ভ্রমণ হোক পরিবেশবান্ধব: নতুন সচেতনতা অভিযানে ইউএনডিপি

প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২৬

ভ্রমণ হোক পরিবেশবান্ধব: নতুন সচেতনতা অভিযানে ইউএনডিপি

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৬ জুন ২০২৬ : বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দায়িত্বশীল পর্যটনকে উৎসাহিত করতে বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘ভ্রমণ হোক পরিবেশবান্ধব’ শুরু করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ভ্রমণের সময় পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত বা দলগত উদ্যোগের গল্প তুলে ধরতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার জন্য।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, পর্যটন শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে বাড়ছে প্লাস্টিক বর্জ্য, পরিবেশ দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ। এই প্রেক্ষাপটে ভ্রমণকারীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলা এবং ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে সামনে আনার লক্ষ্যেই এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।

ক্যাম্পেইনের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের যেকোনো পর্যটন স্থানে পরিবেশ রক্ষায় নিজেদের কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও পাঠাতে পারবেন। হতে পারে কোনো সমুদ্রসৈকত, পাহাড়ি এলাকা, বনাঞ্চল, নদীতীর কিংবা ঐতিহাসিক স্থানে ভ্রমণের সময় আবর্জনা সংগ্রহ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের সচেতন করা অথবা প্রকৃতি সংরক্ষণে ছোট-বড় যেকোনো উদ্যোগ।

Manual1 Ad Code

আয়োজকদের মতে, এমন বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগ অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দায়িত্বশীল ভ্রমণের বার্তা

Manual2 Ad Code

পরিবেশবিদরা বলছেন, পর্যটন খাত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলেও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্লাস্টিক বোতল, প্যাকেটজাত খাবারের মোড়ক, একবার ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী এবং অন্যান্য বর্জ্যের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী বর্তমানে ‘রেসপনসিবল ট্রাভেল’ বা দায়িত্বশীল ভ্রমণের ধারণা গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ভ্রমণের সময় পরিবেশ, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

পরিবেশবাদী গবেষক, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের মতে, পর্যটকদের সামান্য সচেতনতা—যেমন নিজের বর্জ্য নিজে বহন করা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট না করা এবং স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণে অংশ নেওয়া—বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

সেরা অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি

ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সেরা পাঁচজন অংশগ্রহণকারীকে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বিশেষ সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তারা জনপ্রিয় ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরকে সোহান (RK Sohan) এবং রনি শরাফাত (Rony Sharafat)–এর সঙ্গে মতবিনিময় ও আড্ডায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

আয়োজকদের আশা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই রাখতে নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াবে।

পরিবেশ রক্ষায় নাগরিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং দূষণের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলো ছোট মনে হলেও সেগুলো সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই ক্যাম্পেইন সেই বার্তাই তুলে ধরছে—প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি তা সংরক্ষণে প্রত্যেক ভ্রমণকারীরও রয়েছে দায়িত্ব।

যেভাবে অংশ নেওয়া যাবে

পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের ছবি বা ভিডিও কনটেন্ট জমা দিতে আগ্রহীদের নির্ধারিত অনলাইন ফরম পূরণ করতে হবে। কনটেন্ট পাঠানোর ঠিকানা:

https://forms.gle/VyQ1za1kE2hUMmHA9

Manual3 Ad Code

আয়োজকদের আহ্বান, “প্রকৃতিকে ভালোবাসুন, দায়িত্বশীলভাবে ভ্রমণ করুন এবং আপনার ইতিবাচক উদ্যোগের গল্প ছড়িয়ে দিন অন্যদের মাঝে।”

Manual3 Ad Code

হ্যাশট্যাগ: #WorldEnvironmentDay #ResponsibleTravel #ভ্রমণ_হোক_পরিবেশবান্ধব #UNDPBangladesh

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ