প্রবাসে মানবতার দূত: সমাজসেবায় নিরলস এক আলোকবর্তিকা মোহিন আহমেদ চৌধুরী

প্রকাশিত: ১:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২৬

প্রবাসে মানবতার দূত: সমাজসেবায় নিরলস এক আলোকবর্তিকা মোহিন আহমেদ চৌধুরী

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৬ জুলাই ২০২৬ : দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের কর্মদক্ষতা, সততা ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। তাঁদেরই একজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবী মোহিন আহমেদ চৌধুরী।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রবাসে অবস্থান করলেও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার এবং সামাজিক উন্নয়নের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা তাঁকে একজন ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যস্থ সাউথ লন্ডন ফাউন্ডেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তি উদ্যোগ, সামাজিক সংগঠন এবং মানবিক কার্যক্রমের সমন্বয়ে তিনি প্রবাস ও দেশের মানুষের কল্যাণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিরবে মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা-মক্তবে সবসময় অনুদান দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে শিক্ষা, মানবসেবা, সামাজিক উন্নয়ন এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

পারিবারিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ

মোহিন আহমেদ চৌধুরীর জন্ম শ্রীমঙ্গল শহরের মিশন রোডের একটি সুশিক্ষিত ও মর্যাদাবান পরিবারে। তাঁর পিতা প্রয়াত উচমান ফারুক চৌধুরী জনতা ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। সততা, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধ ছিল তাঁর পিতার জীবনের মূলমন্ত্র। তাঁর মাতা একজন গৃহিণী হলেও সন্তানদের সুশিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

চার ভাইবোনের মধ্যে মোহিন আহমেদ চৌধুরী অন্যতম। বর্তমানে দুই ভাই ও একজন বোন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং অন্য এক বোন বাংলাদেশে হবিগঞ্জে স্বামীর সংসারে বসবাস করছেন। তার স্বামী হবিগঞ্জ শহরে একটি মার্কেটের মালিক ও স্বাস্থ্যসেবা খাত ক্লিনিকেরও মালিক। তাঁর বর্তমান স্থায়ী নিবাস মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল শহরের মিশন রোডে।

Manual8 Ad Code

শিক্ষাজীবনের উজ্জ্বল পথচলা

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন অধ্যবসায়ী ও মেধাবী। শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন এবং ১৯৯১ সালে স্নাতক (ডিগ্রি) পাস করেন।

শিক্ষাজীবনেই তিনি উপলব্ধি করেন যে ব্যক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নেও শিক্ষিত মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। এই উপলব্ধিই পরবর্তীতে তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি তৈরি করে।

প্রবাস জীবনের নতুন অধ্যায়

Manual2 Ad Code

২০০১ সালে তিনি উন্নত জীবন ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেকে যুক্ত করেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন দায়িত্বশীল সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

মোহিন আহমেদ চৌধুরীর তিন ছেলে। প্রথম ছেলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, দ্বিতীয় ছেলে ইকোনমিস্ট ; তারা উভয়ই লন্ডনের নামকরা ইউনিভার্সিটির থেকে প্রথম স্থান পেয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। তৃতীয় ছেলে কলেজে অধ্যানরত।

প্রবাসে থেকেও মোহিন আহমেদ চৌধুরী কখনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। বরং দেশের মানুষের সুখ-দুঃখ, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার সঙ্গে নিজেকে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তাঁর বিশ্বাস, দেশের বাইরে অবস্থান করেও দেশের জন্য কার্যকর অবদান রাখা সম্ভব—যদি আন্তরিকতা ও সৎ ইচ্ছা থাকে।

সাউথ লন্ডন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মানবসেবা

সাউথ লন্ডন ফাউন্ডেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষা সহায়তা, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সহযোগিতা, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি মানবিক মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন।

নাগরিক অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার

Manual2 Ad Code

শুধু প্রবাসেই নয়, নিজ জন্মভূমির উন্নয়নেও তিনি সমানভাবে নিবেদিত। সেই লক্ষ্য থেকেই তিনি উচ্চকন্ঠ শ্রীমঙ্গলের নাগরিক অধিকার নিয়ে।

নাগরিক অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। তিনি মনে করেন, একটি উন্নত ও আধুনিক শ্রীমঙ্গল গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

উন্নয়ন ভাবনায় পরিকল্পিত শ্রীমঙ্গল

মোহিন আহমেদ চৌধুরীর অন্যতম স্বপ্ন একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত শ্রীমঙ্গল গড়ে তোলা।

তিনি বিশ্বাস করেন, পর্যটননগরী হিসেবে শ্রীমঙ্গলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত নাগরিক সুবিধা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ সড়কব্যবস্থা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি।

তাঁর মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণই পারে একটি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে।

মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতা

মোহিন আহমেদ চৌধুরীর সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূল দর্শন হলো—মানুষের কল্যাণই সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব।

তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজে যারা আর্থিক, সামাজিক কিংবা চিকিৎসাগতভাবে পিছিয়ে রয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি সক্ষম মানুষের নৈতিক কর্তব্য। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁকে একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তরুণদের প্রতি আহ্বান

তরুণ সমাজকে তিনি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁর মতে, শিক্ষা, দক্ষতা, প্রযুক্তিজ্ঞান, সততা ও দেশপ্রেমকে ধারণ করে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে মাদক, দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে ইতিবাচক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি মনে করেন, প্রবাসী তরুণদেরও দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগ, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা শ্রমিক দলের উপদেষ্টা

বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অটো টেম্পু মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক

Manual5 Ad Code

১৯৯৩ সাল থেকে তিনবার শ্রীমঙ্গলে গঠিত অটো টেম্পু মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত এক প্রবাসী

প্রবাসে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা আজও অটুট। দেশের উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

মোহিন আহমেদ চৌধুরীর জীবন ও কর্ম প্রমাণ করে, ভৌগোলিক দূরত্ব কখনো দেশপ্রেমকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে না। বরং আন্তরিক ইচ্ছা, মানবিক দায়িত্ববোধ এবং ইতিবাচক নেতৃত্ব থাকলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করা সম্ভব।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় প্রবাসী সমাজের ইতিবাচক ভূমিকার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে মোহিন আহমেদ চৌধুরীর অবদান নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর মানবিক উদ্যোগ, সামাজিক নেতৃত্ব এবং উন্নয়নমুখী চিন্তাধারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ