাদেশ জানিয়েছে, প্রি-রেজিস্ট্রেশন হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত বা শর্টলিস্টেড সংগঠনগুলোকে পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রয়োজন, উদ্ভাবনী চিন্তা, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কমিউনিটি পর্যায়ে টেকসই পরিবর্তনের লক্ষ্য

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, চরাঞ্চল, হাওর এলাকা ও খরাপ্রবণ অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযোজনমূলক উদ্যোগগুলো খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাশয় সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করলে তা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও পরিবেশগত ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

যুব শক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান

ভিএসও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের কণ্ঠ, নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনকে সামনে নিয়ে আসাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করা যুব সংগঠনগুলোকে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি মনে করছে, জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের ভূমিকাই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী পরিবর্তনের চালিকাশক্তি।

আবেদন ও তথ্য জানার উপায়

আগ্রহী নিবন্ধিত যুব সংগঠনগুলো নির্ধারিত অনলাইন ফরমের মাধ্যমে প্রি-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবে। বিস্তারিত শর্তাবলি ও আবেদন নির্দেশিকা ‘টার্মস অব রেফারেন্স (ToR)’ থেকে জানা যাবে।

প্রি-রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://forms.gle/4eaNJ6TMQgoBWonw7

ToR লিংক: https://drive.google.com/file/d/1B5PlQBtbYZwI2_1tjbqNQX_cv1h36zLW/view?usp=drive_link

Manual5 Ad Code

প্রি-রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ: ৩ জুন ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্ব, স্বেচ্ছাসেবিতা এবং স্থানীয় উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে ‘ইউথ ক্লাইমেট গ্রান্ট ২০২৬’ কার্যক্রম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তরুণদের নেতৃত্বে টেকসই জলবায়ু কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ